First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

সর্দি কাশি রুখতে কি খাবেন


 সর্দি-কাশি :

শীত যাই যাই করেও যেন যাচ্ছে না। এ সময় সর্দি-কাশির প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কিছু বিশেষ খাবার বেশ সহায়ক। এগুলো আপনার সুরক্ষা দিতে পারে। জেনে নিন এ বিষয়ে কয়েকটি তথ্য:

* হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা-সর্দি দূর হয়। লেবুর ভিটামিন সি ও মধুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মিলে এই সুরক্ষা দেয়।

* ধুলাবালি ও ঠান্ডায় শ্বাসনালি সংকুচিত হয়। ফলে শ্বাসকষ্ট হয়। গরম আদা-চা বা লেবু-চা এই কষ্ট দূর করে এবং জমে থাকা কফকেও তরল করে।

* চায়ের সঙ্গে তুলসীপাতা জ্বাল দিয়ে খাওয়া যায়। আবার প্রতিদিন দু-তিনটা এমনি পাতা ধুয়েও চিবিয়ে খাওয়া যায়। এতে বিটা ক্যারোটিন ও ইউনিজল আছে, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ব্যাকটেরিয়ারোধী। গলা খুস খুস করলেও তুলসীপাতা উপকারী।

* সরিষার তেল, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের ভর্তা কফ তরল করে। এ ছাড়া সরিষাভর্তা, সরিষাশাক ও কালিজিরার ভর্তা সর্দি-কাশি কমায়।

* যাঁরা শীতে কষ্ট পান ও যাঁদের সহজে ঠান্ডা লেগে যায়, তাদের জন্য একটি পরামর্শ—খাওয়ার পানি দু-তিন কোয়া রসুন মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে পান করুন। এটি শরীরকে গরম রাখে এবং ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা দেয়।

* শীতে গরম স্যুপ, গরম চা, ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে। তবে প্রচুর পানিও পান করতে হবে। কেননা সর্দি-কাশি ও জ্বরে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে।  

* দুধ ও হলুদ : দুধ যে কোনো বয়সের জন্যই সমান উপকারী। এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। হলুদে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা সহজেই সংক্রমণ রোধ করে। ফলে সর্দি-কাশির কষ্ট থেকেও রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়।

* আদা চা : সর্দি-কাশি দূর করতে আদা চায়ের জুড়ি মেলা ভার। আদা কুচি করে গরম পানি বা গরম চায়ে দিয়ে পান করুন। এতে সর্দি-কাশির সমস্যা একেবারেই দূর হবে।

* লেবু ও মধু : লেবু ও মধুর মিশ্রণটিও আদা চায়ের মতোই অত্যন্ত উপকারী। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই চা চামচ মধু ও এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে সর্দি-কাশি দূর হবে।

* তুলসী পাতা ও আদা : এক কাপ পানিতে কয়েকটা তুলসী পাতা ও আদা কুচি ফেলে ফোটাতে থাকুন। পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে এলে তা নামিয়ে রাখুন। এবার এই পানি দিনে অন্তত দু’বার পান করলে সর্দি-কাশি কমে যাবে।

* রসুন : এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা সর্দি-কাশির মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণ রুখতে পারে। চাইলে চার-পাঁচ কোয়া রসুন ঘিয়ে নেড়ে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে খেয়ে নিন। ঘিয়ে ভাজা রসুন সুপের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আরাম পাবেন।

সব ঋতুতেই সুস্থ থাকুন-

হেমন্তকাল:

যে কোনো দেশেই ঋতু পরিবর্তনের সময় মানুষের শারীরিক ও মানসিক কম বেশি সমস্যা দেখা দেয়৷ বিশেষকরে জার্মানির মতো শীতপ্রধান দেশে হেমন্তকালে৷ গ্রীষ্মকালের রোদ ঝলমলে আনন্দের দিনগুলোকে বিদায় জানিয়ে মেঘলা আকাশ আর প্রচণ্ড শীতের কথা ভাবলেই তো খারাপ লাগে৷ গ্রীষ্মকালে সূর্যের আলো থাকে রাত ১০টার পরেও৷ আর শীতের সময় বেলা চারটে হলেই যেন সূর্য পালাতে চায়৷ কাজেই এর প্রভাব তো মানুষের শরীর, মনের উপর পড়বেই৷

সর্দি, কাশি বা ঠান্ডার ভাইরাস:

গলা খুস খুস, গলা ব্যথা, কাশি, নাকে সুরসুর – এসবের সাথে কে পরিচিত নয়? ঠান্ডার ভাইরাসকে চোখে দেখা যায়না, তবে খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে৷ যখন একটু গলা খুস খুস বা নাকে সুরসুর করতে শুরু করে, তখনই কিন্তু দেরি হয়ে গেছে! তাহলে উপায়?

ঋতু উপভোগ:

ঋতু পরিবর্তনের সময় হঠাৎ করে যখন বাইরের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন শরীরের উপর তার প্রভাব পড়ে, যা খুবই স্বাভাবিক৷ তখনই শুরু হয় নানা ভাইরাসের উপদ্রব৷ ঘরে ঘরে সর্দি-কাশিতে মানুষ ভোগে৷ ঠিক এই সময়টাতে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করে কিছু নিয়ম মেনে চললে অনেক সহজে হেমন্তকালকে উপভোগ করা যায়৷ কারণ সব বয়সের মানুষের মতো প্রত্যেক ঋতুরই যে রয়েছে চাহিদা আর আলাদা সৌন্দর্য !

২০০ রকমের সর্দি-কাশি রয়েছে:

টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক, এমনকি ক্যানসারের মতো রোগের জন্য নানা সাফল্য বের হলেও সর্দি, কাশি বা ঠান্ডা লাগার মতো ছোটখাটো রোগের জন্য কোনো ওষুধ বের করতে বিশেষজ্ঞরা এখনো অসমর্থ৷ এর অবশ্য কারণও রয়েছে৷ প্রায় ২০০ রকমের ঠান্ডা লাগার অসুখ রয়েছে৷

সাথে জ্বর:

তবে সবচেয়ে বড় ধরনের ঠান্ডা লাগা যেটা আমরা জানি, প্রচণ্ড শরীর, মাথা ও গলা ব্যথা, কাশি, জ্বর, সেই সাথে সর্দি – যা সত্যিই খুব কষ্ট দেয়৷ এরকম ঠান্ডা লাগলে তা ৭ থেকে ১০ দিন থাকবেই, কোনো ওষুধ খাওয়া হোক আর না হোক৷

ইনফ্লুয়েন্জা:

সাধারণ ঠান্ডা সাথে ইনফ্লুয়েন্জার কোনো সম্পর্ক নেই৷ সাধারণ ঠান্ডা লাগা আর ইনফ্লুয়েন্জার লক্ষণগুলো অনেকটা একরকম হলেও ইনফ্লুয়েন্জা পুরোপুরি ভিন্ন৷ এটাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷ তা না হলে হঠাৎ করে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে৷ ইনফ্লুয়েন্জা একটি ইনফেকশাস বা ছোঁয়াচে রোগ – বিশেষ করে শিশু, ডায়াবেটিসের রোগী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে৷ বলেন জার্মানির চিকিৎসা সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ফ্যার্ডিনান্ড গেয়ারলাখ৷

সাবধানতা অবলম্বন:

বাইরে থেকে এসে হাত ধুতে হবে৷ শুধু তাই নয়, অন্যের কম্পিউটার বা যে কোনো কিছু ব্যবহার করার আগে ও পরে হাত ধুয়ে নেওয়া ভালো৷ যানবাহনে চলাফেরা করার সময় ইনফ্লুয়েন্জা জাতীয় ইনফেকশন রোগীদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করুন৷ গোসলের সময় গরম পানির পর গায়ে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন৷ প্রচুর ফল, নানা রংয়ের সবজি খান ও পানি পান করুন৷ আর অবশ্যই নিয়মিত মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি করতে হবে – এমনটাই বিশেষজ্ঞরা বলেন৷

তথ্যসূত্র:

  • আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ, প্রথম আলো।
  • ডয়চে ভেলে।
  • ডা. আলমগীর মতি, হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক, মডার্ন হারবাল গ্রুপ, যুগান্তর।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.