First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে করণীয়

ডায়াবেটিস রোগীদের সবসময়ই খাবারে রাখতে হয় বাড়তি সতর্কতা। তবে যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা যেন ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হয় তার জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে বেশকিছু পুষ্টি উপাদানকে প্রাধান্য দিলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট খাবারটি রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে তার ওপর। এ বিষয়টি সাধারণত গ্লাইসেমিক লোড ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নামক দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

তাই খাবারে এমন কোনো খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়, যেগুলো খেলে হঠাৎই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কেননা এ প্রবণতা আমাদের অনেকটা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ডায়াবেটিস এমন একটি জটিল রোগ যা শরীরে একবার বাসা বাঁধলে আমৃত্যু একে বয়ে বেড়াতে হয়। এ ছাড়া এই রোগটি এমন এক ব্যাধি যা আরও একাধিক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাধিটি এড়াতে তাই আমাদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

১) আগে থেকেই খাওয়ার পরিকল্পনা করে রাখুন:

মিষ্টি, সাদা পাউরুটি এবং অন্যান্য খাবারের পরিমাণ সীমিত করুন। খাওয়ার পর এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই কী খাবার খাবেন তা আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে, এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

২) অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন:

বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি খাবার খাওয়ার পরিবর্তে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি আপনাকে হঠাৎ সুগার লেভেল ওঠানামা রোধ করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে ৩টি বড় খাবার খাওয়ার পরিবর্তে, বার বার অল্প পরিমাণে খাবার খেলে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩) চিনি খাওয়া যথাসম্ভব কম করুন:

সুক্রোজ এবং হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ শরীরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলো খালি ক্যালোরি ছাড়া আর কিছুই নয়। শরীর এই সাধারণ শর্করাগুলিকে খুব সহজেই ভেঙে ফেলে, যার ফলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, শর্করা গ্রহণ ইনসুলিন নিঃসরণে বাধা দেয়। শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।

৪) ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান:

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য, রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে দুর্দান্ত কার্যকর। বিশেষ করে দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে শর্করার স্পাইক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি পাণীটে দ্রবীভূত হয়ে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, যা অন্ত্রে কার্বোহাইড্রেট শোষণকে ধীর করতে সহায়তা করে। তাছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে। যার ফলে বারে বারে ক্ষুধার অনুভূতি কমে। দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যগুলি হল- ওটমিল, বাদাম, বিভিন্ন শাকসবজি, আপেল, কমলালেবু, ব্লুবেরি প্রভৃতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার ধীরে ধীরে পাচিত হয়। এ কারণে শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশঙ্কা এক্ষেত্রে অনেকটাই কমে আসে। যদি অন্য খাবারের প্রতি একান্তই আসক্তি থাকে তবে সেসব খাবার গ্রহণের আগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

৫) বেশি করে পানি পান করুন:

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। শরীর ডিহাইড্রেট হলে, শরীরে ভ্যাসোপ্রেসিন নামক একটি হরমোন উৎপাদন হয়। এটি কিডনির তরল ধরে রাখতে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত চিনি বের করে দিতে বাধা দেয়। তাছাড়া লিভারও রক্তে অতিরিক্ত শর্করা সরবরাহ করে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলবেন না যেন।

৬) খাওয়ার পর হাটাহাটি করা:

অনেকেরই বদঅভ্যাস রয়েছে খাবার গ্রহণের পরপরই বসে বা শুয়ে থাকার প্রবণতা। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট বসে বা শুয়ে থাকা যাবে না। এই সময়টা ধরিগতিতে হাঁটার অভ্যাসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৭) ব্যায়াম করা:

দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে কর্মব্যস্ততার কারণে যারা ব্যায়াম করার সময় ও সুযোগ কোনোটিই পাচ্ছেন না তাদের অন্তত প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

তথ্যসূত্র:

  • আনন্দবাজার> সময় টিভি।
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.