ভাতের ইতিকথা!
ভাতের প্রাচীন এবং আধুনিক ইতিহাস:
ভাত বা অন্ন চালকে জলে সেদ্ধ করে তৈরি খাবার। ভাত বাংলাদেশের ও ভারতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রধান খাদ্য। এছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশে ভাত খাওয়ার চল রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও চীন জাপান ও কোরিয়ায় ভাত খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে স্থান ভেদে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন রকম ভাত খাওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ ঝরঝরে ভাত খাওয়া হয়। কিন্তু চীন জাপান ও কোরিয়ায় আঠালো ভাব খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
| সিদ্ধ চালের ভাত। |
শুধু খাওয়া ছাড়াও ভাত দিয়ে আরো বিভিন্ন রকমের খাদ্য প্রস্তুত করা হয়। তাদের মধ্যে পলান্ন (পোলাও), বিরিয়ানি, ফ্রাইড রাইস বহুল প্রচলিত এবং উল্লেখ্য।
- উৎপত্তিস্থল- ভারতীয় উপমহাদেশ
- প্রধান উপকরণ- চাল, পানি
- খাদ্য শক্তি- (প্রতি ১ পরিবেশনায়) ৮৫ কিলোক্যালরি (৩৫৬ কিলোজুল)
- অনুরূপ খাদ্য- বাপ, বিরিয়ানি, রিসত্তো
ভাত খেকো মানুষ হিসেবে আমাদের বেশ নাম ডাক রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভাত আর মাছ এই দুইয়ে মিলে এক সময় ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ বলেই আমাদের চিহ্নিত করা হতো। বাঙলার প্রতি গৃহস্থের ঘরেই এক সময় লালন করা হতো দুগ্ধবতী গাভী। ফলে দুধ আর ভাত মিলে ‘দুধে ভাতে বাঙালি’ এরকম একটি অবস্থাও এদেশে বিরাজ করছিল এক সময়। পরে অবশ্য মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় ‘ডালে ভাতে বাঙালি’ এরকম একটা প্রবাদ প্রায় চালু হতে না হতে ডালের মূল্যবৃদ্ধি তা আর বেশি দূর এগোতে দেয়নি। এসব আলোচনার মূল কারণ এই যে, সময়ে সময়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাস খানিক পরিবর্তন যে এসেছে তা তুলে ধরা। আবার এটিও স্পষ্ট করা যে, ভাতের সহযোগী অন্যান্য খাদ্যে খানিক পরিবর্তন এলেও ভাত সেই প্রাচীন কাল থেকেই বাঙালির প্রধান খাদ্য হিসেবে তার স্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে। সে কারণে ধান আমাদের প্রাণ আর ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য।
বলা বাহুল্য ভাত আমাদের একমাত্র খাদ্য নয়, প্রধান খাদ্য। বলা নিষ্প্রয়োজন যে, আমাদের ভাত খাওয়াটা নির্বিঘা করার জন্য সাথে কিছু তরকারির প্রয়োজন হয়। সেসব তরকারি তেল মশলা দিয়ে এমনভাবে রান্না করা হয় যেন তা ভাত খাওয়াটাকে সহজতর ও আনন্দদায়ক করে তুলে। অনেক সময় মশলার বাহুল্য তরকারিতে এতটাই থাকে যে তাতে কম তরকারি দিয়ে খানিক বেশি ভাত খাওয়া যায়। লক্ষ্য আসলে আমাদের ভাতটা খাওয়া। তবে আমার ভাত খাব কিন্তু খানিকটা কম।
প্রস্তুতপ্রণালী: জনমানসে প্রচলিত ছড়া;
চাউল দিবে যত তত।
জল দিবে তার তিন তত।।
ফুটিলে ভাতে কাঠি।
তারপর দাও জ্বালে ভাটি।।
চালকে জলে সেদ্ধ করে ভাত রান্না করা হয়। তবে চালের বিভিন্ন প্রকরণের উপরে বিভিন্ন রকম ভাত রান্না করা হয়। চাল প্রধানত দুই প্রকার -
সিদ্ধ চাল
আতপ চাল
চাল ভালো করে ধুয়ে পর্যাপ্ত পরিমান জলে পরিমিত সিদ্ধ করে নামিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ঝরঝরে ভাতের জন্য ফ্যান ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু আতপ চালের ক্ষেত্রে মাড় বা ফ্যান ফেলা হয় না।
সিদ্ধ চাল রান্না করার পর মাড় না ফেলে ভাত রান্নাকে অনেক অঞ্চলে বসা ভাত বলা হয়। এক্ষেত্রে চালের সঙ্গে ঠিক দিগুণ পরিমাণ পানি হাড়িতে চড়িয়ে ভাত রান্না করা হয়, এরচেয়ে কম বা বেশি পানি দিলে বসা ভাত রান্না করা সম্ভব হয় না। পুষ্টিমাণের দিক থেকে বসা ভাতের মান অনেক উপরে, আর তা মাড় ফেলে দেওয়ার অপচয়কে রোধ করে, পাশাপাশি মাড়ে থাকা পুষ্টিগুলো ভাতে থেকে যায় বলে বসা ভাতকে বিশেষজ্ঞগণ মাড় গালা ভাত থেকে অনেক বেশি উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে থাকেন।
| একটি চালের পিঠা। |
বাঙালি খাদ্যাভাসে ভাত আদিযুগ থেকেই রয়েছে। আদি যুগের প্রাকৃত ভাষায় লিখিত প্রাকৃত পৈঙ্গল গ্রন্থে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে
ওগগর ভত্তা রম্ভঅ পত্তা গাইক ঘিত্তা দুগ্ধ সাজুত্তা।
অর্থাৎ কলাপাতায় গরম ভাত গরুর গরুর দুধের ঘি সহযোগ খাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
মধ্যযুগে বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের চৈতন্য ভাগবতে চৈতন্যদেবের আহারের বর্ণনা দিতে গিয়ে দিব্য অন্ন ঘৃত দুগ্ধ পায়স এর উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সার্বভৌম ভট্টাচার্যের কাছে গৌরচন্দ্রের নিমন্ত্রণের উল্লেখ করে লেখা হয়েছে
বর্তিসা কলার এক আঙ্গেটিয়া পাত,
ঊণ্ডারিল তিন মান তাম্বুলের ভাত
পীত সুগন্ধী ঘৃতে অন্ন সিক্ত কৈল,
চারিদিকে পাতে ঘৃত বহিয়া চলিল।
সেই সময়ে ভাতের সঙ্গে ঘি খাওয়ার বহুল প্রচলন ছিল। বর্তমানে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও ঘি-ভাতের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
পরিবেশনা:
এটি সাধারণত শুকনো অবস্থায় পরিবেশিত হয়। সাথে অন্য পথ দিয়ে খাওয়া হয়। এই পদ লবণ (যারা আর কিছু যোগাড়ের সামর্থ্য নেই) থেকে মাখন বা ঘি, কোনো তরকারী , মাছ বা মাংসের ঝোল হতে পারে। একদিন বা তার বেশি জলে ভিজিয়ে বাসি করে লেবুর রস ও লবণ মিশিয়ে তখন খাওয়া হয়, তাকে পান্তাভাত বলে।
বিভিন্নতা:
ভাত প্রধানত সাদা রং এর হয়। তবে চাল এর জাত এর উপর ভিত্তি করে হালকা সোনালী রঙ, বাদামী রং এর হতে পারে।
পুষ্টিমান:
ভাত প্রধানত শর্করা সরবরাহ করে। তবে এতে কিছুটা আমিষও পাওয়া যায়।শর্করা ৭৯%,স্নেহ ৬%,কিছু পরিমানে আমিষ,ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।
ভাত রান্না করে মাড় বা ফেন ফেলে দিলে ভাতে স্টার্চের অংশ অনেক কমে যায়। ফলে অনেক ভাত খেয়েও মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এ ধরনের ভুল ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ফুুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গাইজেশন অফ ইউনাইটেড নেশনসর (এফএও) এর গবেষণা রিপোর্টসহ একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, ভাতের মাড় ফেলে দিলে মাড়ের সঙ্গে শর্করাসহ ১৮ রকমের পুষ্টি উপাদান অপচয় হয়ে যায় যা বসা ভাতে বিদ্যমান থাকে। আর এই পুুুুুষ্টি উপাদানগুলো শর্করার ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকটাই কমিয়ে আনে। বিজ্ঞান গবেষক গাজী রফিক ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত করা গবেষণায় দেখিয়েছেন, মাড় ফেলা পদ্ধতিতে ভাত রান্নার কারণে চাল অপচয়ের মাত্রা ১৩-১৫ শতাংশ। এতে ৪২-৫১ লাখ টন চাল অপচয় হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় বছরে ১৬৮০০-২০৪০০ কোটি টাকা (গড়ে ৪০ টাকা কেজি দরে)। এ পদ্ধতিতে রান্নার প্রচলনকে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলে জনপ্রিয় করা গেলে পুষ্টিঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি মোট জনসংখ্যার চাহিদার ১৩-১৫% সাশ্রয়ের মাধ্যমে ৪২-৫১ লাখ টন চালের অপচয় রোধ সম্ভব হবে। সেই সাথে আমদানি নির্ভরতাও কমে আসবে।
একথা সত্য যে, ভাত কেবল শর্করাই সরবরাহ করে না পাশাপাশি আমিষও সরবরাহ করে। পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষকে শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন শূন্য দশমিক আট গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হয়। সে হিসেবে একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষকে গ্রহণ করতে হয় (৬০×০.৮) গ্রাম অর্থাৎ ৪৮ গ্রাম আমিষ। এখন আমরা যে চাল খাই তাতে গড়পড়তা আমিষ থাকে কত ভাগ সেটি জানা দরকার। অধিকাংশ কলে ছাঁটা সাদা চালে আমিষ থাকে গড়পড়তা শতকরা ৬.৮ ভাগ। প্রতি ১০০ গ্রাম চালে যদি ৬.৮ গ্রাম আমিষ ধরা হয় তবে ৪৮ গ্রাম আমিষ পেতে হলে লাগে ৭০৫ গ্রামের বেশি চাল। ২০১০ এর FAO এর গবেষণা মতে আমরা গড়ে প্রতিদিন দানাশস্য গ্রহণ করছি ৪৬৪ গ্রাম যার ৪১৬ গ্রামই চাল। চাল হতে তাহলে আমরা পাচ্ছি প্রায় ২৮ গ্রাম আমিষ। অর্থাৎ হিসেব অনুযায়ী গড়ে চাল থেকে আমরা পাচ্ছি শতকরা ৫৮ ভাগ প্রতিদিনের আমিষ। ব্যক্তিবিশেষে ভাত খাবার ওপর নির্ভর করে এর রকমফের তো হতেই পারে। এ হিসাবের অর্থ ভাত আমাদের শর্করা এবং আমিষ দুটোই সরবরাহ করছে।
আমরা জানি আমিষ তৈরি হয় নানা রকম এমিনো এসিডের সংযোগে। কমপক্ষে ২০ রকম এমিনো এসিড কম বেশি থাকে আমিষে। এর মধ্যে ৯টি এমিনো এসিড যেমন- হিস্টিডিন, আইসোলিউসিন, লিউসিন, লাইসিন, মিথিওনিন, ফ্যানাইল এলানিন, থ্রিওনিন, ট্রিপটোফ্যান আর ভ্যালিন হলো অত্যাবশ্যক এমিনো এসিড যাকিনা বাড়তি খাবারের মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। আর বাকি এগারটি বডিতে অটোমেটিক ভাবে তৈরি হয়। অত্যাবশ্যক এমিনো এসিড মানুষের দেহে উৎপন্ন হয় না। এদের খাবারের সাথে অত্যাবশ্যকভাবে গ্রহণ করতে হয়। চালের আমিষ এই ৮টি এমিনো এসিডে সমপরিমাণে নেই। বরং চালে লাইসিন এবং থ্রিওনিন প্রাণিজ আমিষের তুলনায় বেশ খানিকটা কম পরিমাণে রয়েছে। ভাত হোক গম হোক দুটির ক্ষেত্রেই একথা সত্য। এর অর্থ হলো দানাশস্যের শর্করাজাত ভাত, রুটি গ্রহণ করে এ ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। এর জন্য অবশ্যই প্রাণিজ খাদ্যের পরিমাণ খানিকটা বাড়াতেই হবে।
দৈহিক একজন সুস্থ সবল বয়স্ক মানুষের যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ প্রয়োজন তার শতকরা ৬০-৭০ ভাগ আসতে হবে শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা মহাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি বহুবিধ পুষ্টি গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যজাত নির্ধারিত পরিমাণ। ফলে এ মাত্রা রক্ষা করার জন্য সচেতন হলে তা আমাদের জন্য দুই দিক থেকে লাভজনক হবে। এক, তাতে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান সহজ হবে এবং দুই, আমরা তাতে ক্রমশ সুষম খাবার গ্রহণ করার দিকে এগোতে থাকব।
জাতিসংঘের WHO/FAO এর হিসেব অনুযায়ী আমাদের ভাত গ্রহণ করা উচিত ৪০০ গ্রাম। বাকি ক্যালরি আসবে গম, গোলআলু এবং অন্যান্য খাবার থেকে।
ভাতের পরিমাণ খানিকটা কমালে এবং তা দিয়ে মাছ মাংস বা ফলমূল খাওয়া খানিকটা বাড়ালে একদিকে যেমন অত্যাবশ্যক এমিনো এসিডের ঘাটতি হ্রাস পাবে অন্যদিকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির তাতে সংস্থান হবে।
ভাত গ্রহণের পরিমাণ কমলে ধানের আবাদ খানিকটা কমাতে পারলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন খানিকটা হ্রাস করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে কোন কোন ধানের জমিতে ডাল-তেল-শাকসবজি বা ফলমূল আবাদ করে এদের ঘাটতি খানিকটা হ্রাস করা সম্ভব হতে পারে।
চালের লাল আবরণীতে ফ্যাটি এসিড থাকে যা চাল তৈরির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেলে দেয়া হয়। চালের আবরণীতে বিদ্যমান ফ্যাটি এসিড অসম্পৃক্ত প্রকৃতির বলে এগুলো দেহের কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চালের আবরণীতে টোকোফেরল, টোকোটেরিনল এবং অরাইজানল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বিদ্যমান। ফলে কলেছাঁটা মসৃণ চাল এখন সত্যি সত্যিই অনেক কম পুষ্টিসমৃদ্ধ। এ চালের ভাত আসলেই বেশি খেয়ে লাভ নেই। বরং এ চালের ভাত খানিক কম খেয়ে অন্য অনেক উৎস থেকে পাওয়া সম্ভব দেহের জন্য বাকি শর্করা।
ভাত আমাদের ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কোনো যুক্তি দেখিয়ে ভাত বেশি গ্রহণ করারও কোনো মানে নেই। বরং দেহের জন্য পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হলে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে খানিকটা পরিবর্তন আনাই দরকার। একদিনে তা হবে তা নয়, একদিনে হওয়ার প্রয়োজনও নেই। ভেবেচিন্তে সচেতনভাবে আমাদের বৈচিত্র্যময় উৎসজাত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। কেবল যা মন চায় তা নয় বরং যুক্তিসঙ্গতভাবে যা করা প্রয়োজন স্বাস্থ্য ও পুষ্টির স্বার্থে আমাদের তাই করা উচিত। আর শিক্ষিত মানুষের জন্য এ কাজটি করা যে বেশ জরুরি আমার কাছে সব সময় তা মনে হয়।
মাড়:
ভাতকে বেশি জল দিয়ে খুব বেশিক্ষণ ফোটালে ভাতের অধিকাংশ গলে ফেনের মধ্যে মিশে খুব ঘন স্টার্চের দ্রবণ (প্রলম্বন) তৈরি করে। একে বলে মাড়। কাপড় ইস্ত্রী করার আগে তাকে কড়া করবার জন্যে মাড়ে ভিজিয়ে শুকানো হয়। একে মাড় দেওয়া বলে।
ফেন:
ভাত ফোটাবার সময় অনেক ভাতের দানাই ফেটে গিয়ে তার মধ্যের স্টার্চ জলে মিশে যায়। এই স্টার্চ মেশা জলীয় অংশকে বলে ফেন বা ফ্যান। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইত্যাদি বাংলার বিভিন্ন দুর্ভিক্ষের সময় যখন চালের আকাল দেখা দেয়, ভাতের ফেন ভিক্ষা করা অনেক গরিব মানুষেরই ক্ষুণ্ণিবৃত্তির একমাত্র সহায় ছিল।
কিমা:
কিমা হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। শব্দটি সম্ভব গ্রীক শব্দ κιμάς থেকে এসেছে যার অর্থ পেষা মাংস[১]। এটা সাধারনত ছাগল বা ভেড়ার মাংসের সাথে সিমের বিচি বা আলুর সাথে পেষা হয়। যে কোন মাংস থেকেই কিমা প্রস্তুত করা যায়। কিমাকে কাবাবেও রুপান্তরিত করা যায়। অনেক সময় সিঙাড়া, সামুসা বা নানের মধ্যে কিমা ব্যবহার করা হয়। একই ধরনের খাবার আর্মেনিয়ায় ঘিমা ղեյմա এবং তুরষ্কে কিইমা" kıyma নামে পরিচিত।
কিমা তৈরির উপকরণ:
কিমার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় পেষা মাংস, সিম, আলু, ঘি, পেঁয়াজ, হলুদ, আদা, মরিচ, মটরশুটি এবং মশলা ।
| রুটির মধ্যে কিমা। |
মাংসের কিমা প্রস্তত করার আগে কিমার জন্য সঠিক মাংস নির্বাচন করতে হবে। শুধু মাংস বেছে নিতে হবে। কোনো প্রকার হাড়, রগ অথবা চর্বি কিছু থাকবে না। থাকলে কেটে নিতে হবে। রানের মাংস ভালো হবে।
ব্লেন্ডারের সাহায্যে অথবা কিমা তৈরির যন্ত্রের সাহায্যে কিমা তৈরী করা যায়। কিমার মেশিন দিয়ে করলে খুব সুন্দর লম্বা লম্বা কিমা বের হয়।
| পাকিস্তানের করাচিতে ভাতসহ কিমা। |
তথ্যসূত্র:
- উইকিপিডিয়া।
- ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, প্রফেসর, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা- ais.gov.bd.com
- Edited: Natural_Healing.
কোন মন্তব্য নেই