First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

খাদ্যনালীর ক্যান্সার: লক্ষণ সাধারণ তবে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি, করণীয় কী?

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে শনাক্ত হওয়া সাধারণ ক্যান্সারগুলোর একটি হল খাদ্যনালীর ক্যান্সার বা ইসোফেগাল ক্যান্সার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে। বলা হচ্ছে, মোট রোগীদের প্রায় ১৪% খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভোগে।

খাদ্যনালীর ক্যান্সার কি?

খাদ্যনালী হলো মানুষের মুখ গহ্বর থেকে পাকস্থলীর সঙ্গে সংযোগকৃত ফাঁকা নল। খাদ্যকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেওয়াই এর কাজ। খাদ্যনালীর অভ্যন্তরে টিউমার বা প্রদাহ থেকে এই ক্যান্সার হতে পারে।

খাদ্যনালীর ক্যান্সার কে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. স্কোয়ামাস সেল

২. এসোফ্যাগাস ও কারসিনোকার্সিনোমা

৩. স্মল সেল আনডিফারেনশিয়েটেড ও কার্সিনোমা

৪. কারসিনাকোর্সিনোমো

তবে সবচেয়ে বেশি যে ধরনটি দেখা যায় তা হলে- স্কোয়ামাস সেল। ৯০% এর বেশি আক্রান্ত হয়। এটির স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় যে কারণে প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা গেলে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ২১ হাজার ৭৪৫ জনের মধ্যে খাদ্যনালীর ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার এবং নারী আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে সাত হাজারের কিছু বেশি।

খাদ্যনালী ক্যান্সারে চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
পুরুষদের মধ্যে আগে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকলেও এখন খাদ্যনালীর ক্যান্সার শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের পরেই খাদ্যনালী ক্যান্সারের অবস্থান।

এছাড়া এই ক্যান্সারে মৃত্যুহারও সবচেয়ে বেশি- প্রায় ১৪% এর মতো।

ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের ২০১৮ সালের গবেষণা অনুযায়ী খাদ্যনালী ক্যান্সারে আক্রান্তের হারে বাংলাদেশে এশিয়ায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রতিরোধে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

লক্ষণ, কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

খাদ্যনালির ক্যানসারে দীর্ঘদিন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে রোগটি থেমেও থাকে না। বরং যকৃৎ, পাকস্থলী, ফুসফুস, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত্র, অগ্ন্যাশয়সহ অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য কিছু উপসর্গ রয়েছে, তবে সেগুলো বেশ সাধারণ হওয়ায় অনেকের পক্ষেই বোঝা কঠিন যে এর কারণ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

এ ব্যাপারে কয়েকটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক সামিউল ইসলাম এবং ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

  • প্রাথমিক অবস্থায় শক্ত খাবার গিলতে অসুবিধা হবে। পরবর্তীতে তরল খাবার খেতে এমনকি ঢোক গিলতেও কষ্ট হতে পারে।
  • খাদ্যনালি থেকে বারবার খাবার মুখে উঠে আসা।
  • হজমে সমস্যা যেমন: বুক জ্বালাপোড়া, বার বার ঢেকুর তোলা, মুখে টক পানি আসা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি বার বার দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার স্বাভাবিক চিকিৎসা নেয়ার দুই সপ্তাহ পরেও রোগ ভালো না হলে।
  • ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে অনেকখানি ওজন কমে গেলে, খাবারে অরুচি।
  • দীর্ঘদিন ধরে কাশি। রাতের বেলা শ্বাসকষ্ট। গলা ও বুকের মাঝখানে ব্যথা, বিশেষ করে গিলতে গেলে।
  • গলার স্বর ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যাওয়া।
  • গলাব্যথা ও গলা দিয়ে রক্ত পড়া।
  • কথা বলতে কষ্ট হওয়া।
  • বমি বমি ভাব, অরুচি, ক্ষুধামান্দ্য, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা ও অবসাদ, ক্লান্তিবোধ। খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসা।
  • একটানা কোষ্টকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।

তবে এ লক্ষণগুলো সাধারণ হওয়াতে অনেকেই বুঝতে পারে না যে এটা ক্যান্সারের পর্যায়ে যেতে পারে।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব লক্ষণ থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। এগুলো সাধারণ উপসর্গও হতে পারে।

কী কারণে খাদ্যনালীর ক্যান্সার হতে পারে:

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের পেছনে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার বড় ধরণের সংযোগ আছে বলে জানান ডা. ইসলাম। তিনি এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে প্রধান কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন।

  • খাদ্যনালীতে ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখনো অজানা। এই রোগটি ডি এন এ তে পরিবর্তনের জন্য হয়ে থাকে যার ফলে অতিমাত্রায় কোষ বৃদ্ধি করে টিউমারের জন্ম দেয়।
  • জি ই আর ডি- এটি একটি হজমজনিত ব্যাধি যা তৈরিকৃত অ্যাসিড যকৃতকে ভাঙতে সাহায্য করে এবং খাদ্য প্রক্রিয়ায় সহায়তার সঙ্গে খাদ্যনালীতে ধাক্কা দিতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী জি ই আর ডি খাদ্যনালীতে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
  • কোন প্লাস্টিক, ক্যামিকেল, রাসায়নিকের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে এ ক্যান্সার হতে পারে।
  • কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভযুক্ত ভেজাল খাবার খাওয়া।
  • সব ঋতুতে সব সময় গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।
  • অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড, আধা-সেদ্ধ খাবার, পোড়া তেলে ভাজা খাবার খেলে।
  • পান, জর্দা, গুল, সিগারেট, বিড়ি এবং অতিরিক্ত মদপান করলে।
  • স্থূলতা
  • চুন ও জর্দা দিয়ে পান খাওয়া।
  • রাসায়নিক দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া।
  • অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা।
  • শাকসবজি ও ফলমূল কম খাওয়া।
  • ডিডিটি দিয়ে সংরক্ষণ করা শুঁটকি খাওয়া।
  • সাধারণত ৪০ বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে এই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ৭৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি কমে যায়।

ডা. ইসলাম বলেন, যে কেউ খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এর কারণ সবসময় পরিষ্কারভাবে বলা যায় না।

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর উপায়:

  • স্থূলতা বা ওজন বেশি হলে সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • গরম পানীয় পান করার আগে একটু ঠাণ্ডা হতে দিন, যাতে সেটি খাদ্যনালীর ক্ষতি না করে।
  • মদপান, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, পান, গুল ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলুন।
  • বাইরের ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর ভেজাল খাবার এড়িয়ে বাড়িতে বানানো স্বাস্থ্যকর খাবার বিশেষত শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • বৃহদান্ত্রে পলিপ থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।
  • বয়স ৪৫ বছর হওয়ার পর প্রতিবছর চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।

রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা:

খাদ্যনালীর ক্যান্সার আছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বলেন। সেগুলো হল:

* এন্ডোস্কপি

* বেরিয়াম মিল এক্স-রে

* সিটি স্ক্যান

* আল্ট্রাসনোগ্রাফিক এন্ডোস্কপি

* পেট সিটি স্ক্যান

এ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারটি থেকে প্রয়োজনীয় মাংস এনে তা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করে রোগটি নির্ণয় এবং এরই মধ্যে কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, সেটি নির্ণয় করা হয়।

এন্ডোস্কোপি ও বায়োপসি:

খাদ্যনালীর প্রাচীরে অস্বাভাবিকতা দেখতে, খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর যেকোনো সমস্যা কী অবস্থায় আছে, কোথায় সমস্যা সেটার বিষয়ে এন্ডোস্কোপি পরিষ্কার ধারণা দেয়।

এজন্য ভিতরে একটি ছোট ক্যামেরাসহ লম্বা, পাতলা, নমনীয় টিউব রোগীর মুখের মধ্যে দিয়ে খাদ্যনালী ও পাকস্থলী পর্যন্ত নেয়া হয় এবং ক্যামেরা দিয়ে ভেতরের অবস্থা দেখা হয়।

এই পরীক্ষায় তেমন কোন কষ্ট হওয়ার কথা না। তবে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। অনেক চিকিৎসক গলায় অসাড় করার জন্য অ্যানেস্থেটিক বা অবশ করার স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন।

আবার অনেকে জেনারেল অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন।

ক্যান্সার বলে সন্দেহ হলে বিশেষজ্ঞ এই প্রক্রিয়া চলাকালীন কোষের একটি ছোট নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন। পরে এই কোষগুলোয় ক্যান্সারের উপস্থিতি আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। একে বায়োপসি বলা হয়।

এন্ডোস্কোপি-

বেরিয়াম এক্স-রে:

অনেক চিকিৎসক এই এক্স রে করাতে বলতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা রোগীকে পানীয় পান করিয়ে এই এক্সরে করে থাকেন।

এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা বেরিয়ামের আবরণ থেকে খাদ্যনালীর প্রাচীর পর্যন্ত পরিষ্কার চিত্র পান।

তবে এই এক্স-রে খাদ্যনালীর প্রাচীরের কতোটা স্পষ্ট ছবি দেবে সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।

এছাড়া রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসকরা বুকের সিটি স্ক্যান, পেটের পিইটি স্ক্যান,গ্যাস্ট্রোস্কোপি, আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, এন্ডোস্কপিক আল্ট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট যাচাই করে চিকিৎসকরা রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বুঝে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

চিকিৎসা:

যদি আপনাকে বলা হয় আপনার খাদ্যনালীর ক্যান্সার আছে, এমন অবস্থায় উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

এক্ষেত্রে আপনার আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

মূলত এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পুনরায় দেখা হয় এই ক্যান্সারের আকার কতো বড় এবং এটি কতদূর ছড়িয়েছে অর্থাৎ ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে। এজন্য ল্যাপ্রোস্কোপি করাও হতে পারে।

খাদ্যনালীর ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য। কিন্তু এর চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা জটিল, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর চিকিৎসা কেমন হবে সেটা নির্ভর করবে ক্যান্সার খাদ্যনালীতে কোথায় আছে, কতোটা জায়গা জুড়ে আছে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের আকার এবং ধরন, ক্যান্সার কোষ বা টিউমারের অবস্থান, এটি কোন পর্যায়ে আছে, কতোটা ছড়িয়েছে, রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং বড় কোন অপারেশনের জন্য রোগী প্রস্তুত কিনা, তার ওপর।

খাদ্যনালীর এই ক্যান্সার দুই ধরনের হয়ে থাকে।

এডিনো কার্সিনোমা খাদ্যনালীর নিচের অংশে পেট এবং পাকস্থলীর কাছে দেখা যায়।

অন্যদিকে স্কোয়ামস সেল কার্সিনোমা সাধারণত খাদ্যনালীর মাঝারি এবং উপরের অংশে ঘটে। এই ক্যান্সার সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা অপেক্ষাকৃত সহজ বলে জানিয়েছেন ডা. ইসলাম

সার্জারি:

খাদ্যনালী ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সার্জারি বা অস্ত্রোপচার সবচেয়ে বড় সমাধান। সেইসাথে কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপিও দেয়া হতে পারে।

যদি খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে এবং খুব বেশি ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে এটি সার্জারি করে ক্যান্সারের অংশ ফেলে দেয়া হয়। এরপর বিকল্প খাদ্যনালী জোড়া দেয়া হয়।

খাদ্যনালীর বিকল্প হিসেবে পাকস্থলী না হলে পরিপাকতন্ত্রের অঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এজন্য প্রথম অপারেশনটি হয় পেটে, এরপরেটা হয় বুকে।

ক্যান্সার বেশি ছড়িয়ে পড়লে খাদ্যনালীর আশেপাশের অন্যান্য অঙ্গের কিছু অংশ যেমন পাকস্থলীর ওপরের কিছু অংশ কেটে ফেলতে হতে পারে।

এই চিকিৎসা বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও বাংলাদেশের এই চিকিৎসা দেয়ার যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন ডা. ইসলাম।

তবে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্তের বিষয়টিকে। যদি ক্যান্সার খাদ্যনালী ছাড়াও পাকস্থলী, অন্ত্র বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে রোগীর জীবন সংকটে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

কেমোথেরাপি-
কেমোথেরাপি:

রোগীর খাদ্যনালীর ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলার জন্য কেমোথেরাপি চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের আগে কেমোথেরাপি নিলে ক্যান্সারের পরিসর কমে আসে। আবার অস্ত্রোপচারের পরে কেমোথেরাপি নিলে যে কোনও অবশিষ্ট ক্যান্সার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি রোধ করা যায় বলে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জানিয়েছে।

এই কেমোথেরাপি আগে নেয়া হবে নাকি পরে সেটা চিকিৎসকরাই নির্ধারণ করে থাকেন।

কিন্তু রোগী যদি সার্জারির জন্য প্রস্তুত না থাকেন, সক্ষম না হন তাহলে রেডিওথেরাপি বা কেমোরেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সার কোষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

অনেকে আবার স্টেন্টিং এর মাধ্যমে খাদ্যনালী সচল করে থাকেন।

রেডিওথেরাপি:

ক্যান্সার কোষ মারার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রশ্মি বা রেডিওথেরাপির বিকিরণের ব্যবহার করা হয়।

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের জন্য রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে।

এটি ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি পাওয়া রোধেও সাহায্য করে।

যদি খাদ্যনালীর ক্যান্সার অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এসব চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময় করা খুব কঠিন হতে পারে। এমনকি সম্ভব নাও হতে পারে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসার লক্ষ্য থাকে ক্যান্সার এবং এর উপসর্গগুলোকে যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং দীর্ঘকাল বাঁচতে সহায়তা করা।

ফটোডায়নামিক থেরাপি:

হালকা সংবেদনশীল ওষুধের সাথে স্বল্প শক্তিযুক্ত লেজার ক্যান্সার কোষগুলি মেরে ফেলার জন্য এই থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়।

সময় মতো চিকিৎসা না করালে এই ক্যান্সার পাকস্থলী ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই কোন লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

তথ্যসূত্র:

  • প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক সামিউল ইসলাম এবং ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, বিবিসি বাংলা।
  • অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াররফ হোসেন, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সাবেক পরিচালক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা, প্রথম আলো।
  • ডা. সেতাবুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজি ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার, ধানমন্ডি, ঢাকা, জনকন্ঠ।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.