চুলকানি বা ইচিং কি? প্রশ্নের উত্তরে নিন এর সমাধান!
চুলকানি (প্রুরিটাস নামেও পরিচিত) হল একটি সংবেদন যা আচড়ের ইচ্ছা ঘটায়।
সাধারণত, এক জায়গায় চুলকানি অনুভূত হয়। যদি এটি সারা শরীরে অনুভূত হয়, তবে একে সাধারণ চুলকানি বা সাধারণ প্রুরিটাস বলে।
যদি চুলকানির অনুভূতি ছয় সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে একে ক্রনিক চুলকানি বা ক্রনিক প্রুরিটাস বলে। দীর্ঘস্থায়ী ইডিওপ্যাথিক প্রুরিটাস বা অপরিহার্য প্রুরিটাস হল চুলকানির একটি বিরল রূপ যা ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং যার জন্য কোন স্পষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না ।প্রশ্ন: চুলকানি সমস্যা কখন বলব?
উত্তর: চুলকানি হচ্ছে একটা আনইউজুয়াল সিচুয়েশন, যেটা আমাকে বাধ্য করবে কোনও জায়গায় স্ক্র্যাচ করতে, দাগ দিতে বা কোনও ধারালো জিনিস দিয়ে আমার চামড়াকে ঘষতে, আমার চুলের গোড়ায় ঘষতে; এমনকি শরীরের যে কোনও অংশে আমি ঘষতে বাধ্য হই, ওখানে ইরিটেশন হয়। সে আমাকে প্রভোক করে, সে আমাকে বাধ্য করে যে তুমি এ জায়গায় আমাকে স্ক্র্যাচ করো বা আমাকে ওখানে একটু ধাক্কা দাও, আমাকে একটু আঁচড় দাও—এ জিনিসটাই মোদ্দা কথা হচ্ছে চুলকানি।
প্রশ্ন: চুলকানির খুব কমন কারণগুলো কী?
উত্তর: রোগীরা বলে, আমার এলার্জির সমস্যা। কিন্তু এলার্জি আর চুলকানি আমরা গুলিয়ে ফেলি। সাম কন্ডিশনে এলার্জি হতে পারে। এলার্জির সিনোনিম আমরা চুলকানি বলতে পারি। কমনলি যেটা হচ্ছে, সিজন ভেদে ডিফার করে। যেমন—গরমের দিনে রোগী এক ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসে, শীতকালে এক ধরনের নিয়ে আসে, শিশুরা, মায়েরা, বয়স্করা, মধ্য বয়স্করা বা যারা ডেইলি লেবার, তারা এক ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসে। গরমের দিনে আমাদের যে আবহাওয়া, এতে ম্যাক্সিমাম যারা কায়িক পরিশ্রম করে, তাদের মধ্যে ঘামাচি; ঘামাচি অন্যতম কারণ চুলকানির। এ ছাড়া সাধারণ ভাষায় আমরা যেটাকে দাদ বলি, এটা খুবই কমন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা ওষুধের দোকানে গিয়ে বলি—আমার এলার্জি হয়েছে, আমাকে ওষুধ দাও। ওরা ওষুধ দিয়ে দেয়। ওরা কী করে, যেটা দেওয়া উচিত নয়, এমন একটি ওষুধ দিয়ে দেয়। ফলে রোগী খুব বিড়ম্বনায় পড়ে। রোগীর সাফারিংস বাড়ে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, চুলকানিকে সহজভাবে নেওয়া যাবে না। এটাকে উপসর্গ অনুযায়ী ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে হবে।
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৭ বছর। কোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গেলে মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়। এটা কি সমস্যা? —শিউলি খাতুন
উত্তর: আপনার টেনশন হেডেক বা উদ্বিগ্নতাজনিত মাথাব্যথা হচ্ছে। দুশ্চিন্তা কমাতে কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি সেবা নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ খেতে হতে পারে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা কাছের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক রোগ বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন।
প্রশ্ন: আমার মায়ের বয়স ৬০ বছর। ৩-৪ মাস ধরে তাঁর ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। বগলের নিচে ও পেটের ওপরের অংশে দানা দানা হয়ে গেছে। চুলকানির জায়গাগুলোতে কালশিটে পড়ে গেছে। তবে চাকা চাকা ধরনের কিছু দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি ভেষজ ওষুধ সেবন করছেন, কিন্তু উপকার পাচ্ছেন না।—জেরিন তাসনিম
উত্তর: সাধারণত বগলের নিচে, মেয়েদের স্তনের নিচে বা দুই ঊরুসন্ধিতে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক-জাতীয় সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ জায়গাগুলোতে অন্যান্য সংক্রমণও হতে পারে। আবার অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের অপ্রয়োজনীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ত্বকে সমস্যা হতে পারে। শীতকালীন আবহাওয়াও বয়স্কদের চর্মরোগের জন্য দায়ী। তাই ঠিক কী কারণে আপনার মায়ের ত্বকে এই সমস্যা হয়েছে, তা যথাযথভাবে নির্ণয় করা জরুরি। আগেই আর কোনো ওষুধ না খাওয়ানোই ভালো। দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখান। পাশাপাশি রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখুন। নিয়মিত বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও অন্যান্য কাপড় গরম পানিতে ফুটিয়ে পরজীবীমুক্ত করবেন।
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৮ বছর। মাঝেমধ্যে ঘুমের ভেতর জিবে কামড় লাগে। অনেকক্ষণ পরে টের পাই এবং জিব ব্যথা করে। এ ক্ষেত্রে কী করতে পারি?—আসাদ রহমান
উত্তর: জিবে কামড়ের অন্যতম কারণ, মাক্রোগ্লোসিয়া বা বড় জিব, দাঁতের অসমতা, ভাঙা বা ধারালো দাঁত, অনিয়ন্ত্রিত দাঁতে দাঁত ঘষা অথবা স্নায়ুর সমস্যা।
ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নিশ্চিত করে চিকিৎসা নিলে সমাধান পাওয়া যায়। মুখের যেকোনো স্থানের ক্ষত দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।
প্রশ্ন: শীত আসলে শরীরে চুলকানি কেন দেখা দেয়?
উত্তর: শীত আসলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ময়েশ্চার কমে যাওয়ার কারণে ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে য়ায়। এমন অবস্থায় সব চেয়ে বেশি রোগে আক্রান্ত হয় শিশু ও বৃদ্ধরা। যে কারণে অনেক সময় শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শীতকালে এক বিছানায় চাপাচাপি করে ঘুমানো এবং অপরিস্কার পোষাক পরিধান করার কারণে সংক্রমিত হয়ে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায়। রাতের বেলা চুলকানির তীব্রতা আরও বাড়ে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই একটু দরকার বাড়তি সচেতনতা।
প্রশ্ন : বডি ইচিংয়ের ধরনগুলো কী ?
উত্তর: আমরা প্রথমে যেটি বলি ভাগ্যিস ইচিং ছিল। এই সমস্যাকে সাধারণ মনে হলেও তা মোটেও সাধারণ নয়। অনেক কারণে এটি হতে পারে। কিছু কিছু দেখা যায় স্বাভাবিক কারণ। যেমন যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, শীতকালে যখন ময়েশ্চার কমে যায়, তখন দেখা যায় চুলকাতে পারে। কারো যেমন ধরেন রক্তশূন্যতা আছে, সেখান থেকে সারা গা চুলকাতে পারে। কারো ডায়াবেটিস আছে, সেখান থেকে সারা গা চুলকাতে পারে। কারো কারো হরমোনে সমস্যা আছে, যেমন আমরা বলি থাইরয়েডের যদি কোনো তারতম্য হয়, বা কম বেশি হয়, দুটো থেকেই চুলকানি হতে পারে। এ ছাড়া সিস্টেমিক রোগ—যেমন অবসট্রাকটিভ জন্ডিস, লিভার সমস্যা; এসব থেকে ইচিং হতে পারে। কিডনিতে যাদের সমস্যা আছে, দেখা যায়, সারা গা চুলকাচ্ছে। এমনকি ম্যালিগন্যান্সি, রক্তের ক্যানসার সেখান থেকে সারা গায়ে ইচিং হতে পারে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গরম পানিতে গোসল করে চুলকাচ্ছে। কারো কারো দেখা যায় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করে চুলকাচ্ছে। এটা বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
প্রশ্ন: শীতকালে কেন শরীরে চুলকানি বেশি দেখা দেয় ?
উত্তর: শীতে মানুষের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। শীতকালে মানুষ মোটা কাপড় পরিধান করে। যা অনেক সময় অপরিষ্কার, অপরিছন্ন থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে থাকে ও নিজেও অপরিচ্ছন্ন থাকে তাদের ক্ষেত্রে ত্বকের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। কয়েকটি সাধারণ চর্মরোগ হচ্ছে : পাঁচড়া, খুজলি ও দাদ। তবে পাঁচড়া জাতীয় চর্মরোগের লক্ষণ হলো আঙ্গুলের মাঝখানে, কব্জিতে, কোমরের চারদিকে, যৌনাঙ্গের আশপাশে, শরীরের অন্যান্য অংশেও ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা যায়।
প্রশ্ন: ত্বকের কারণে যেই চুলকানি হচ্ছে সেগুলো কী ?
উত্তর: বেশির ভাগ ত্বকের সমস্যাতেই চুলকানি হয়। আমাদের দেশে একটা খুব প্রচলিত রোগ, শীতকালে অনেক বেশি হয় স্ক্যাবিজ। এক সঙ্গে অনেক লোক থাকে, একজনের কাছ থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে যায়। পুরো পরিবারকে চুলকাচ্ছে। একধরনের পরজীবী দিয়ে এটা হয়। চুলকাবে রাতে বেশি। রাতে যখন বেশি চুলকানি হয়, আমরা ভাবি স্ক্যাবিজ হতে পারে। আমরা এসব লক্ষণগুলো খুঁজি। দেখি আঙুলের ফাঁকে কোনো দানা দানা আছে কি না। জেনিটাল রিজিয়নে, নারীদের স্তনের নিচে, খাঁজগুলোতে কোনো দানা দানা আছে কি না। পারিবারিক ইতিহাস নিচ্ছি আমরা। চুলকানির ধরন দেখে আমরা পুরো বিষয়টিকে নির্ণয় করে ফেলি।
প্রশ্ন: চুলকানির রোগের লক্ষণ কি?
উত্তর : আক্রান্ত স্থানে সব সময় চুলকানির ভাব অনুভূতি হয়, না চুলকিয়ে থাকা যায় না, চুলকাতে চুলকাতে চামড়া উঠে যায়, ফুসকুড়িগুলোয় পুঁজ/ পানি জমে, আবার চুলকালে পুঁজ ছড়িয়ে পড়ে ও চুলকানি অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে যায়, ব্যথায় শরীরে জ্বর আসে।
প্রশ্ন: চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে করণীয় কি?
উত্তর: শীতকালে শরীর ও ত্বক খুবই শুষ্ক হয়ে যায়। ময়েশ্চার কমে যায়, তাই বিভিন্ন চুলকানি দেখা দেয়। এসব থেকে মুক্তি পেতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চার ক্লিম ব্যবহার করা যায়। এছাড়া যদি তাতে কোন সমাধান না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে।
প্রশ্ন: মলদ্বারে চুলকানি হলে কি করব?
উত্তর: মলদ্বারের চুলকানির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। রাতের বেলায় মলদ্বার বেশি চুলকালে অনেকেই পাইলস হয়েছে বলে ভাবেন।
মলদ্বার বিভিন্ন কারণে চুলকাতে পারে, যেমন- এনালফিশার হলে, কৃমি হলে, অনেকক্ষেত্রে মলদ্বারে ছোট্ট ছিদ্র হয়ে ফিস্টুলা হয় যেখান থেকে পুঁজ-পানি বের হয় সেই ছিদ্রপথও অনেক ক্ষেত্রে চুলকায়, মলদ্বারে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে।
কাজেই কারও যদি মলদ্বারে চুলকানি থাকে, তাহলে সঠিকভাবে রোগের ইতিহাস নিতে হবে, এটা কেন হচ্ছে, এটার সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না? এক্ষেত্রে অবশ্যই রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রটোস্কোপি করে চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করেন।
অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মধ্যেই কৃমি ওষুধ খেয়ে থাকেন। তারা মনে করেন, মলদ্বারের চুলকানি কৃমির জন্য হচ্ছে। আসলে রোগের নাম এনালফিশার। অযথা নিজে নিজে চিকিৎসা না করে, কৃমির ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিলেই এ রোগ থেকে মুক্তি মিলবে।
চুলকানির কারণ ও চিকিৎসা:
বিভিন্ন কারণে শরীরে চুলকানি বা বডি ইচিংয়ের সমস্যা হতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। যাদের ত্বক খুব শুস্ক, শীতকালে যখন ময়েশ্চার কমে যায়, তখন চুলকানির সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, হরমোন ও থাইরয়েডজনিত সমস্যা থাকলে গা চুলকাতে পারে। একইসঙ্গে সিস্টেমিক রোগ যেমন অবসট্রাকটিভ জন্ডিস, লিভার সমস্যা থেকে ইচিং হতে পারে। কিডনিতে যাদের সমস্যা আছে, তাদেরও চুলকানি হতে পারে। এমনকি ম্যালিগন্যান্সি, রক্তের ক্যান্সার থেকে সারা গায়ে ইচিং হতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গরম পানিতে গোসল করে চুলকাচ্ছে। কারও কারও দেখা যায়, ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে চুলকাচ্ছে। এটা বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ত্বকের সমস্যাতেই চুলকানি হয়।
শীতকালে স্ক্যাবিক বেশি হয়। একজনের কাছ থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে যায়। পরিবারের সবার চুলকানি হয়। এক ধরনের পরজীবী দিয়ে এটা হয়। রাতে যখন বেশি চুলকানি হয়, আমরা (ডাক্তার) ভাবি স্ক্যাবিজ হতে পারে। আমরা এসব লক্ষণ খুঁজি। দেখি আঙুলের ফাঁকে কোনো দানা দানা আছে কি-না। জেনিটাল রিজিয়নে, নারীদের স্তনের নিচে, খাঁজগুলোতে কোনো দানা দানা আছে কি-না। চুলকানির ধরন দেখে আমরা পুরো বিষয়টি নির্ণয় করে ফেলি। সোরিয়াসিস একটি রোগ। এতেও চুলকানি হয়। আমাদের চামড়ায় সিলভার স্কেল উঠতে পারে। তবে এর ভাগ রয়েছে। এক ধরনের সোরিয়াসিস হয় ছোট ছোট, দানা দানা। সোরিয়াসিস যদি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে সমস্যা হয়। সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে খুব হিসাব করে। তখন সারা গায়ের চামড়া ঝরে পড়ে যাবে। সেখানে অনেক চুলকানি হতে পারে। তাই ইচিংকে উপেক্ষা করা যাবে না। অনেকে মনে করেন চুলকাচ্ছে, হয়তো ভালো হয়ে যাবে। তবে চুলকানির বিষয়ে সতর্ক থাকাই উচিত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন, ভালো থাকুন।
সাবধানতাই নিরাময়:
উল বা গরম কাপড়ে চুলকানি বাড়লে সুতির জামার উপর গরম জামা পরুন। মৃদু সাবান নিরাপদ। সুগন্ধে অ্যালার্জি থাকলে মৃদু গন্ধের বা গন্ধহীন সাবান মাখুন। স্নানের পর ভেজা গায়ে লাগান গন্ধহীন নারকেল তেল। তার পর এক মগ পানি ঢেলে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে মুছে নিন, ত্বকের আর্দ্রতা বেশি ক্ষণ বজায় থাকবে। কম থাকবে চুলকানি। ময়েশ্চারাইজারও লাগাতে পারেন। স্নানের পর অল্প ভেজা গায়ে লাগালে ত্বকের গভীরে যাওয়া পানির উপর প্রতিরোধক আবরণ তৈরি হয়ে আর্দ্রতা বজায় থাকে বেশি ক্ষণ। তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করুন মৃদু গন্ধের জেল বেস্ড লোশন, ত্বকের প্রকৃতি শুষ্ক হলে মাখুন ক্রিম বেস্ড লোশন।
প্রচণ্ড গরমের পর প্রকৃতির নিয়মেই এখন শীত নেমে এসেছে। রাজধানী ঢাকায় তেমন শীত না থাকলেও বাইরের জেলাগুলো, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে এখন প্রচণ্ড শীত। ঠান্ডার সময় পানি একটু কম খাওয়া হয়। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। এছাড়া বেশি বেশি চা-কফি-মদ ইত্যাদি খেলে শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে ত্বক শুষ্ক হতে থাকে। ত্বকের আর্দ্রতাও আরও কমে। ক্রিম না মাখলে শুরু হয় চুলকানি। এর সঙ্গে খাওয়ার নিয়ম, স্নানের নিয়ম, প্রসাধনী ও ওষুধপত্রের ব্যবহার ঠিক ভাবে না মেনে চললে বিপদ বাড়ে। কীভাবে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে?
শীতকালে চিপস-পাকোরার জুড়ি নেই। যার ফলে সুষম খাবারের প্রতি কারও আগ্রহ থাকে না।। যে কারণে ত্বকের আদ্রতাও কমতে থাকে। ভালো করে যত্ন না করলে চুলকানি বেড়ে যেতে পারে। সমস্যা কমাতে ভাজাভুজি কম খান। বেশি খান অ্যান্টিক্সিড্যান্ট ও ন্যাচারাল ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার। যেমন, মৌসুমি ফল, আপেল, আমন্ড, আখরোট, অ্যাভোক্যাডো। অলিভ অয়েলে সতে করা সব্জি বা স্যালাড খান। বেশি করে তৈলাক্ত মাছ, হলুদ-কমলা-গাঢ় সবুজ রংয়ের শাকসবজি খান। জলীয় খাবার খান বেশি। যেমন, ৮১০ গ্লাস পানি, স্যুপ, ফলের রস, ঘোল, দুধ।
শীতকালে ঠান্ডা পানিতে স্নান করা যায় না। আর গরম পানিতে স্নান করার ফলে ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। কাজেই মধ্যপন্থা নিন। গরম পানি ছাড়তে না পারলে স্নান সারুন সংক্ষেপে। আর দীর্ঘ স্নানের আরাম নিতে গেলে ব্যবহার করুন উষ্ণ পানি। রক্ত সঞ্চালন বেড়ে ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে তাতে। তার পর ভেজা গায়ে তেল বা ক্রিম লাগিয়ে নিলে চুলকানি কম থাকে। এছাড়া নিয়ম মেনে চুলকানি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে মলম লাগান কিংবা অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ খান। সমস্যা ঠেকাতে অনেক সময় শীতের শুরু থেকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিটা ক্যারোটিন সাপ্লিমেন্ট খেলে উপকার হয়।
তথ্যসূত্র:
- ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা,
- ডা. কামরুল হাসান চৌধুরী, এমবিবিএস, চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি, লেজার অ্যান্ড হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন, কনসালট্যান্ট, ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল,
- ডা. মো. আসাফুজ্জোহা, দন্ত চিকিৎসক, ঢাকা,
- প্রথম আলো।
- ডা. মুনা তাহসিন,
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ইমদাদুল হক,
- NTV.
- উইকিপিডিয়া।
- ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান, অধ্যাপক ও বিভাগীয়, প্রধান চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সমকাল।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চর্ম ও যৌন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, একুশে টিভি।
- কালের কণ্ঠ।
- ডা. মো. নাজমুল হক মাসুম, সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি), জেনারেল ও কোলোরেকটাল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যুগান্তর।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই