First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

Cholesterol নিয়ন্ত্রণে ঔষধ এবং খাবার। (Fat_পর্ব-১৫) এবং (Cholestrorel_পর্ব-৩)

কোলেস্টেরল কি?

কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। শরীর গঠনে অন্যান্য উপাদানের মতো চর্বি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি দেখতে অনেকটা মোমের মতো নরম। এটি আমাদের দেহের কোষের দেয়ালে থাকে। আমরা যখন চর্বিজাতীয় খাবার খাই, তখন আমাদের যকৃতে এই কোলেস্টেরল তৈরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে আমাদের দেহের সব রক্তনালিতে ছড়িয়ে পড়ে। 

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও ওষুধের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

যদি অধিক পরিমাণ চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া হয়, তবে এ অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনির দেয়ালে জমাট বেঁধে প্লাক তৈরি করে এবং রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। যেমন– উচ্চরক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের নানা ধরনের অসুখ, হার্টঅ্যাটাক ইত্যাদি।

পরীক্ষা করোনার পর যদি শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি ধরা পড়ে তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 
এটি শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। যেমন– হরমোন তৈরিতে, চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর পরিপাকে এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে। কোটি কোটি দেহকোষের প্রাচীর, বহুসংখ্যক হরমোনসহ অসংখ্য শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়া বিক্রিয়ার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো কোলেস্টেরল। প্রাণীর মস্তিষ্কের প্রায় পুরোটাই কোলেস্টেরল দিয়ে তৈরি। 

তাহলে কোলেস্টেরল খারাপ হবে কেন?

বিষয়টি খারাপ বা ভালোর নয়। প্রতিটি জিনিসেরই একটি মাত্রা থাকে। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের কোলেস্টেরল মাত্রা জানতে হলে অন্তত ১০ ঘণ্টা খালি পেটে একটি লিপিড প্রোফাইল করা দরকার। লিপিড প্রোফাইলে total cholesterols, high density lipoprotein- HDL, low density lipoprotein-LDL এবং Triglycerides এর বিস্তৃত বিবরণ থাকে। এই চারটি উপাদানের আনুপাতিক উপস্থিতি পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকে শুধু total cholesterols এবং triglycerides পরীক্ষা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন। তাতে করে HDL এবং LDL এর পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে বোঝা সম্ভব হয় না। সবার উচিত বয়স ৩০ হলে অথবা পরিবারে যদি অল্প বয়সে কেউ হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় তাহলে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা।

ভালো বনাম খারাপ কোলেস্টেরল : রক্তনালির দেয়ালে জীবন্ত কোষের অবিরাম ভাঙাগড়া চলতে থাকে। সুস্থ মানুষের এই ভাঙাগড়ার মধ্যে একটি পারফেক্ট ব্যালেন্স থাকে। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল আছে, যারা ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করেন, স্থূল শরীর ব্যায়ামহীন কাটান তাদের রক্তনালির জীবন্ত কোষের ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়াটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। কোষের এই ভাঙাগড়ার প্রক্রিয়ায় HDL কোলেস্টেরল রক্তনালি রক্ষায় পজিটিভ ভূমিকা পালন করে। এজন্য একে গুড কোলেস্টেরল বলা হয়ে থাকে। আর LDL কোলেস্টেরল বিশেষ করে পরিবর্তিত oxidized LDL রক্তনালির দেয়ালে এক ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহের ফলে রক্তনালির গাত্রে চর্বির দলা Plaque গড়ে ওঠে রক্তনালিকে সরু করে রক্তের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। সাধারণ মানুষ এটাকে ব্লক বলে থাকেন। কোনো ব্লক যখন রক্তনালির কমপক্ষে ৭০% ভাগ লুমেন সরু করে দেয় তখন অল্প পরিশ্রমে বুকে ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট বা ধড়ফড় শুরু হয়ে যায়। চিকিৎসার ভাষায় এটাকে বলে অ্যানজাইনা। দেখা যাচ্ছে, হার্ট ব্লক বা ব্রেন স্ট্রোক সৃষ্টিতে কোলেস্টেরলের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। যার যত গুড কোলেস্টেরল বেশি থাকবে এবং কোলেস্টেরল কম থাকবে সে তত নিরাপদ।

কেন এই ভারসাম্যহীন কোলেস্টেরল : আমরা যখন রোগীকে বলি যে, গরু খাসির মাংস এড়িয়ে চলুন, তখন অনেক রোগী প্রশ্ন করেন, ‘কেন স্যার, গরু তো নিজে ঘাস খায়, তাহলে তার মাংসে এত চর্বি কীভাবে হয়?’ কথা সত্য। গরু ঘাস খায়। তবে গরুর শারীরিক গঠন ভিন্ন, তার ফিজিওলজি ভিন্ন। আর শরীরের চর্বি তৈরির কারখানা হলো লিভার। যার লিভার চর্বি তৈরির জন্য যত মুখিয়ে থাকে সে যতই শাকসবজি ঘাস খাক না কেন লিভার তার কাজ চালিয়ে যাবেই। এটা হয় যখন শরীরের মেটাবলিজম পাল্টে যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, অ্যালকোহল পান, বাড়তি ওজন, হাঁটাচলা না করা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো উপস্থিত থাকে। এসব কারণে লিভারের কোষে রিসেপ্টর সমস্যা দেখা দেয়। ফলে অতিরিক্ত মন্দ কোলেস্টেরল রক্তে ভাসতে থাকে। বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে হার্ট ও ব্রেনের রক্তনালির দেয়ালে চর্বির দলা জমে।এরপর ব্লক তৈরি করতে থাকে।

প্রতিরোধ : যেসব কারণে কোলেস্টেরল মেটাবলিজম ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সেগুলোর প্রতিকার করতে হবে। ডায়াবেটিসকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করতে হবে। ওজন কমাতে হবে। প্রয়োজনে চর্বি কমাতে নিয়মিত statin জাতীয় ওষুধ খেতে হবে। ডায়াবেটিস যাদের আছে তাদের বয়স ৪০ হলে সারা জীবনের মতো statin খেতে হবে। ডায়াবেটিসের ওষুধ যেমন সারা জীবন খেতে হয় তেমনি চর্বির ওষুধও সারা জীবন খেতে হবে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ছাড়া statin কখনো বন্ধ করা যাবে না। অনেকে চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক হলে ওষুধ বন্ধ করে দেন। এটা একটি ভুল ধারণা এবং অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ করলে রক্তের সুগার যেমন বেড়ে যায়, তেমনি কোলেস্টেরলের ওষুধ বন্ধ করলে তা বাড়বেই।

লক্ষ্যমাত্রা কত : গুড কোলেস্টেরল (HDL) পুরুষের ক্ষেত্রে ৪০ মিলিগ্রামের উপরে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রামের উপরে থাকতে হবে। মন্দ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা সুস্থ মানুষের জন্য ১৩০ থেকে ১৬০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকতে হবে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে ১০০-এর মধ্যে রাখা নিরাপদ। আর যাদের ইতিমধ্যে হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে বা ব্রেন স্ট্রোক অথবা পায়ের রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়েছে তাদের ক্ষেত্রে LDL-এর মাত্রা ৭০ মিলিগ্রামের নিচে রাখতে হবে। Triglycerides এর মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম নিচে ভালো।

প্রশ্ন : কী ধরনের ওষুধ?

উত্তর : স্টেরয়েড, হাইড্রোকোথায়াজাইড এগুলো রোগকে বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, প্রথমেই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে প্রথমেই পরিবর্তন আনতে হয় দৈনন্দিন খাবার-দাবারে। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চারও প্রয়োজন। কিন্তু তারপরও যদি তেমন কোনও উন্নতি না হয়, তখনই ওষুধের কথা ভাবেন চিকিৎসকরা।

আর সেই ওষুধ কিন্তু রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা ও তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে বুঝে তবেই দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তার আগে তারা জেনে নেন রোগীর কো-মর্বিডিটি বা হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবিটিসজনিত সমস্যা রয়েছে কিনা। 

কাজেই চিকিৎসক না দিলে নিজে নিজে দোকান থেকে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের কিনতে যাবেন না। কারণ ওষুধটির পরিমাপ ও প্রয়োজনীয়তা একেক রোগীর ক্ষেত্রে একেক রকম। অনেক সময় রোগীর একাধিক জটিলতা থাকায় চিকিৎসকেরা ‘কম্বিনেশন মেডিসিন’ও দিয়ে থাকেন।

• কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকতে হবে ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের মধ্যে ও এলডিএল-এর ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের মধ্যে। কো-মর্বিডিটি থাকলে এলডিএলের মাত্রা ৮০-র মধ্যে রাখতে হবে। মাত্রা ছাড়ালেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কিন্তু কোলেস্টেরলের ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।

• কোলেস্টেরলের ওষুধ শুরু করার পরে লিভার ফাংশনের দিকে নজর রাখুন। কোনও অসুবিধে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বা তার মাত্রা বদলাতে হবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

এছাড়াও কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের রয়েছে নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া! সাধারণত এই ধরনের ওষুধ খেলে বড়সড় ধরণের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে দেহে হাল্কা ব্যথা, পেশি ও পিঠে ব্যথা হতে পারে। 

অতীত রেকর্ড থেকে জানা যায়, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের সেবনে খুব কম সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে বমিভাব, মাথাব্যথা, লিভারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

তাই ওষুধ খাওয়ার পর যদি মনে হয় কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে, তা হলে ২ সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

খাবারের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:

সাধারণত বয়ষ্ক ব্যক্তিদের রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। আর স্বাভাবিক মানুষের রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। যারা রিচ ফুডে আসক্ত, তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আর রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ জীবাণু। বিশেষ করে রক্তের লাইপিড নিয়ন্ত্রণ না করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আসুন জেনে নিই, কোন খাবারগুলো আপনার রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

মাখন সর, ঘি, ননীসহ খাঁটি দুধ, মগজ, কলিজা, লাল গোস্ত (গরু, মহিষ, খাসি, শুকর), ডিমের কুসুম, হাড়ের ভিতরের মেরু মজ্জা, নারিকেল, চিংড়ি মাছ। অনেকেই মনে করেন, মাখন বা ঘিয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোলেস্টরল আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এ খাবারগুলোতে যে পরিমাণ কোলেস্টরল আছে, তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি আছে যথাক্রমে ডিমের কুসুম আর কলিজায়।

রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন এমন কিছু খাবার হলো-তিন বেলা সব ধরণের শাক-সবজি খাওয়া, সালাদ (লেটুস পাতা, শসা, ক্ষিরাই, টমেট্যো, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, বিলেতি ধনে পাতা, পেঁয়াজ, পেঁয়াজ গাছ), ঘরে তৈরি দই, সামুদ্রিক মাছ, মুরগি, সয়াবিন তেল, ভূট্টার তেল, জলপাই তেল। এ ছাড়া খেতে পারেন প্রচুর ফলমূল। তবে বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা মিস্টি ফল খাবেন না।

আরও কিছু খাবার রয়েছে, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। 

১. সবজি দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং শক্তি জোগায়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খেতে পারেন শুষ্ক সোয়া প্রোডাক্ট, মটরশুটি ও টফু। 

২. যারা সপ্তাহে তিন দিন অথবা এর বেশি সময় মাছ খায়, তাদের শরীরে খারাপ কলেস্টেরল কম থাকে। যারা উচ্চরক্তচাপ এবং বিভিন্ন হৃদরোগে ভুগছেন তাদের জন্য মাছ খুব উপকারী। এর মধ্যে হাই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। 

৩. অলিভঅয়েল বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন-ই। মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের খারাপ কলেস্টেরল এলডিএলকে কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলকে বাড়াতে সাহায্য করে। 

৪. রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে চাইলে, ননিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার পরিমাণে কম খেতে হবে। 

৫. সব ধরনের সবজি ও ফল কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত যেসব সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে। 

৬. গবেষকরা বলছেন, রসুন, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজজাতীয় খাবার শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। তরকারি ও সালাদে আমরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। 

৭. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে এই খাবার খাই না। এখন বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। শিমজাতীয় খাদ্য, ওয়ালনাট, জলপাই ইত্যাদির মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।

খাদ্য পরিকল্পনা: 

আপনাকে হৃদ্স্বাস্থ্য-উপযোগী খাদ্য খেতে হবে। ত্যাগ করুন আয়েশি জীবন। সম্পৃক্ত চর্বি মোট ক্যালরির ৭ শতাংশের কম নিতে হবে। দৈনিক ২০০ গ্রামের নিচে নিতে হবে কোলেস্টেরল। ফাস্ট ফুড, ট্রান্স ফ্যাট পরিহার করতে হবে। ভাতের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বেশি খিদে লাগলে সেদ্ধ সবজি খাবেন। টেলিভিশন দেখতে দেখতে খাওয়া বন্ধ করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খান।। মাংস খাবেন চর্বি ছাড়া। গরু ও ছাগলের মাংস, মেজবানি খাওয়া একেবারে কমিয়ে দিন। দৈনিক তিন থেকে পাঁচবার সালাদ ও ফল খান। আইসক্রিমের বদলে শরবত খান। কেক বা ডোনাটের বদলে মাফিন খান। খাবারে দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিন।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস, হরমোন ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত উত্তেজনা বাদ দিতে হবে। আপনার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড, এইচডিএলে মাত্রা নির্ধারণ করুন। প্রয়োজনে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। আপনার জন্য কাঙ্ক্ষিত ওজন ও বিএমআই জানুন। প্রয়োজনে বাড়তি ওজন কমান। সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০-৪০ মিনিট হাঁটুন।

• অনেকেরই ধারণা, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে মাংস, ডিম বন্ধ করে দিতে হবে। তাই কোন খাবার খেলে কী হতে পারে, সে ধারণা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। মাংসের চেয়েও তার চর্বি কিন্তু বেশি ক্ষতিকর। তাই কোলেস্টেরল হয়েছে বলে মাংস না খেয়ে মাংসের ঝোল খেলে ক্ষতি আরও বেশি হবে। কারণ রান্নার সময়ে চর্বি গলে ঝোলে মিশে যায়। তার চেয়ে মাংস এক টুকরো খেলে ক্ষতি কম হয়। ডিমও ঘুরিয়েফিরিয়ে খেতে পারেন। তবে ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলতে হবে। চর্বিজাতীয় খাবার, চিপ্‌স, ভাজাভুজি বেশি না খাওয়াই ভাল।

• ডালডা, মাখন জাতীয় স্নেহপদার্থ খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিলেই ভাল। রান্নার জন্য সরষের তেল, অলিভ অয়েল বেছে নিন।

• আনাজপাতি, সিট্রাস ফল, ওট্‌স, বার্লি জাতীয় খাবার খেতে পারেন। সব ধরনের খাবার ঘুরিয়েফিরিয়ে খাওয়া উচিৎ। এতে প্রকৃতির নির্যাস ঠিক মতো শরীরে পৌঁছয়। শরীর সুস্থ রাখে। ডায়াবেটিক রোগীকে মিষ্টি ফল বাদ দিতে হবে। কারণ ফ্রুক্টোজ় ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয়।

একটি হচ্ছে ওষুধ ছাড়া। এ ক্ষেত্রে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে লাল মাংস, খাসির মাংস, গরুর মাংস এগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। বেশি শাক-সবজি এবং মাছ বেশি করে খেতে হবে। আর নিয়মিত হাঁটতে হবে। ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে।

তথ্যসূত্র:

  • ডা: মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট, ল্যাবএইড, কার্ডিয়াক হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • যুগান্তর।
  • জেনারেল ফিজ়িশিয়ান, ডা. সুবীর কুমার মণ্ডল, আনন্দবাজার।
  • অধ্যাপক এ কিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, একুশে টিভি।
  • Edited: National_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.