Metabolism কি এবং কিভাবে?
কিছু মানুষ জল খেয়েও মোটা হন৷ কারও আবার চর্ব–চোষ্য খেয়েও ওজন বাড়ে না৷ শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার কম হলেই এই তারতম্য ঘটে৷ তবে সুখের কথা, বিজ্ঞানীদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র আছে যার সাহায্যে তাঁরা ঢিলেঢালা বিপাক ক্রিয়াকে চাঙ্গা করে দিতে পারেন৷
তার পর তা বজায় রেখে চলতে পারলে আর ওজন নিয়ে ভাবতে হয় না৷ তবে যদি কোনও অসুখ–বিসুখের কারণে বিপাক ক্রিয়া কমে থাকে, একই সঙ্গে সেই অসুখের চিকিৎসাও করতে হয়৷
অস্ত্র বলতে কয়েকটি সরল পন্থা— যাকে জীবনযাপনের অঙ্গ করে নিলে যে কোনও বয়সে স্লিম ও ফিট থাকা যায়৷ হ্যাঁ, মধ্যবয়সেও৷ যখন যৌন হরমোনের অভাব ও এজিং প্রসেসের দৌলতে সারা শরীর, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমতে থাকে, বাড়ে হৃদরোগ, রক্তচাপ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবিটিস, হাই কোলেস্টেরলের আশঙ্কা— তখনও এই সব পন্থা কাজ করে, যাদের বলে মেটাবলিজম এনহান্সার। সেই তালিকায় আছে কয়েকটি খাবার, দু’–চারটে নিয়ম, ঘুম, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও কিছু ব্যায়াম।
সুস্থ থাকতে, ওজন কমাতে মেটাবলিজ়ম রেট বাড়াতেই হবে। কথাটা আমরা হামেশাই শুনে থাকি। কিন্তু মেটাবলিজ়ম রেট বাড়বে কী ভাবে? প্রধানত তিনটি দিক মাথায় রাখতে হবে। এক্সারসাইজ়, খাওয়াদাওয়া এবং লাইফস্টাইল।
বিপাক ক্রিয়া (Metabolism) কাকে বলে?
কোন জীবের দেহে সংঘটিত সকল রাসায়নিক বিক্রিয়াকে একত্রে বিপাক (Metabolism metabolē, পরিবর্তন) বলে।
(রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক বা একাধিক পদার্থ, ভিন্ন পদার্থে রূপান্তরিত হয়)
বিপাক ২ প্রকার: ক্যাটাবলিজ়ম, অ্যানাবলিজ়ম।
অ্যানাবলিজ়ম সংশ্লেষণ বা অ্যানাবলিক: যা অসংখ্য ক্ষুদ্র অংশকে সংযুক্ত করে বৃহৎ অংশ গঠন করে। যেমন প্রোটিন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড; শরীরের চালিকাশক্তিই হল খাবার। আমরা যে খাবার খাই, তা থেকেই পেশি, রক্ত, কোষ ইত্যাদি তৈরি হয়। অর্থাৎ শরীর গঠনের কাজে (বিল্ডআপ) লাগে। এটাকে বলে অ্যানাবলিজ়ম।
ক্যাটাবলিজ়ম বিশ্লেষণ বা ক্যাটাবলিক: যা জৈব পদার্থকে ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে; খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় এনার্জিও পায়। যা আমাদের সারা দিনের কাজে খরচ (ব্রেক ডাউন) হয়। এটাকে বলে ক্যাটাবলিজ়ম।
অ্যানাবলিজ়ম এবং ক্যাটাবলিজ়ম মিলেই হয় মেটাবলিজ়ম, যা বাড়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। মেটাবলিজ়ম কম থাকা মানে শরীরে খাবার জমছে। অর্থাৎ সেটা খরচ হচ্ছে না। মেদবৃদ্ধি এ ভাবেই হয়ে থাকে। আর তা ডেকে আনে নানা রোগব্যাধি।
বিপাকে সংঘটিত ক্রিয়া-বিক্রিয়া বিপাকীয় পথ অনুসরণ করে যেখানে একটি কেমিক্যাল এনজাইমের সাহায্যে বিভিন্ন সিরিজের মাধ্যমে আরেকটি কেমিক্যালে রূপান্তরিত হয়। বিপাকের জন্য এনজাইম আবশ্যক। খুব দ্রুত বিক্রিয়া সংঘটনের পাশাপাশি কোষের পরিবেশ পরিবর্তিত কিংবা অন্য কোষ থেকে সংকেত পেলে এনজাইম বিপাকের পথও নিয়ন্ত্রণ করে ।
কোন জীবের বিপাকীয় পথ নির্ধারণ করে কোন উপাদানটিতে এটি পুষ্টি পাবে এবং কোনটি বিষাক্ত। উদাহরণস্বরূপ: কিছু প্রোক্যারিয়ট হাইড্রোজেন সালফাইডকে নিউট্রিয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে যদিও এই গ্যাস প্রাণীর জন্যে ক্ষতিকর। বিপাকের গতি, হার একটি জীব কতটুকু খাদ্যের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করে।
যে ৫ অভ্যাস আপনার বিপাক ক্ষমতা নষ্ট করছে:
সক্রিয় মেটাবলিজম বা বিপাক ক্ষমতা আমাদের অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। বিপাকীয় হার নির্ধারণ করে যে কত ক্যালোরি পোড়ানো হবে। এটি আমাদের রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং রক্তচাপের মাত্রার যত্ন নিয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদিও আমরা সবাই মেটাবলিজম বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় জানি, কিন্তু আমরা যা জানি না তা হলো কিছু সহজ অভ্যাস আমাদের মেটবলিজম বা বিপাক ক্ষমতাকে নষ্ট করতে পারে।
জেনে নিন এমন পাঁচটি অভ্যাস সম্পর্কে-
খুব কম খাবার খাওয়া:
অনেকের একটি ভুল ধারণা আছে যে কম ক্যালোরি খেলেই তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে ক্যালোরি কম গ্রহণ করলে তা বিপাক কমাতে পারে। যদিও ওজন কমানোর জন্য ক্যালোরি ঘাটতি (শরীর যা পোড়াতে পারে তার চেয়ে কম ক্যালোরি খাওয়া) তৈরি করতে হবে, তবে খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের শরীর খাদ্যের অভাব অনুভব করে এবং ক্যালোরি পোড়ানোর হার কমায়।
অলস জীবনযাপন:
অলস বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করলে তা প্রতিদিনের ক্যালোরি পোড়ানোর হার অনেকটা কমিয়ে আনে। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে আমরা অনেকেই বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছি। ফলে সারাদিন বসে থাকা হচ্ছে। এতে বিপাকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রতিটি শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন হাঁটা, ঘর পরিষ্কার করা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, রান্না করা সবকিছুই আপনাকে ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের কার্যকলাপকে নন-ব্যায়াম কার্যকলাপ থার্মোজেনেসিস বলা হয়।
প্রোটিন গ্রহণ না করা:
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখে এবং আপনার শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর হার বাড়ায়। যখন আপনি খাবার হজম করেন, তখন বিপাকের বৃদ্ধি ঘটে, যাকে বলা হয় খাবারের তাপীয় প্রভাব।
প্রোটিনের তাপীয় প্রভাব চর্বি বা কার্বসের তুলনায় অনেক বেশি। প্রোটিন খেলে আপনার বিপাক ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, কার্বোহাইড্রেট খেলে ৫-১০ শতাংশ এবং চর্বিতে ৩ শতাংশ বা তার চেয়ে কম।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া:
সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। কম ঘুম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং বিষণ্নতাসহ অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম বিপাকীয় হার কমিয়ে দিতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ায়। সময়মতো না ঘুমালে তা ঘুমের চক্রকে ব্যাহত করে। এতে নষ্ট হতে থাকে মেটবলিজম ক্ষমতা।
প্রচুর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খাওয়া:
রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট কঠিন কার্বোহাইড্রেটের মতো নয়। এগুলো সহজেই হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এগুলো ভাঙার জন্য আমাদের শরীর কম শক্তি ব্যবহার করে। প্রচুর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খেলে তা মেটাবলিজমকে ধীর করে দেয়। এর বদলে আস্ত শস্য খাওয়ার অভ্যাস করুন। এগুলো ভেঙে শক্তি বের করার জন্য শরীর কঠোর পরিশ্রম করে এবং এতে আপনার ক্যালোরি পোড়ানো সহজ হয়।
মেটাবলিজম বাড়ানোর পদ্ধতি:
এক্সারসাইজ প্রধান:
(পর্ব-১) মেটাবলিজ়ম বাড়ানোর জন্য হাই ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ় প্রয়োজন। মানে শরীর যে খাটনিটা নিতে সক্ষম, তার চেয়ে বেশি খাটাতে হবে শরীরকে। জোরদার কার্ডিয়োভ্যাসকুলার এক্সারসাইজ় প্রয়োজন। আপনি ভাবছেন রোজ আধঘণ্টা হাঁটেন, তা হলে নিশ্চয়ই মেটাবলিজ়ম রেট ভাল হবে। তা কিন্তু না-ও হতে পারে। কতটা ক্যালারি বার্ন হচ্ছে, হার্ট রেট কতটা বাড়ছে সে-সবও এ ক্ষেত্রে বিচার্য। ধীরে নয়, জোরে হাঁটুন। যাঁরা জোরে হাঁটতে পারেন, তাঁরা জগিং করুন। যাঁরা জগিংয়ে সক্ষম, তাঁরা দৌড়োন। অর্থাৎ একটু করে এক্সারসাইজ়ের গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন। বক্সিং, জোরে সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা— এগুলিও করতে পারেন।
যে সব ব্যায়াম শরীরের জোর বাড়ায় সেগুলি করলেও মেটাবলিজ়ম রেট বাড়বে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞ চিন্ময় রায়ের পরামর্শ, ‘‘স্কোয়াট, লাঞ্জেস, পুশআপ, পুলআপ, প্লাঙ্ক, সাইড প্লাঙ্ক— এই ছ’টি এক্সারসাইজ় যদি কেউ পরপর করতে পারেন, তা হলে হার্ট রেট বাড়বে।’’ তবে হাড় বা পেশি সংক্রান্ত কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
(পর্ব-২) মাঝবয়সে বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে টানটান শরীর পেতে গেলে বেশ কসরত করতে হবে৷ সম্ভব হলে জিমে গিয়ে, ভাল ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে৷ কী করবেন, কী ভাবে করবেন দেখে নিন৷ বয়সের সঙ্গে শরীরের নমনীয়তা কমে বলে ওয়ার্ম আপ না করলে চোট লেগে যেতে পারে৷ কাজেই ব্যায়াম শুরুর আগে স্ট্রেচিং করার পাশাপাশি, মিনিট পাঁচেক জোরে হেঁটে নিন৷
‘দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করা দরকার৷ অর্থাৎ দ্রুত গতিতে হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, নাচ ইত্যাদি৷ ফিটনেস বেশি থাকলে সপ্তাহে ৭৫ মিনিটের মতো জগিং, দৌড়োনো, কিক বক্সিং ইত্যাদি করতে পারেন৷ হার্ট ভাল থাকবে৷ চর্বিও গলবে৷
‘আমেরিকান কলেজ অফ স্পোর্টস মেডিসিন’-এর মতে এক দিন অন্তর ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে বিপাক ক্রিয়া এত বাড়ে যে শুয়ে–বসে থাকার সময়ও চর্বি গলতে থাকে৷ উপরি পাওনা, পেশি ও হাড় শক্ত হওয়া৷ কাজেই হালকা ওজন নিয়ে বা ওয়েট ট্রেনিং মেশিনে ব্যায়াম করুন৷ খেয়াল রাখতে হবে যাতে সব পেশিরই যেন ব্যায়াম হয় ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে৷
‘আমেরিকান কলেজ অফ স্পোর্টস মেডিসিন’-এর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সপ্তাহে অন্তত ২–৩ দিন যোগা, মেডিটেশন, প্রাণায়াম করা জরুরি৷ এতে নমনীয়তা বেড়ে বড় ধরনের ব্যায়াম করার সুবিধে হয়৷ কমে মানসিক চাপ৷
সব শেষে হালকা স্ট্রেচ বা ২–৫ মিনিট হেঁটে শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন৷
খাদ্যাভ্যাসে নজর দিন:
(পর্ব-১) খেয়ে বাড়ান বিপাক ক্রিয়া:
খাওয়া খুব কমালে বিপাক ক্রিয়া কমে যায়৷ শরীরকে শক্তির জোগান দিতে তখন পেশি ক্ষয়ে যেতে শুরু করে৷ পেশির ক্ষয় মানে শুয়ে–বসে থাকার সময় যে ক্যালোরি খরচ হয়, তা কমে যাওয়া। ফলে প্রথমে ওজন কমলেও পরে আর কমে না৷ কাজেই খাওয়া–দাওয়ার দিকে নজর দিন৷ কী খাবেন, কী ভাবে খাবেন তা জানেন? আপনার জন্য রইল টিপস।
শরীরের আভ্যন্তরীণ কাজকর্ম চালাতে যতটুকু ক্যালোরি লাগে (শুয়ে–বসে থাকায় অভ্যস্ত মাঝবয়সী মহিলাদের মোটামুটি ১২০০–১৩০০ ক্যালোরি, পুরুষদের ১৪০০–১৫০০ ক্যালোরি), সেটুকু অবশ্যই খান৷ কাজকর্ম বা ব্যায়াম করলে ১৬০০, ১৮০০, এমনকি ২০০০ ক্যালোরিও খেতে হতে পারে৷ এই ক্যালোরির প্রায় সবটাই যেন স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে আসে৷ সকালের চা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত, কম করে বার ছয়েক খান৷ এতে বিপাক ক্রিয়া যেমন সচল থাকে, বাড়াবাড়ি খিদে পায় না বলে বেশি খেয়ে ফেলার আশঙ্কা কমে৷ দিনের শুরুতেই বিপাক ক্রিয়ার হার বাড়াতে প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খান৷ না হলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা বাড়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ৷ দিনে দু’–তিন বার দুধ–চিনি ছাড়া চা বা কফি খান৷ কফির ক্যাফেইন ৫–৮ শতাংশের মতো বিপাক ক্রিয়া বাড়ায়৷ তার জেরে ৯৮–১৭৪ ক্যালোরি খরচ হয়৷ চায়ে বিপাক ক্রিয়া বাড়ে প্রায় ১২ শতাংশ৷ গ্রিন টি আরও ভাল৷ ওজন নিয়ে ব্যায়াম করার সঙ্গে খেলে চর্বি বেশি পোড়ে৷ দিনে ২৫–৩০ গ্রামের মতো ফাইবার খেলে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো চর্বি কমে৷ ৩ রকম ফল ও ৩ রকম শাক–সব্জি খেলেই এই পরিমাণ ফাইবার এসে যায়৷ চেষ্টা করুন তিসি, ব্রাসেল স্প্রাউট, অ্যাভোকাডো, ব্রকোলি, আমন্ড বাদাম, প্রাকৃতিক ওটস ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে৷ দিনে ৬ কাপ ঠান্ডা জল (ঘরের তাপমাত্রায়) খেলে ৫০ ক্যালোরির মতো বেশি খরচ হয়৷ ঠান্ডা জলকে শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসতে যে কাজ করতে হয়, তার সূত্রেই এই উপকার পাওয়া যায়৷ অরগ্যানোক্লোরিন মেশানো কীটনাশক চর্বিকোষে সঞ্চিত হয়ে চর্বি গলানোর হার ধীর করে দেয়৷ কাজেই জৈব শাক–সব্জি–ফল খেতে পারলে ভাল৷ দামের কারণে সব কিছু খেতে না পারলেও অন্তত পিচ, আপেল, বেল পেপার, সেলারি, স্ট্রবেরি, চেরি, লেটুস ইত্যাদি খান৷ দিনের প্রতিটি খাবার যেন প্রোটিনে ভরপুর থাকে৷ পেট বহু ক্ষণ ভরা থাকে তাতে৷ বেশি তৃপ্তি হয় বলে টুকটাক খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, ক্যালোরি খরচও বেড়ে যায় প্রায় ৩৫ শতাংশ৷ চাই ভিটামিন ডি৷ কাজেই দুধ, দই, ছানা, ডিম ইত্যাদি খাওয়ার পাশাপাশি সকালে ২০–৩০ মিনিট রোদ লাগান গায়ে৷ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন, ফ্যাট–ফ্রি দুধ, দই, ছানা, পনির, ইয়োগার্ট ইত্যাদি খান৷ প্রয়োজনে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে৷ নিয়মিত শেল ফিস, চর্বি ছেঁটে ফেলা মাংস, বিন, আয়রন ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, পালং ইত্যাদি খান৷ শরীরে আয়রন পর্যাপ্ত থাকলে চর্বি বেশি গলে৷ মাঝেমধ্যে এক–আধ পেগ মদ খেতে পারেন৷ কিন্তু দ্বিতীয় পেগটি ঢালার আগে দু–বার ভাবুন৷ কারণ ফ্যাটের বদলে মদকেই তখন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে শরীর৷ তাই এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়াই স্বাস্থ্যকর।
| মেটাবলিজম বাড়াতে শীতে বিটের রস খান নিয়মিত। |
(পর্ব-২) সুষম আহার সব কিছুর গোড়ার কথা। তার সঙ্গে দিনে আপনি কত বার খাবার খাচ্ছেন, সেটাও জরুরি। সারা দিনে তিন-চারবার খাবার খেলে মেটাবলিজ়ম রেট কম হবে। শরীরের নিজস্ব কিছু কার্যবিধি রয়েছে। শরীর যদি বোঝে কম খাবার ঢুকছে, তা হলে সে তা জমিয়ে রাখে। যে কারণে উপোস করলে ওজন কমবে, এই ধারণা নস্যাৎ করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। দু’টি মিলের মাঝের বিরতিও যেন বেশি না হয়।
মেটাবলিজ়ম রেট বাড়াতে হাই ফাইবার ডায়েট প্রয়োজন। হোলগ্রেন, ফল, আনাজ জাতীয় খাবার ডায়েটে রাখার চেষ্টা করুন। প্রোটিনও সমান জরুরি। সিদ্ধ ডিম, চিকেন রাখুন রোজকার তালিকায়। খেতে হবে পরিমাণ মতো জলও।
লাইফ থাকুক স্টাইলে:
(পর্ব-১) ঘুম, মানসিক চাপ ও কাজকর্ম:
ভাল করে ঘুমোন৷ খুব কম ঘুমোলে শরীরে খিদের হরমোন বেড়ে যায়৷ কমে তৃপ্তির হরমোন লেপটিন৷ আর বেশি খাওয়ার হাত ধরে ওজন বাড়ে৷ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পর্যাপ্ত ব্যায়ামের পাশাপাশি যাঁরা দিনভর সচল থাকেন তাঁদের ৩০০–৪০০ ক্যালোরির মতো বেশি খরচ হয়৷ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা বিরাট৷ কারণ মানসিক চাপ বাড়লে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন মানুষ, অনিয়ম করেন, বাড়ে অনিদ্রা ও বেশি খাওয়া৷ সবে মিলে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে যায়৷ আবার কর্টিসোল বাড়ে বলে পেটে বেশি চর্বি জমে৷ কাজেই যোগা, মেডিটেশন ও ব্যায়াম করে মানসিক চাপ বশে রাখুন৷ প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন৷”
(পর্ব-২) মেটাবলিজম রেট বাড়া বা কমার জন্য লাইফস্টাইল ভীষণ ভাবে দায়ী। ডিপ্রেশন, অ্যাংজ়াইটি, টেনশন বাড়লে মেটাবলিজ়ম রেট কমবে। ডিপ্রেশনে থাকলে অনেকে বেশি ঘুমোন। অ্যাংজ়াইটি বেশি হলে খাওয়া দাওয়া ভুলে যান। মানসিক সমস্যার চাপ বইতে হয় শরীরকেও। এর সঙ্গে হরমোনেরও যোগ রয়েছে। ভূমিকা রয়েছে খাওয়া দাওয়ারও। যেমন অবসাদ হলে শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। কড লিভার অয়েল, আমন্ড, ওয়ালনাট সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। তাই ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করুন।
শারীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন— তিনটি জিনিসের ব্যালান্সেই মেটাবলিজ়ম রেট থাকবে ঊর্ধ্বগামী।
ওজন কমানো সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক:
২১ দিনে ৯ কেজি ওজন কমানোর চ্যালেঞ্জ-...
কিটো ডায়েট সম্পর্কে জানুন-...
তথ্যসূত্র:
- বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, চিন্ময় রায়, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ, আনন্দবাজার।
- উইকিপিডিয়া।
- টাইমস অফ ইন্ডিয়া> একুশে টিভি
- Edited: Natural_Healing.
কোন মন্তব্য নেই