মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায় করণীয় ও বর্জনীয়
মুখ ও দাঁতের যত্নের সাথে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক:
কমবেশি অনেকেরই দাঁতের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তারপরও সময় মতো দাঁতের যত্ন নেন না। তখন সমস্যা মারাত্মক আকার ধারন করে। গবেষকরা বলছেন, মুখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও যোগ আছে। তাদের মতে, মাড়ির অসুখ এবং দাঁত পড়ে যাওয়ার সঙ্গে স্ট্রোকের যোগাযোগ আছে| জার্নাল অফ ইন্ডিয়ান পেরিডেন্টোলজি-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, যাদের মুখের স্বাস্থ্য ভালো নয়‚ তাদের হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত অসুখ হওয়ার সম্ভবনা ২০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের রুটগরস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, মুখের স্বাস্থ্য খারাপ হলে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা বা মনে রাখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এছাড়া মানসিক অবসাদে ভুগলে মুখের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে। এ কারণে নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া জরুরি।
দাঁতের সুরক্ষায় বর্জনীয় বিষয়:
অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের বদ-অভ্যাস রয়েছে যার কারণে দাঁত ও মুখের ক্ষতি হয়। এ ধরনের বদ-অভ্যাস অবশ্যই বর্জন করতে হবে। দাঁতের সুরক্ষায় যা কিছু করণীয় এবং বর্জনীয় তা সবার জানা প্রয়োজন।
দাঁত দিয়ে দাঁত ঘষা বা দাঁত কামড়ানো ব্র“কসিজম নামে পরিচিত। যারা দাঁত কামড়ানোজনিত সমস্যায় আক্রান্ত তারা সাধারণত রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে দাঁত কামড়ায়। দাঁত কামড়ানোর লক্ষণগুলো হলো চোয়ালে ব্যথা, কানে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং দাঁত ফেটে যাওয়া বা দাঁতে ফাটল ধরা। দাঁত কামড়ানোর পুরোপুরি কারণ জানা যায়নি। তবে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, নাক ডাকা অন্যতম। এ ছাড়া ক্যাফেইন, এলকোহল এবং নিকোটিনের ব্যবহার দাঁত কামড়ানোতে ভূমিকা রাখে। দাঁত কামড়ানোর জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাউথ গার্ড ব্যবহার কার্যকর। কখনো কখনো মাউথ স্পিন্ট ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে দাঁত কামড়ানোর হাত থেকে দাঁত ও মুখের অন্যান্য অংশকে রক্ষা করার জন্য।
![]() |
| দাঁত থাকতেই দাঁতের মর্যাদা দিতে শিখুন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা যদি না বোঝা যায় তাহলে পরে পস্তানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। |
-> স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করুন। মনে রাখবেন দাঁতে আঠার মতো আটকে থাকে, এমন সব খাবার সহজে দাঁতের ক্ষতি করে। কাজেই চকলেট, চুইংগাম, বিস্কুট, ফাস্টফুড, মিষ্টি, কোমল পানীয়—যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত টকজাতীয় খাবার, যেমন লেবু, তেঁতুল, দাঁতের সংস্পর্শে যত কম রাখা যায়, ততই ভালো।
-> ধূমপান, জর্দা, পান-সুপারি, তামাক ও গুল স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
-> বরফ চোষা অথবা কামড়ানো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে করে দাঁতের এনামেলে ছোট ক্র্যাক বা ফাটল দেখা দিতে পারে যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় আকার ধারণ করে এবং সবশেষে দাঁতে ফ্র্যাকচার দেখা যায়।
-> ঘুমানোর সময় বোতল মুখে রেখে ঘুমানো শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। দুধ-দাঁত অস্থায়ী হলেও সেগুলো পুষ্টির জন্য এবং ভবিষ্যৎ স্থায়ী দাঁতের পথ প্রস্তুত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় বোতল দিয়ে দুধ খাওয়ালে দাঁতে ক্ষয় হতে পারে। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর গজ বা পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে দাঁত এবং মাড়ি পরিষ্কার করে দিতে হবে। আর অন্য একটি বোতলে একটু পানি নিয়ে খাওয়াতে হবে। তাহলে মুখের অভ্যন্তর ভাগ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
-> কাশির জন্য যে সিরাপ সেবন করা হয় সেখানে যদি চিনি মিশ্রিত থাকে তাহলে তা দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি করবে। তাই কাশির সিরাপ সেবন করতে হলে চিনিমুক্ত সিরাপ সেবন করাই শ্রেয়। যদি চকোলেট, ললিপপ, আঠালো ক্যান্ডি খেতে পছন্দ করেন তাহলে এগুলো খাওয়ার সময় দাঁতের সঙ্গে লেগে থাকে। এর ফলে বিদ্যমান চিনি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বংশ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দাঁতের ক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে হলে চকোলেট, ক্যান্ডি পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে চিনিবিহীন বা সুগারলেস চুইংগাম চোষা যেতে পারে।
-> সোডা পান দাঁত ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটি উচ্চমাত্রায় চিনির একটি উৎস। চিনিযুক্ত সোডা দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি করে থাকে। আর সোডা যদি একান্তই খেতে হয় তাহলে পাইপ (Straw) দিয়ে পান করলে দাঁতে লাগলেও খুব সামান্য পরিমাণে লাগে। সোডা পান করার পর পানি দিয়ে কুলি করলে দাঁতে লেগে থাকা চিনি অপসারিত হয়। সোডা পান করার ৩০ মিনিট পর দাঁত ব্রাশ করবেন।
-> সোডার মতো স্পোর্টস ড্রিংকে রয়েছে চিনি এবং এসিড যা দাঁতের ক্ষয় করতে পারে। স্পোর্টস ড্রিংক পান করার ২০ মিনিট পর্যন্ত তা দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।
-> কিছু ফলের রসে সুগারের পরিমাণ, সোডায় বিদ্যমান সুগারের মতো। উচ্চ চিনিযুক্ত ফলের (Juce) রস দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে থাকে। সাইট্রাস জুস যেমন অরেঞ্জ জুস এবং লেমনয়েড এসিডিক হওয়ায় দাঁতের এনামেলের ক্ষয় করতে পারে। ফলে বিদ্যমান চিনি, এসিড এবং ক্যালরি সব সময় শরীর ও দাঁতের জন্য ভালো নয়। স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে ফলের রস পান করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।
-> কাঠপেন্সিল, কলম, ইরেজার, বোতলের মুখ এবং অন্যান্য বস্তু কামড়ানো বা চোষার বদ-অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। দাঁতের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। এর ফলে দাঁতে ফাটল বা ফ্র্যাকচার দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া মুখে প্রবেশ করতে পারে। এ ধরনের বদ-অভ্যাসের কারণে মাড়ি এবং নরম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
-> ধূমপান দাঁত ও মুখের কোষ এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপানের ফলে শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয় যার ফলে প্ল্যাক গঠন অধিকতর সহজ হয়। ধূমপান মাড়ি রোগের রিস্ক ফ্যাক্টর। মাড়ি রোগ থেকে পেরিওডন্টাইটিসের কারণে বয়স্কদের দাঁত পড়ে যেতে পারে। ধূমপানের ফলে দাঁতে দাগ পড়তে পারে এবং দাঁতে ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ধূমপানের ফলে মুখ এবং ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। তাই ধূমপানের বদ-অভ্যাস বর্জন করতে হবে।
-> অনেকে সকালে নাশতার পর কফি দিয়ে দিন শুরু করে। কিন্তু কফি পানের মাধ্যমে শুষ্ক মুখ এবং দন্তক্ষয়ের সৃষ্টি হয়। কফি দাঁতে দাগ সৃষ্টি করে এবং লালা নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। লালা এসিডকে নিরপেক্ষ করে। তা ছাড়া দাঁতে জমে থাকা খাদ্যকণা অপসারণে সাহায্য করে। চিনি মিশ্রিত কফির মাধ্যমেও দাঁতে ক্ষয় হতে পারে। তাই কফি পান করার পর পানি দিয়ে কুলি করবেন।
-> লাল ওয়াইনের তিনটি উপাদান ক্রমোজেনস, এসিড এবং ট্যানিন দাঁতের এনামেলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে থাকে। ক্রমোজেনস লাল ওয়াইনকে গাঢ় লাল রং দিয়ে থাকে। এসিড দাঁতের এনামেলের ক্ষয় করে থাকে। ট্যানিন মুখ শুষ্ক করে। ফলে লাল পিগমেন্ট বাইন্ডিং হতে থাকে। সাদা ওয়াইনও দাঁতের ক্ষয় করে থাকে। সাদা ওয়াইনেও ট্যানিন ও এসিড রয়েছে। তাই এলকোহলের বদ-অভ্যাস অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে। মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায় সব ধরনের খারাপ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। জীবনযাপন স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। খাবার গ্রহণে সচেতন হতে হবে এবং সর্বোপরি দাঁতের যত্ন নিতে হবে। তাহলে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
দাঁত সুরক্ষায় করনীয় বিষয়:
-> সঠিকভাবে, সময় মত, কুলি এবং মেসওয়াক/ব্রাশ করুন;
- দিনে/রাতে অন্তত পাঁচবার নামাজের ওযু করার আগে (জয়তুন, নিম, আম, ইত্যাদি গাছের ডাল দিয়ে) মিসওয়াক/ব্রাশ করাটা অত্যন্ত জরুরি।
- খাওয়ার পর ভালো করে কুলিকুচি করে মুখ ধুয়ে নিন এবং সারাদিনে অন্তত ৩ থেকে ৪বার হাল্কা গরম পানি ও লবণ দিয়ে কুলিকুচি করুন।
- সকালবেলা নাস্তার পরে এবং রাতে শোওয়ার আগে ব্রাশ করাটা জরুরি, এরপর শুধুই পানি ছাড়া কিছু খাওয়াটা ঠিক নয়। অন্য কিছু খাইলেও আবার ব্রাশ করতে হবে।
- সবসময় উন্নতমানের টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। সস্তার ১০-১৫ টাকা দামের ব্রাশ কিনে ভাবছেন টাকা বাঁচিয়ে ফেললেন! কিন্তু দাঁতের ক্ষতির কারণে যে আপনাকে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হবে সে কথা কি ভেবেছেন? এই ব্রাশগুলোর ব্রিসল অনেক শক্ত হয়ে থাকে যা দাঁতের উপরের এনামেলের ক্ষতি করে। তাই দাম দিয়ে হলেও একটু নামী ব্র্যান্ডের ভাল নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করুন ।
- ব্রাশ করার সময় দাঁতের উপর খুব বেশি চাপ দেবেন না। অনেকে মনে করে জোরে জোরে চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে তবেই দাঁতের ময়লা দ্রুত পরিষ্কার হবে । আর এতেই ক্ষতিটা হয় বেশি। খুব বেশি জোরে চাপ দিয়ে ব্রাশ করতে গেলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- অতিরিক্ত সচেতন মানুষ দাঁতের সুরক্ষায় খাওয়ার পর পরই দাঁত ব্রাশ করে ফেলেন যা উল্টো দাঁতের ক্ষতিই করে বেশি। খাওয়ার পর পরই বিশেষ করে অ্যাসিডিক খাবার ও ফলমূল খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। খাওয়ার পরপর কুলকুচি করে, খাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ১ ঘণ্টা পর দাঁত ব্রাশ করাটাই সঠিক পদ্ধতি।
- অনেকেরই ধারণা অনেকটা সময় ধরে ব্রাশ করলে ভাল করে দাঁত পরিষ্কার হবেই কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা। প্রতিটা জিনিসেরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ২ মিনিটের বেশি দাঁত ব্রাশ করা দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ।
- দাঁতের সৌন্দর্যের জন্য ৪৫ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেল করে ব্রাশ করুন। মুখের ভিতরের সবকোনায় ব্রাশ পৌঁছান। ব্রাশকে (উপরে নিচে) উল্লম্বভাবে ব্যবহার করুন। ডানে বামে বা সোজাসুজি ভাবে ব্রাশ করলে আপনার দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাদ্যের ছোট ছোট কণা আরও বেশি করে জমে গিয়ে আপনাকে বিপাকে ফেলতে পারে। সুতরাং দাঁতের আয়ু বাড়াতে সতর্ক হয়ে ব্রাশ করুন সঠিক পদ্ধতি মেনেই।
-> দাঁত ভালো রাখতে ধূমপান কিংবা অ্যালকোহল পান থেকে দূরে থাকুন। চকলেট, চুইংগাম, বিস্কুট, ড্রাই ফ্রুটস, ফাস্টফুড, মিষ্টি, আলুর চিপস, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়—যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত টকজাতীয় খাবার, যেমন লেবু, তেঁতুল দাঁতের সংস্পর্শে যত কম রাখা যায়, ততই ভালো।
-> চা, কফি, মিষ্টি বা টক জাতীয় ফলের রস, জুস আকারে Straw দিয়ে খাইলে তা দাঁতের সংস্পর্শে কম আসে বিধায় দাঁতের ক্ষতি কম হয়। তবে সেই Straw যদি প্লাস্টিকের পাইপ হয় তাহলে সেটার আবার আলাদা ক্ষতিকারক দিক রয়েছে।
-> বছরে অন্তত দুবার একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন এবং আপনার দাঁতের চেকআপ করান। এতে দাঁতের ক্যারিজ ও মাড়ির রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
-> শিশুদের টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকে খেয়াল রাখতে হবে। টুথপেষ্টের ধরন হবে—শূন্য থেকে ৫ বছরের শিশুদের মধ্যে ফ্লোরাইডমুক্ত পেস্ট ও ৫–১২ বছরের মধ্যে ৫০০ পিপিএম ফ্লোরাইড থাকতে হবে। ১২ বছর থেকে থকে ১০০০ পিপিএম ফ্লোরাইড থাকা দরকার।
-> মাউথ গার্ড ব্যবহার করুন। সব ধরনের খেলাধুলাতে ইনজুরি বা আঘাত অথবা ডেন্টাল ইনজুরির ঝুঁকি থাকে। স্পোর্টস মাউথ গার্ড ব্যবহার কমন ডেন্টাল ইনজুরির ঝুঁকি কমায়।
-> দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় নিম্নের খাদ্যগুলো খেতে পারেন;
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম সুস্থ রাখবে আপনার দাঁত। যেসব খাবার দাঁতে ক্যাভিটি তৈরি করে, সেসব একেবারে ছেড়ে দিতে না পারলেও কম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
- পানি: সুস্থ দাঁতের নিশ্চয়তায় সবচেয়ে শীর্ষে থাকবে পানি। বেশি বেশি পানি পান করলে আপনার মুখের ভেতর জমে থাকা খাবার যেমন দূর হবে, তেমনি ব্যাকটেরিয়াও বংশসমেত নির্মূল হয়ে যাবে।
- চিনিবিহীন খাদ্য ও পানীয়: চিনি জাতীয় খাদ্য ও পানীয় দাঁতের চিরশত্রু। সফট ড্রিংক্স, মিষ্টি যতটা পরিহার করা যায় ততই ভাল।
- চিনিমুক্ত চিউইংগাম: চিউংগাম চাবালে মুখের ভেতর বেশি বেশি লালা বা স্যালিভা নিসৃত হয়। স্যালিভা মুখের ভেতরকার এসিডকে ধ্বংস করে আর দাঁতের এনামেল রক্ষায় প্রহরীর মত কাজ করে।
- টক জাতীয় ফল: কমলা, আনারস, জাম্বুরা এধরণের ফল এসিডিক হলেও এসব ফল আপনার লালা নিঃসরণ বাড়িয়ে দিবে। ফলে ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদিত এসিড ধুয়ে যাবে আর দাঁতের এনামেল থাকবে অক্ষত। তবে বিশেষ করে টক ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে কুলিকুচি করবেন এবং আধাঘন্টা পর ব্রাস করে নিবেন।
- দুধ, টকদই, পনির: দুধ, টকদই ও পনির দাঁতের এনামেল রক্ষায় প্রোটিন, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম সরবরাহের পাশাপাশি দাঁত রক্ষাকারী খনিজ পদার্থকে আরও সমৃদ্ধ করে।
- মাছ: মাড়িতে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হলে তা দাঁত ও মাড়ির সংযোগকারী টিস্যুকে আক্রমণ করে। এ কারণে এমন খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ যা মাড়িকে রাখবে সুস্থ। আর মাছ এমনই এক খাবার। মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আপনার দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়াও মাছ থেকে প্রাপ্ত ফসফরাস আপনার দাঁতের এনামেলকে আরো শক্তিশালী করবে।
- ফল ও সবজি: তাজা সবজি ও ফলমূল চিবিয়ে খেলে মুখের ভেতর জমে থাকা চিনি দূর হয়ে যাবে। সবজির আঁশ দাঁতকে রাখবে পরিষ্কার, আর মাড়িকে রাখবে সুস্থ।
- ডিম ও চর্বিবিহীন মাংস: ডিম ও চর্বিবিহীন মাংস ফসফরাস ও প্রোটিনের আধার, যা দাঁতকে করবে ঝকঝকে সাদা।
- চকোলেট: এত ধরাবাঁধা খাবারের ভীরে এবার চকোলেট প্রেমীদের জন্য সুসংবাদ। চকোলেটের অপরিহার্য উপাদান কোকোয়া দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মিল্ক চকোলেটের চিনি আপনার দাঁতের বন্ধু না হয়ে শত্রু হয়ে যেতে পারে। তাই মিল্ক চকোলেট ছেড়ে (নিম্নে সত্তর পার্সেন্টের উপরে কোকোয়া সমৃদ্ধ চিনি ছাড়া) ডার্ক চকোলেটকে খাদ্যতালিকায় স্থান দিন।
- শস্য দানা: ভুট্টা, গম, শিমের বিচি এ ধরণের খাবার ম্যাগনেশিয়াম সরবরাহ করে দাঁতের এনামেলকে সুরক্ষিত রাখে, আর চোয়ালকে করে শক্তিশালী।
- এছাড়াও পনির, লবঙ্গ, কমলার জুস, আপেল, কাঁচা পেঁয়াজ, দারুচিনি, ব্রকলি, গাজর, ইত্যাদি দাঁত মুখের সুস্থতা বজায় রাখতে দারুন ভাবে কার্যকর।
মুখ ও দাঁতের সুরক্ষায় বদ্যি বাড়ির ভিডিওটি দেখুন...
দাঁত মানুষের দেহের গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ। বর্তমানে আমাদের দেশে দাঁত সুরক্ষার জন্য বেশ আধুনিক চিকিৎসা চালু হয়েছে। এখন দাঁতের সুরক্ষায় করণীয় বর্জনীয় নিয়ে, ভিডিও এবং প্রশ্ন উত্তর পর্বে আলোচনা করা হলো;
প্রশ্ন : দাঁতের চিকিৎসা এখন আমাদের দেশে অত্যন্ত আধুনিক। বিশ্বে যে ধরনের আধুনিক দাঁতের চিকিৎসা রয়েছে, তার সবই বাংলাদেশে আছে। আপনার দৃষ্টিতে দাঁতের সুরক্ষার জন্য আধুনিক চিকিৎসা মানে কী?
উত্তর : মুখ হচ্ছে একটা মাত্র প্রবেশদ্বার শরীরের ভেতরে যাওয়ার। এত বড় প্রবেশ দ্বার আর নেই। সে জন্য এটা যদি ঠিক না থাকে ভেতরের জিনিসগুলো কীভাবে ঠিক থাকবে? তাই দাঁতের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি যদি ঠিক রাখি, সব ঠিক থাকবে। এখন মুখের পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখার বিষয়টি কী? আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয়, ছয় মাস পরপর সম্পূর্ণ চেকআপ করা। তার মুখের কোথায় কী সমস্যা আছে সেটি দেখা। এখন চেকআপ করার পর দেখা যায় তার ক্ষয়, গর্ত আছে। এই দাঁতটা যাতে ফেলে না দিতে হয়, এর আধুনিক চিকিৎসা বের হয়ে গেছে অনেক ধরনের।
প্রশ্ন : কী ধরনের?
উত্তর : এখন যদি একটা লোকের সাধারণ গর্ত হয়, তখন ফিলিং করে বন্ধ করে দিতে পারি, তাহলে এটা এরপর আর ক্ষতি হবে না। যদি ক্ষতি হয়েই যায় তাহলে দাঁত ফেলতে হবে না। কারণ আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। রুট ক্যানেল করে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করে সেই দাঁতটাকে মমি করে অনেক দিন পর্যন্ত রাখা যায়।
তিনটি লেয়ার রয়েছে দাঁতের। প্রথম লেয়ার, দ্বিতীয় লেয়ার এবং তৃতীয় লেয়ার। এরপরে যদি সমস্যা হয়, তখন আর সাধারণ ফিলিং দেওয়া সম্ভব হয় না। রোগী আর থাকতে পারে না। প্রচণ্ড ব্যথা হয়। আগেকার দিনে চিকিৎসা ছিল ফেলে দেওয়া। আধুনিক চিকিৎসা হলো দাঁতটা রাখা। এখন আর দাঁতটা ফেলতে হয় না। তাকে রুট ক্যানেল করলে হয়। রুট ক্যানেল করার পর সেখানে আমরা একটি ক্যাপ লাগিয়ে দিই। এই দাঁতটি দিয়ে সে সারা জীবন স্বাভাবিক দাঁতের মতো থাকতে পারে।
প্রশ্ন : ফিলিং করে দাঁত রক্ষা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম ফিলিং আছে। কোনোটা কালো, মেটালিক, মার্কারি বেইজ। এই রকম ভেদ কেন এবং এর মধ্যে ভালো কোনটা?
উত্তর : যখন কোনো ধরনের ফিলিং ম্যাটেরিয়াল ছিল না তখন মেটাল জাতীয় ফিলিং মেটেরিয়ালগুলো ব্যবহার করা হতো। এলয় এবং মার্কারি এর সমন্বয়ে একটি জিনিস তৈরি করা হয় সেটাকে মেটাল ফিলিং বলে। কিন্তু মার্কারি হলো ক্ষতিকর এবং কারসিনোজেনর রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে এই জিনিসগুলো ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে অনেক ধরনের জিনিস বের হয়েছে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে দাঁতের রঙে ফিলিং করা যায়। পাশাপাশি এর শক্তি অনেক বেশি হয়। কেউ যদি মনে করে এটা কি চিরস্থায়ী ফিলিং? আসলে চিরস্থায়ী বলে তো পৃথিবীতে কিছু নেই। কারণ প্রতিটি ফিলিংই পাঁচ বছর পরপর চেকআপ করে পরিবর্তন করা উচিত। এই কম্পোজিট ফিলিংগুলো অনেকদিন থাকে, তবে পরির্বতন করতে হয়। দাঁতটা বেঁচে যায় তবে ফিলিং ম্যাটেরিয়ালগুলো ক্ষয় হবে।
প্রশ্ন : অনেকে মনে করে ম্যাটালিক ফিলিং শক্ত বেশি। মাড়ির দাঁতের জন্য তাই কসমেটিক ফিলিং হবে কি না?
উত্তর : আমরা মাড়ির দাঁতে এই ফিলিং অহরহ করছি। কোনো সমস্যা নেই।
প্রশ্ন : এই ফিলিং করার জন্য যে আল্ট্রাভায়োলেট-রে দেওয়া হয়। এই রে যে মাত্রায় দেওয়া হয় সেটা ক্ষতিকর কি না?
উত্তর : না, একদমই কোনো ক্ষতি করে না। এখানে যতটুকু রে ব্যবহার করা হয়, সেটা তেমন ক্ষতিকর নয়। যে চিকিৎসক করছেন তাঁর কি ক্ষতি হচ্ছে না? আসলে জিনিসটি এত স্বল্প মাত্রায় এতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
প্রশ্ন: আধুনিক চিকিৎসা বলতে এখন একটি শব্দ জড়িয়ে গেছে সেটা হলো লেজার চিকিৎসা। মুখের বা দাঁতের আধুনিক চিকিৎসায় লেজারের ভূমিকা কী?
উত্তর : অনেকের দেখা যায় গাম বা মাড়ির রং বিভিন্ন হয়। এই রং প্রাকৃতিক করার জন্য লেজারের কিছু ভূমিকা রয়েছে।
প্রশ্ন : আর দাঁতের সমস্যায়?
উত্তর : আসলে দাঁতের সমস্যায় সার্জারির কিছু ভূমিকা রয়েছে। দাঁতের সমস্যায় এখনো রুট ক্যানেল, সার্জারি করা হয়। আসলে আমাদের দেশে দাঁতের সমস্যায় এখনো তেমন লেজারের ব্যবহার নাই। আমাদের দেশে যদি লেজার ব্যবহার করতে যাই, আসলে এগুলো এত দামি যে সব দন্ত্যচিকিৎসকের ক্ষেত্রে করা সম্ভব নয়। একটা রুট ক্যানেল করতে বাইরের দেশে এক হাজার ২০০ ডলার নিচ্ছে। আমরা তো সেটা নিতে পারি না। আমরা এখন অনেক আধুনিক মেশিন ব্যবহার করছি। যেমন ডিজিটাল এক্সরে মেশিন রয়েছে। তবে সব দন্ত্যচিকিৎসক লেজার ব্যবহার করতে পারবেন না। আর রংটা দূর হয় ঠিকই তবে কিছুদিন পর আবার আগের রং ফিরে আসে। আমরা ব্লিচিং করি। ব্লিচিং থাকে কিছুদিন। তবে একপর্যায়ে স্পর্শকাতর হয়ে যায়। আমি সাধারণত কম উৎসাহী করি, বলি খুব বাধ্য না হলে করো না।
প্রশ্ন : একটা সময় ছিল দাঁতে ব্যথা হলে, দাঁত ভেঙে গেলে, ক্রাউনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা ফেলে দেওয়া হতো। দাঁত ফেলে দেওয়ার অনেক ক্ষতি রয়েছে। মানুষ সচেতন, এটা বোঝেন। এই দাঁতটা রাখতে হলে রুট ক্যানেল এবং ক্যাপ করেন আপনারা। এই বিষয়টি কী?
উত্তর : আসলে দাঁতকে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে যে মমি করা হয়, ভেতরের যে নার্ভগুলো সেগুলো যদি দিনকে দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় তখন এটা করতে হয়। এক একটা দাঁতে এক একটা নার্ভের ঘর থাকে। পাল্প থাকে। আমরা সেগুলোকে বের করি। এরপর সম্পূর্ণ পরিষ্কার করি। এরপর এর ভেতরে কৃত্রিম ফিলার দিয়ে দিই। আমি সাধারণত দাঁত ফেলি না। এর উপরে একটা কভার লাগিয়ে দিই। এই দাঁত দিয়ে সে সব করে।
প্রশ্ন : অনেকে প্রশ্ন করে রুট ক্যানেলে আপনি নার্ভ ফেলে দিচ্ছেন, রক্তনালি ফেলে দিচ্ছেন, দাঁতটা তো মরে যাবে। এর ওপর একটি কাভার বসিয়ে দেবেন। এই দাঁত দিয়ে খেয়ে কি আমি স্বাদ পাব?
উত্তর: কোনো সময় কেউ কি খেয়াল করেছে আমি নির্দিষ্ট দাঁত দিয়ে খেয়ে আরাম পাচ্ছি, স্বাদ পাচ্ছি। স্বাদ প্রকাশ পায় জিহ্বে। দাঁত কেবল চাবায়। আসলে দাঁতের কাজ চিবিয়ে খাওয়া। এটা তখন হয়। আর পাল্প ফেলে দিলে পুরোপুরি মরে যাওয়ার যে ধারণা, সেটা আসলে হয় না। দাঁতের সঙ্গে হাড়ের সম্পর্ক থাকছে। রুট ক্যানেল করলে সে আরো শক্ত হয়ে যায় হাঁড়ের সঙ্গে। আর সে ভাঙতে চায় না।
প্রশ্ন: স্কেলিং কেন জরুরি?
উত্তর: দাঁতের নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করতে বছরে একবার হলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো। দাঁতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারের জন্য ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে স্কেলিং করানো জরুরি। দাঁতের ওপর পাথরের স্তর জমতে দেওয়া যাবে না। এতে দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসবে। মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হবে, জানালেন শমরিতা মেডিকেল কলেজের সাবেক চিকিৎসক ও প্রভাষক নাজমুল ইসলাম। রাতে খাওয়া শেষে দাঁত ব্রাশের পর অবশ্যই মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পর পানি ছাড়া আর কিছুই খাওয়া যাবে না। আধঘণ্টার মধ্যে পানিও খাওয়া ঠিক নয়।
প্রশ্ন: শিশুদের দাঁতের যত্ন কিভাবে নিব?
উত্তর: দাঁতের সমস্যা আমাদের দেশের শিশুদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। শিশুদের দাঁতের যত্ন নিতে হয় শুরু থেকেই। তাদের যত্ন নেওয়া শেখাতে মা-বাবার ভূমিকাই বেশি থাকে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন শিশুর দাঁতের যত্ন নিবেন কখন থেকে। দেখা যায়, ছয় মাস বয়স থেকে শিশুর দাঁত ওঠে। তবে গর্ভে থাকাকালীনই দাঁত উঠতে থাকে। দাঁতের মাড়ি ভেদ করে আসতে এ সময় লাগে। তাই দাঁত দেখা না গেলেও এর পরিচর্যা শুরু করতে হয় শুরু থেকেই।
শিশুকে প্রতিবার বুকের দুধ খাওয়ানোর পর কোমল কাপড় বা গজ দিয়ে মাড়ি ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। এতে শিশু দাঁতে ক্ষয় রোগ থেকে রক্ষা পাবে।
বেশির ভাগ শিশুর দেখা যায় দাঁতে কালো কালো দাগ পড়ে। দাঁতের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায়। পরে এ নষ্ট অংশ ভেঙে যায়। আবার দাঁতের মধ্যে গর্ত দেখা দেয়। গ্রামের বয়স্করা বলেন পোকায় দাঁত খেয়েছে। এ পোকায় দাঁত খাওয়াই দাঁতের ক্ষয়রোগ।
শিশুরা মিষ্টি জাতীয় খাবারের ভক্ত। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবারই এমন হওয়ার মূল কারণ। মিষ্টি খেলে মুখে ব্যাকটেরিয়া হয় বেশি। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে যায়। এ খাদ্যকণা ও ব্যাকটেরিয়া দাঁতের চারপাশে প্লাক তৈরি করে। প্লাকের ব্যাকটেরিয়া মিষ্টি জাতীয় খাবারকে এসিডে পরিণত করে। ফলে দেখা দেয় দাঁতের ক্ষয়। এজন্য শিশুদের মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খেতে দেবেন না।
চকলেট, আইসক্রিম, কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, মধু, জ্যাম-জেলি, কেকের ক্রিম, কোমলপানীয়, জুস কম খেতে দিতে হবে।
দাঁত ব্রাশের বিকল্প নেই। দাঁত বের হওয়ার সাথে সাথে শিশুর দাঁত ব্রাশ করা শুরু করতে হবে। তার মানে ছয় মাস বয়স থেকেই টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করতে হবে। অনেকে মনে করেন শিশু তো কিছু খায় না, তাই ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। এটা কিন্তু ঠিক নয়। ব্রাশ না করলে কিন্তু দাঁতের ক্ষয় হয়। মা-বাবাকেই ব্রাশ করিয়ে দিতে হবে। শিশুর ব্রাশ হবে ছোট। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ফ্লোরাইড দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। তাই বলে বেশি পরিমাণে টুথপেস্ট দিবেন না। কারণ, এ ফ্লোরাইড আবার বেশি হলে দাঁতে হলদে ভাব দেখা দেয়। শিশুর ছোট টুথব্রাশের চার ভাগের তিনভাগ পরিমাণ টুথপেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিন। শিশুর টুথব্রাশ অবশ্যই হতে হবে নরম,কোমল। তিনবছর বয়স পর্যন্ত এ পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। এ সময়ের পর মটরশুটির দানার পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশ করতে হবে দিনে কমপক্ষে ২ বার। রাতে খাবারের পর ও দিনে সকালের নাস্তার পর।
শিশুকে দুবেলার দাঁত ব্রাশ করতে শেখান। সব দাঁতে যেন ব্রাশ পৌঁছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ব্রাশ করুন ওপর ও নিচে। ব্রাশে উল্টো পিঠ দিয়ে জিহ্বা ও তালু পরিষ্কার করুন। অনেক শিশু টুথপেস্ট গিলে ফেলে। এটা কিন্তু ভালো নয়। দাঁত ব্রাশ হয়ে গেলে অতিরিক্ত টুথপেস্ট কুলকুচি করে ফেলে দেওয়া শেখান। শিশু ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
অনেক শিশুর দাঁতে হলদে ভাব দেখা যায়। বিভিন্ন ওষুধ ও অতিরিক্ত ফ্লোরাইডের কারণে তা হয়। গর্ভস্থ মা টেট্রাসাইক্লিন সেবন থেকে বিরত থাকুন। দন্ত্য চিকিৎসককে দাঁত দেখানোর কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে প্রথম জন্মদিনের আগেই শিশুকে দন্ত্য চিকিৎসককে দেখাতে হবে। এরপর বছরে অন্তত দুই বার দন্ত্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। দাঁতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে যেমন দাঁতে ব্যথা, কালচে বা হলুদ ভাব তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
প্রশ্ন: দাঁতের জন্য কিছু ঘরোয়া টোটকা বলুন?
উত্তর: আমাদের ঘরে থাকা সামগ্রী দিয়েও দাঁতের যত্ন নেওয়া যায়। টুথ পেস্টের সঙ্গে লবঙ্গের পেস্ট যুক্ত করে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের গোড়া শক্ত হয়, জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। নিমপাতা, দারুচিনির পেস্টও দাঁতের জন্য ভালো। দাঁতের ব্যথা কমাতে গরম পানিতে নিমপাতা, লবণ কিছুক্ষণ রেখে কুলকুচি করলে ভালো কাজ দেয়। তবে দাঁতের প্রধান ঘরোয়া টোটকা হতে পারে লবঙ্গ। দিনে একবার শুধু লবঙ্গ বেটেও যদি দাঁতে লাগানো হয়, তাহলে দেখবেন, মুখমণ্ডলে জমে থাকা নীরব রোগগুলো অনেকটাই চলে গেছে। দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে লেবুর রসের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে ব্রাশ করতে পারেন। বিবর্ণ দাঁত হয়ে উঠবে ঝকঝকে। আবার মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সহজ সমাধান হতে পারে কমলার খোসা। প্রতিদিন সকালে কিংবা দিনের যেকোনো সময়ে কমলার খোসা চিবিয়ে খেলে দাঁতের মাড়িও ভালো থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান উৎকর্ষতায় উপরোক্ত করণীয় নিয়মিত পালন করলে দাঁত ও শরীর দুটিই সুস্থ থাকবে। স্মাইল ডেন্টাল ক্লিনিকের ডেন্টাল সার্জন কানিজ ফাতেমা মুন বলেন, ‘দাঁত সুস্থ না থাকলে আমরা আমাদের চাহিদামাফিক খাবার যেমন খেতে পারি না, তেমনি ঠিকঠাক না চিবানোর জন্য হজমে সমস্যা হয়। ফলে শরীরও তার প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পায় না। কাজেই সুস্থ ও সবল দাঁতের জন্য উপরের করণীয়গুলো পালন করুন—
তথ্যসূত্র:
- ডা. মো. ফারুক হোসেন, মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার, বর্ণমালা সড়ক, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা, যুগান্তর।
- স্মাইল ডেন্টাল ক্লিনিকের ডেন্টাল সার্জন, কানিজ ফাতেমা মুন, প্রথম আলো।
- সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক, স্পিনা লুনা বিশ্বাস,
- ডা. মো. ফজলে রাব্বী খান, প্রথম আলো।
- দেশের খ্যাতনামা বিশিষ্ট ডেন্টাল সার্জন ডা. সৈয়দ তমিজুল আহসান রতন, এনটিভি।
- ডাক্তার সানজিদা হোসেন পাপিয়া, ইউনাইটেড ডেন্টাল সার্জন,
- ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ওরাল অ্যান্ড ম্যাকজিলো ফেসিয়াল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়,
- সময় টিভি।
- ডাক্তার মোঃ ইসরাত চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল লেকচারার, চেম্বার Treatment Hospital.
- ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু, মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, এনটিভি।
- Dr Tasnim Jara, Jonior Speciality Registrar (NHs England), Clinical Supervisor at University of Cambridge.
- সমকাল।
- দৈনিক ইনকিলাব।
- banglatribune.com
- ডাক্তার তনুশ্রী তরফদার, চিফ কনসালটেন্ট স্নো হোয়াইট ডেন্টাল কেয়ার, ঢাকা, Tweetup Studio Tv.
- Channel 24 Entertainment.
- রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা, এবং
- শমরিতা মেডিকেল কলেজের সাবেক চিকিৎসক ও প্রভাষক নাজমুল ইসলাম, প্রথম আলো।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই