First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

শিশুর পুষ্টির ব্যাপারে ভীষণ ঝামেলায় পড়তে হয়। মনের মতো না হলে অনেক কিছুই খেতে চায় না তারা। তাদের ঝোঁক বেশি থাকে জাঙ্ক ফুডের দিকে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সম্পূর্ণ পুষ্টি না পাওয়ার কারণে নানা রকম রোগ তাদের তাড়া করে। আবার অনেক সময় ছোটখাটো রোগও শিশুদের শরীরে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এর প্রধান কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খবুই কম। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা।

শিশুকে এমন খাবার খাওয়ান যেগুলো তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে এবং একই সঙ্গে পুষ্টির ঘাটতি মেটাবে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কিছু খাবারের কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি। 

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কয়েকটি উপায় দেয়া হলো-

বুকের দুধ খাওয়ানো:

শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবার হচ্ছে মায়ের বুকের দুধ। অল্প বয়সের শিশুরা বুকের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পুষ্টি পায়। আর সে কারণে মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিশুর বয়স অনুযায়ী অন্য খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।

নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস:

শিশুদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবককে বাচ্চার আজেবাজে খাদ্যাভাস বদলানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রতিদিন খাবার তালিকায় ফল এবং শাক সবজি রাখুন। ছোটবেলা থেকেই ভালো খাদ্যাভ্যাসে গড়ে নিতে পারলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে।

পরিমাণমতো ঘুম:

ঘুমের সময় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনা আপনি উন্নত হতে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত সময় ঘুম খুবই কার্যকরী। কারণ ঘুম কম হলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। যা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। বেশি রাত করে ঘুমানো এবং সকালে বেশি দেরি করে উঠা দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে। শিশুদের অন্তত ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। এর জন্য বাবা-মাকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। শিশুরা যাতে কম্পিউটার গেম না খেলে বা দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন নিয়ে খেলা না করে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। এই ডিভাইসগুলোও শিশুদের ঘুম কমিয়ে আনে।

খাবারে চিনি নিয়ন্ত্রণ:

বেশি চিনি যুক্ত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই বেশি মাত্রার চিনি যুক্ত খাবার কমালে সুস্থ থাকবে আপনার শিশু।

ওজন নিয়ন্ত্রণ:

শিশুদের জন্য বাড়তি ওজন অনেক ক্ষতিকর। বাচ্চাদের ওজন তার বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য বাচ্চাদের উপযোগী কিছু ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যেমন- সাঁতার শেখানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোরদার:

বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং গোসল করার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলুন। খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, খেলাধুলার পর হাত মুখ ধোঁয়া, এইসব ছোট ছোট অভ্যাস দেহের রোগ সংক্রামণে বাঁধা দেবে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

হালকা শরীর চর্চা:

নিয়মিত ব্যায়াম রক্তের শ্বেত কনিকার সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই শিশুদের বয়স অনুযায়ী হালকা শরীর চর্চার ব্যবস্থা রাখুন। এতে শরীর ফিট থাকবে। সহজে রোগ জীবাণু শরীরে বাসা বাঁধতে পারবে না। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে।

অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক: 

শিশুদের সামান্য অসুখেই অভিভাবকেরা এত বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েন যে, সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। অথবা তা না নিয়েই সাধারণ রোগব্যাধির বেলায় পরিচিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক শিশুকে খেতে দেন। এক শেরণির চিকিৎসকরাও কোনও না কোনও অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দেন। এতে চটজলদি রোগ সেরে যায় ঠিকই, কিন্তু ভিতরে ভিতরে শিশুকে আরও অনেক বেশি দুর্বল করে তোলে। অত্যধিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই শিশুকে যতটা সম্ভব অ্যান্টিবায়োটিক কম খাওয়ান।

ফুড ডেলিভারি নয়: 

বাড়িতে বানানো খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করান শিশুকে। জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে রাখুন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ তাজা সব্জি ও ফল খাওয়ান। এই লকডাউনে ফুড ডেলিভারি খোলা। শিশুর বায়না মেটাতে সে‌খান থেকে খাবার অর্ডার এই মুহূর্তে না করাই ভাল। ঘন ঘন জাঙ্ক ফুড শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। দরকারে বাড়িতেই বানিয়ে দিন মুখরোচক এই সব খাবার।

ফল ও সবজি:

মৌসুমি ফল-সবজিতে থাকে রোগ প্রতিরোধের যাবতীয় উপাদান। থাকে ভিটামিন, মিনারেলস। এগুলো শরীরকে সুস্থ রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তাই শিশুকে রোজ দিন ভিটিমিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ পেয়ারা, কমলা, পেঁপে, বেরি, কুমড়ো, পেঁয়াজ, সবুজ পাতাওয়ালা সবজি।

টক দই:

রোগ প্রতিরোধে টক দই দারুণ উপকারী। এর মধ্যে থাকা ফাঙাসরোধী উপাদান সর্দি-কাশি-জ্বরের মতো সংক্রমণ থেকে বাঁচায়, হজমের সমস্যা দূর করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন ‘সি’ হাড়-দাঁত মজবুত করে।

দই গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল অসুস্থতা প্রতিরোধে সহায়ক। দই প্রোবায়োটিক পূর্ণ, যা দেহের খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রোজ খাবারের পর দই খাওয়ান।

প্রোটিন:

প্রাণীজ প্রোটিন নিয়মিত খেলে পুষ্টির ঘাটতি মেটে। অ্যামাইনো অ্যাসিড পুষ্ট করে শরীরের কোষ। তাই মাছ, মুরগি, পনির, ডিম, দুধ শিশুকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়ান।

বাদাম:

আখরোট ও কাঠবাদাম ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ। ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে বাঁচায় এর মধ্যে থাকা ভালো ফ্যাট। তাই টিফিনে বাচ্চাকে দিতে পারেন এই দুই বাদাম।

মশলা:

মশলা যেমন রসুন, আদা, হলুদে প্রচুর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এগুলো শরীরকে জীবাণুমুক্ত করে সহজেই, সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়; বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

সবুজ শাকসবজি :

শিশুরা অনেক সময় সবুজ শাকসবজি খেতে চায় না। শিশুর ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রাখুন শাকসবজি। 

স্যালমন মাছ:

স্যালমন মাছ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই কার্যকর। স্যালমন ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের বিকাশ ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

হলুদ:

হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রাতে ঘুমানোর আগে শিশুদের দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ান। আর সকালে হাফ চা চামচ মধুর সঙ্গে অল্প একটু কাঁচাহলুদের টুকরোও খাওয়াতে পারেন।

ডিম:

ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস ও প্রোটিন, যা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শিশুর সকালের নাস্তায় প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খাওয়ান।

রসুন:

রসুনে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি শরীরের শ্বেত রক্ত কোষের উৎপাদন করতে সাহায্য করে। যা বাচ্চাদের অনাক্রম্যতা বাড়ানোর জন্য খুবই উপকারি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গুড়: 

গুড়ে থাকা নানা উপকারী উপাদান কাশি, সংক্রমণ , ফুসফুসের সমস্যা দূর করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের কোনও মিষ্টি খাবার খাওয়ানোর সময় সেই খাবারে পরিমাণ মতো গুড় মিশিয়ে দিন। তবে মনে রাখবেন, ভালো জায়গা থেকে খাঁটি গুড়় কিনবেন। তবেই পুষ্টি মিলবে। শরীরও ভালো থাকবে।

স্যুপ: 

শীতের ঠান্ডা পরিবেশে ধোঁয়া ওঠা স্যুপ খেতে কার না ভালো লাগে। শিশুদেরও এই খাবারটি দিতে পারেন। শাক, সবজি, মাংস মিশিয়ে ভালো করে স্যুপ বানান। এই খাবার থেকে ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সবই পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

পরিশেষে; 

কোভিডের আতঙ্ক এখন নিত্যসঙ্গী। করোনার আবার অন্যতম লক্ষ্য শিশুরা, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। বাড়ির খুদে সদস্যটির প্রতি তাই এই সময় কড়া নজর রাখতে হবে। লকডাউনে সারা দিন বাড়িতে থাকছে শিশু। তার মধ্যেও তার শরীরস্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে, তার বয়স অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় যেন ঘাটতি না থাকে।

জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের সামান্য রদবদলেই কিন্তু শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান যায়। এর জন্য কিছু অভ্যাসের বদল জরুরি। ‘‘শুধু খাবার পাতে লক্ষ রেখে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিলেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে না। এখন এমনিতেই ধুলোবালি লাগিয়ে খেলতে পারছে না তারা। ফলে ‘আর্থ কানেকশন’ প্রায় হচ্ছে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ধুলোবালিতে খেলাটাও জরুরি। তার উপর রোদে খেললে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও কমে। কিন্তু এখন এ সবের সুযোগ নেই বলেই আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে।’’

তথ্যসূত্র:

  • শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অম্লানকুসুম দত্ত, আনন্দবাজার।
  • রুবাইয়া পারভীন রীতি, ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, ফরাজি হাসপাতাল লিমিটেড, কালের কন্ঠ।
  • বোর্ডস্কাই> যুগান্তর।
  • আরটিভি। 
  • এনটিভি।
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • টনিক> একুশে টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.