First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

মানষিক চাপ কমানোর কিছু খাদ্যাভ্যাস

মানসিক চাপ এমন একটা সমস্যা, যা থেকে চটজলদি রেহাই পাওয়া মুশকিল! বিভিন্ন কারণে আমরা অনেকেই দিনের বেশির ভাগ সময় মানসিক চাপের মধ্যে কাটাই যার প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের ওপরেও। মানসিক চাপ থেকে দেখা দিতে পারে উচ্চরক্তচাপ, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা এমনকি স্নায়ুর সমস্যাও

তাই সুস্থ থাকতে সবচেয়ে আগে আমাদের উদ্বেগ বা মানসিক চাপ দূর করা উচিত। উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কি চাইলেই দূর করা যায়? নিশ্চয়ই যায়। যেসব কারণে এই মানসিক চাপ তৈরি হয় তার মধ্যে রয়েছ-আমাদের বাস্তবতাকে মানতে না পার, ক্লান্তিকর কাজ, ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস, দূষণ এবং আলস্য। আর এসব কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপে পড়ে এক-একজন করে ফেলছেন এক-এক রকম আচরণ।

*প্রথমত জানতে হবে মানসিক চাপের কারণে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমাদের প্রতিরক্ষার জন্য, আমাদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হয় এবং এটি প্রাকৃতিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এতে ঘাবড়ে গেলেই বিপদ। তাই মানসিক চাপ তাৎক্ষণিক মোকাবেলা করার মনোবল রাখতে হবে। কেউ দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং সেগুলোর ক্ষতিকারক প্রভাব কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

* দ্বিতীয়ত যেসব সমস্যার কারণে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে যেসব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে ধীরস্থির হয়ে, বিচক্ষণতার সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে প্রফেশনাল কারও সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

কোনো কিছু নিয়ে বেশি মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। মানসিক চাপ থেকে শারিরীক অসুস্থতা হতে পারে।

এমন বেশ কিছু খাবার আছে, যা খেলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ নিমিষেই কেটে যেতে পারে। আসুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই-

  • কাঠবাদাম: এতে রয়েছে ভিটামিন বি আর ভিটামিন ই, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকর। যখন আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, তখন আমরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় কম ভোগী। তাই প্রতিদিন অন্তত ৫-৬টি কাঠবাদাম পাতে রাখুন। উপকার পাবেন।
  • চিনি খান: যদিও অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তবে মানসিক চাপ কাটাতে সামান্য চিনি খেয়ে দেখতে পারেন। এতে আমাদের মস্তিষ্কের উদ্দীপ্ত পেশিগুলো শিথিল হওয়া শুরু করে এবং মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যারা, তাদের জন্য এই পদ্ধতি একেবারেই উচিত নয়। 
  • মধু খান: চিনির বিকল্প হিসেবে অনেকেই আজকাল মধু ব্যবহার করেন। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতেও মধু খুবই উপকারী।
  • মিষ্টি আলু খান: এটি খেলে আমাদের মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে খেতে পারেন। উপকার পাবেন। তাই মানসিক চাপ বিষয়ে আমাদের আরও যত্নবান হতে হবে।
  • ডার্ক চকলেট খান: ডার্ক চকলেট মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি খাবার। চকলেট খেলে ‘এন্ডোরফিন’ নামের এক রকম হরমোনের নিঃসরণ ঘটে যা আমাদের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ দ্রুত কাটাতে সাহায্য করে। তবে, সাধারণ মিল্ক চকলেট নয়, ডার্ক চকলেট খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
  • সবুজ সবজি খান: যেমন, শসা, ব্রকলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড আর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই উপাদানগুলো আমাদের মস্তিস্কে তৃপ্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রতিদিন পাতে রাখুন সবুজ শাক-সবজি। দেখবেন মানসিক চাপের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
  • গ্রিন টি: এই চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত ‘পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’। এই চা পান করলে শরীরে ‘সেরেটনিন’ নামের উপাদানের নিঃসরণ বেড়ে যাবে, মন ভালো থাকবে, মানসিক চাপ ও দুঃশ্চিন্তা কমবে।
  • সুষম খাদ্য: নিয়মিত, পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ফল, শাক-সবজি, প্রোটিন বেশি করে খেতে হবে। পানি প্রচুর পরিমাণে পান করতে হবে। তেলে ভাজা, ঝাল, শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাবার, সিগারেট, কফি, এলকোহল ইত্যাদি যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে।

মানসিক হতাশায় অফিস-পরিবার—দুই জগতেই আমরা বাধিয়ে ফেলি ভজকট।

হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এর তথ্যমতে, কর্মক্ষেত্রে তাঁরাই সফল হন যাঁরা ব্যক্তিগত জীবনের চাপ আর অফিসের চাপ আলাদা করে মানিয়ে নেন। বাড়ির চিন্তা কর্মক্ষেত্রে মাথায় নিলে কাজে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি অফিসের কাজের চাপ বাড়িতে করলে পারিবারিক জীবনে দুশ্চিন্তা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত জীবন আর অফিসজীবনের চাপ মোকাবিলার জন্য আমেরিকায় নিয়মিত অফিসের কর্মীদের মানসিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েকআপ বাংলাদেশের পরামর্শক রুবিনা খান চাকরির মানসিক চাপ সামলানোকে একজন কর্মীর ব্যক্তিত্বের স্বকীয়তা হিসেবে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘চাকরি আর ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন চাপকে আলাদা করেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত প্রত্যেক মানুষের। চাকরি আর ব্যক্তিগত জীবনের চাপ মিলিয়ে ফেললে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। শুধু তা-ই নয়, মানসিক চাপের কারণে হতাশায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।’ 

তথ্যসূত্র: 

  •  বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েকআপ বাংলাদেশের পরামর্শক রুবিনা খান,
  • হেলথ জার্নাল> বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • কালের কণ্ঠ।
  • যুগান্তর।
  • প্রথম আলো।
  • সময় টিভি।
  • ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.