First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

ভিটামিন D'র ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে

বর্তমানে অনেকেরই শরীরে দেখা যায় ভিটামিন ডির ঘাটতি। আবার অনেকে জানেনই না যে তার শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়াও এখন বেশিরভাগ মানুষকে পরীক্ষা করলেই দেখা যাবে তারা কোনো ভিটামিনের ঘাটতিতে ভুগছেন। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে— মানহীন ও ভেজাল খাবার। 

ভিটামিন এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত একটি হচ্ছে— ভিটামিন ডি। এ ভিটামিনের ঘাটতিতে শিশু, বাড়ন্ত বাচ্চা থেকে শুরু করে সব বয়সীরই এ ঘাটতির শিকার হতে দেখা যায় অনেক। এ ছাড়া গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের সমস্যা হতে দেখা যায় বেশি। আর ৬০ বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে এমনিতেই শরীরের ভিটামিন ডি উৎপাদন করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এ সময় ঘাটতি দেখা দেয় এটির। 

ভিটামিন ডি এর অভাবের কারণে অনেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরে এটি কম থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। এটির অভাব আমাদের পেশিশক্তি কমানোর জন্য দায়ী। ফলে পেশিতে টান ধরতে দেখা যায়। সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে পায়ে জোর পাচ্ছেন না অনেক দিন ধরেই। চলাফেরা করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই হোঁচট খেয়েছেন বা পড়েও গেছেন একাধিকবার! ভালো খাওয়া-ঘুমের পরেও মনে হবে হা-ক্লান্ত আপনি। মাথা ঘোরা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরেসিসসহ আরো নানা অসুখের কথা মাথায় এসেছে। ডাক্তারও এমনটি হয়তো বলেছেন। ভিটামিনের অভাবেও হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আসলে ভিটামিন 'ডি' আর ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা একে অপরের সঙ্গে জড়িত। একটির অভাবে আরেকটিও ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এ ছাড়া নানারকম সমস্যা হতে দেখা যায় শরীরে। তাই এ রকম সমস্যা হচ্ছে মনে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এ ভিটামিনটির ঘাটতি রোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে রোদে থাকা। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না যে, তিনি অভাবে সমস্যায় ভুগছেন। তাই জেনে নিন কীভাবে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি—

১. অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া:

ভিটামিন ডির অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বারবার অসুস্থতা দেখা দিতে পারে আপনার। এটি একটি অন্যতম একটি সংকেত।

২. শরীরে ক্ষত না শুকানো:

কোথাও কেটে গেলে বা ঘা হলে, তা যদি বহু দিনেও না শুকায়, বুঝতে হবে ভিটামিন ডি-র অভাব হয়েছে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে নতুন চামড়া গজাতে সাহায্য করে। আর এর কারণে এটি শরীরে যে কোনো ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। তাই আপনার শরীরে ক্ষত না শুকানো বিষয়টি হয়ে থাকলে বুঝতে হবে এটি ভিটামিন ডির অভাব। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলেও এমন হতে পারে। ঠিক কোন কারণে ক্ষত শুকাচ্ছে না, তা রক্ত পরীক্ষা করেই বলা সম্ভব।

৩. হাড় ও পিঠব্যথা করা:

শরীরের ক্যালসিয়াম এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে ভিটামিন ডি। আর ক্যালসিয়মের ভারসাম্য নষ্ট হলে হাড় ও পিঠব্যথা করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত এ সমস্যাগুলো বোধ করলে বুঝতে হবে এটি ভিটামিন ডির ঘাটতি।

৪. মাংসপেশির ব্যথা:

ভিটামিন ডি শরীরের মাংসপেশিকে দৃঢ়তা প্রদান করে। আর এটির অভাব হলে মাংসপেশি ব্যথা করার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৫. চুল পড়ে যাওয়া:

প্রতি দিনই আমাদের অল্পস্বল্প চুল পড়ে। শরীরে পুষ্টির অভাব থাকলে চুল পড়ে যেতে পারে। আবার ভিটামিন ডির অভাবেও চুল পড়তে পারে অতিমাত্রায়। তাই অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখলে হতে পারে এটি ভিটামিন ডির ঘাটতির কারণ।

৬. ক্লান্ত বোধ বেড়ে যাওয়া:

ভিটামিন ডির অভাব হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও ক্লান্ত বোধ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এটি ভিটামিন ডির ঘাটতির লক্ষণ।

৭. সারা ক্ষণ মনখারাপ: অনেক সময় ভিটামিন ডি-র অভাবে অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য মনোবিদরা অবসাদ কাটাতে অনেক সময় রোদে অল্প হাঁটাহাঁটির পরামর্শ দেন। এতে শরীরে ভিটামিন ডি-র উৎপাদন বাড়ে।

উপরে উল্লেখিত প্রতিটা সমস্যাই আলাদা আলাদা কারণে দেখা দিতে পারে। কিন্তু যদি সব ক’টি সমস্যা একসঙ্গে দেখা দেয়, তা হলে বুঝতে হবে ভিটামিন ডি-র অভাব হয়েছে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল।

ভিটামিন ডি এর অভাব কেন হয়?

যাবতীয় দোষ কিন্তু আপনারই। রোদ গায়ে না মাখা মানেই শরীর জুড়ে ভিটামিন ডি-এর অভাব। এছাড়াও, যাঁরা ওবেসিটিতে ভুগছেন এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার কম খান, ঘরে বেশি কাটান তাঁরাই সাধারণত এই সমস্যায় ভোগেন।

বুঝবেন কীভাবে: 

একমাত্র ২৫-হাইড্রক্সি ভিটামিন ডি ব্লাড টেস্ট বলে দিতে পারে, আপনি এই সমস্যায় ভুগছেন কিনা। যদি আপনার রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ২০ মিলিমিটার থেকে ৫০ মিলিমিটার থাকে তাহলে কিন্তু শিরে এছাড়া, ওপরে বলা সমস্যাগুলির একাধিক দেখা দিলেই বুঝবেন, আপনি ডেঞ্জার জোনে।

ভিটামিন ডি-এর অভাবে সবার আগে ক্ষয়ে গিয়ে পাতলা হয়ে যাবে হাড়। তাই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝতে হয় যে, ভিটামিন ডি'র ঘাটতি রয়েছে কিনা।

সমস্যা ও সমাধান:

ভিটামিন 'ডি' আমাদের শরীরে হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। হাড় ভালো রাখতে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। কিন্তু ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার আর ওষুধ হিসেবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন 'ডি' প্রয়োজন। ভিটামিন 'ডি'র অভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া হতে পারে। এটির ফলে হাড়ের গঠনে বিকৃতি দেখা দেয়। ভিটামিন 'ডি'র অভাবের জন্য জীবনযাপনজনিত অভ্যাসও দায়ী। দুধ কম খাওয়া বা শরীরে রোদ না লাগানো বা এয়ারকন্ডিশনড গাড়িতে যাতায়াত করা বা সারা দিন ঘরে বসে কাজ করার ফলে এ রকম হতে পারে। বয়স্ক মানুষ শীতকালে একেবারেই বাইরে না বেরোলে তাদেরও ভিটামিন 'ডি'র অভাব দেখা দিতে পারে ব্যাপক হারে। তবে দুপুরবেলা কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। বরং সকালের হালকা রোদ কিছুক্ষণ গায়ে লাগতে দিন।

ভিটামিন 'ডি'র অভাবে হাড় নরম হয়ে যায়। এই অসুখের রোগীরা বারবার পড়ে যান। এতে হাড় ভেঙে যায়। যাঁদের গায়ের রং খুব কালো বা পিগমেন্টেশন বেশি, তাদের শরীরে সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ঢুকতে বাধা পায়। তাঁরা ভিটামিন 'ডি'র অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

আবার শারীরিক ওজন বেশি যাদের তাদেরও ভিটামিন 'ডি'র অভাব হতে পারে। চর্বিতে দ্রবীভূত হয় বলে এ সমস্যাটি মোটা মানুষের হয়। এ ছাড়া সিরোসিস অব লিভার বা কিডনির কিছু অসুখে এই ভিটামিনের অভাব হতে পারে।

ভিটামিন 'ডি'র অভাব হচ্ছে কি না তা নির্ণয় করতে ভিটামিন 'ডি' এস্টিমেশন নামের একটি পরীক্ষা লাগতে পারে। এই পরীক্ষায় যথেষ্ট খরচ হয়। মনে রাখা দরকার, ভিটামিন 'ডি'র অভাব হলে সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ হিসেবে ভিটামিন 'ডি' গ্রহণ করলে সব সময় লাভ হয় না। বরং না বুঝে বেশি সাপ্লিমেন্ট খেলে ভিটামিন 'ডি' টক্সিসিটি হতে পারে। এতে অবস্থা গুরুতরও হতে পারে।

অস্টিওপোরেসিসের চিকিৎসায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট আর ভিটামিন 'ডি' যদি বেশি মাত্রায় দেওয়া হয়, তাহলে মিল্ক-অ্যালকালি সিনড্রোম হতে পারে। এর থেকে রেনাল ফেইলিওর বা কিডনি বিকল হতে পারে। মুখে সেবনযোগ্য ভিটামিন 'ডি' বেশি গ্রহণ করলে হাইপারভিটামিনোসিস 'ডি' হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। ফলে হাইপাক্যালসিমিয়া, এমনকি কিডনিতে পাথরও জমতে পারে।

কিন্তু রোদে দাঁড়িয়ে ভিটামিন গ্রহণ করলে বা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন 'ডি' শরীরে প্রবেশ করলে তা কখনোই টঙ্কি লেভেলে পৌঁছে না। ফরসা লোকদের মেলানিন পিগমেন্টেশন বেশি বলে খুব দ্রুত ভিটামিন 'ডি' সিন্থেসিস হয়। অপেক্ষাকৃত শ্যামলাবর্ণের লোকদের রোদে থাকতে হয় আরো একটু বেশি। সাধারণভাবে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট সরাসরি রোদের সংস্পর্শে গেলে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।

৩০-৫০ ন্যানোগ্রাম হলো ভিটামিন 'ডি'র আদর্শ পরিমাপ। কারো যদি এই মাত্রা ২০-এর নিচে হয়, তাহলে তাকে সাপ্লিমেন্ট দিতে হয়। সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে রোজ ৮০০ আই ইউ সাপ্লিমেন্ট দিতে হয়। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টের ডোজ বাড়ানোও যায়। সাপ্লিমেন্ট সেবনের সময় রোগীকে সব সময় মনিটর করা উচিত। কারণ ভিটামিন ডি টক্সিসিটি বা বিষক্রিয়া হতে পারে। তাই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সেবনকালে পরীক্ষার মাধ্যমে এর মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ করা খুব জরুরি।

অনেক সময় ডাক্তার রোগীর বর্ণনা ও ইতিহাস শুনে বুঝতে পারেন ভিটামিন ডি'র অভাব হয়েছে কি না। সেক্ষেত্রে টেস্ট না করিয়েও ছয় থেকে আট সপ্তাহের জন্য সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। পাশাপাশি কী কারণে ভিটামিন 'ডি'র অভাব হচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করে তার চিকিৎসা করা হয়। সঙ্গে লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • ডাক্তার শাহজাদা সেলিম, সহকারী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কালের কণ্ঠ।
  • যুগান্তর।
  • আনন্দবাজার।
  • এনডিটিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.