First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

Cholestrorel এ আক্রান্ত রোগীর বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ লক্ষণ (Fat_পর্ব-১৪) এবং (Cholestrorel_পর্ব-২)

অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:

দেহের প্রয়োজনীয় উপাদান কোলেস্টেরল। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বা লেভেল অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনির প্রাচীর পুরু হয়ে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও ওষুধের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

খাবার ও যকৃৎ থেকেই শরীরে কোলেস্টেরলের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়। যকৃতে আগে থেকেই কোলেস্টেরল জমা থাকে। শরীর তার প্রয়োজনে এই কোলেস্টেরল যকৃৎ থেকে নেয়। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কতগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো দুই ধরনের হয়—নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। নিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো—ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়ডিজম এবং খাবার। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম না করা, উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড চর্বিজাতীয় খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরের মধ্যে রয়েছে—বংশগত কারণে অনেকের শরীরে লিপিড ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। বয়স বাড়ার কারণেও রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত ২০ বছর বয়সের পর থেকে মানবদেহে কোলেস্টেরল লেভেল বাড়া শুরু করে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষের দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মহিলাদের তুলনায় কম থাকে। তরুণ বয়সে নারীদের শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ ছেলেদের তুলনায় বেশি থাকে।

রকমফের:

এক ধরনের প্রোটিনের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে পরিভ্রমণ করে কোলেস্টেরল। এই প্রোটিন সংযুক্ত কোলেস্টেরলকে বলে ‘লিপোপ্রোটিন’। লিপোপ্রোটিনগুলোয় বিভিন্ন ঘনত্বের প্রোটিন থাকে—উচ্চ ঘনত্ব, নিম্ন ঘনত্ব, নিম্নতর ঘনত্ব।

কোলেস্টেরলের বিভিন্ন ধরন রয়েছে:

Low-Density Lipoprotein (LDL) :

এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। এজাতীয় কোলেস্টেরল সহজেই মানবদেহের ধমনিগাত্রে জমা হতে পারে। এতে প্রোটিন কম ও ফ্যাট বেশি থাকে। কারো রক্তে এই ধরনের কোলেস্টেরল যত কম থাকবে, অ্যাথেরোসকেরেসিস, হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা থেকে তিনি তত বেশি রক্ষা পাবেন।

High-Density Lipoprotein (HDL) : এইচডিএল বা হাইডেনসিটি লিপোপ্রোটিনকে কখনো বলা হয় ভালো কোলেস্টেরল। কারণ এজাতীয় কোলেস্টেরল ধমনিগাত্রে কোলেস্টেরলকে জমাট বাঁধতে দেয় না। এর বেশির ভাগ উপাদানই হলো প্রোটিন, যার সঙ্গে খুব অল্প পরিমাণ চর্বি মিশ্রিত থাকে। এইচডিএল রক্ত থেকে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলকে সরিয়ে দিতে সহায়তা করে। এটি রক্তের মধ্য থেকে খারাপ কোলেস্টেরলকে যকৃতে নিয়ে জড়ো করে এবং যকৃৎ এই কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করার কাজে সহযোগিতা করে।

Very-low-density lipoproteins (VLDL):

খুব কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (VLDL) হল রক্তের কণা যা ট্রাইগ্লিসারাইড বহন করে।

Triglycerides : 

ট্রাইগ্লিসারাইড হল চর্বি যা আমরা খাই যা রক্তে বাহিত হয়। মাখন, মার্জারিন এবং তেল সহ আমরা যে চর্বি খাই তার বেশিরভাগই ট্রাইগ্লিসারাইড আকারে থাকে। শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি, অ্যালকোহল বা চিনি ট্রাইগ্লিসারাইডে পরিণত হয় এবং সারা শরীরে চর্বি কোষে জমা হয়।

ট্রাইগ্লিসারাইড (টিজি) হলো এমন একটি কোলেস্টেরল, যাতে খুব অল্প পরিমাণ লিপোপ্রোটিন থাকে। সাধারণত রক্তে সামান্যই ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে। বরং চর্বিকোষে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি মাত্রায় জমা থাকে। রক্তে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হার্টঅ্যাটাক, স্ট্রোক প্রভৃতির আশঙ্কা বেড়ে যায়।

Total Cholesterol: মোট কোলেস্টেরল হল আপনার রক্তে মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ। বা আপনার মোট রক্তের কোলেস্টেরল হল এলডিএল কোলেস্টেরল, এইচডিএল কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য লিপিড উপাদানগুলির একটি পরিমাপ। হৃদরোগের জন্য আপনার ঝুঁকি এবং কীভাবে এটি পরিচালনা করা যায় তা নির্ধারণ করার সময় আপনার ডাক্তার আপনার মোট কোলেস্টেরল নম্বর ব্যবহার করবেন। কোলেস্টেরল হল একটি মোমযুক্ত, চর্বি জাতীয় পদার্থ যা আপনার শরীরের প্রতিটি কোষে পাওয়া যায়।

কিভাবে মোট কোলেস্টেরল পরিমাপ করা হয়:

এটি লিপোপ্রোটিন প্যানেল নামে একটি রক্ত ​​​​পরীক্ষা ব্যবহার করে করা হয়, যা আপনার ট্রাইগ্লিসারাইডগুলিও পরিমাপ করে৷

আপনার মোট কোলেস্টেরল স্কোর সমীকরণ ব্যবহার করে গণনা করা হয়: এইচডিএল স্তর + এলডিএল স্তর + আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড স্তরের 20%।

ফলাফল বোঝা:

মোট কোলেস্টেরলের পরীক্ষার ফলাফল মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার (mg/dL) রক্তে প্রকাশ করা হয় এবং কাঙ্খিত, সীমারেখা উচ্চ বা উচ্চ।

মোট কোলেস্টেরল রেঞ্জ:

মোট কোলেস্টেরল নিম্নরূপ র্যাঙ্ক করা হয়;

পছন্দসই মাত্রা: 200 মিগ্রা/ডিএল এর কম

সীমারেখা উচ্চ স্তর: 200-239 mg/dL

উচ্চ মাত্রা: 240 mg/dL এবং তার উপরে

আপনার মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিফলিত করে। সাধারণভাবে, স্তর যত বেশি হবে, আপনার ঝুঁকি তত বেশি।

Lipoproteins কি?

এইচডিএল এবং এলডিএল লাইপোপ্রোটিন হল আপনার রক্তের ক্ষুদ্র "প্যাকেজ", যার ভিতরে চর্বি (লিপিড) এবং বাইরে প্রোটিন রয়েছে, যা আপনার সারা শরীরে কোলেস্টেরল বহন করে। আপনি প্রায়ই তাদের ভাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল বলা দেখতে পাবেন.

রক্তের কোলেস্টেরল টেস্ট:

রক্তের কোলেস্টেরল নির্ণয় করার জন্য দুই ধরনের পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্ট বা খালি পেটে কোলেস্টেরল টেস্ট এবং নন-ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্ট। ফাস্টিং কোলেস্টেরল টেস্টের আরেক নাম লিপিড প্রোফাইল। এই পরীক্ষায় এইচডিএল, এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখা হয়। আর নন-ফাস্টিং কোলেস্টেরল পরীক্ষায় সামগ্রিক কোলেস্টেরল লেভেল ও এইচডিএল লেভেল বা ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ দেখা হয়। সর্বমোট কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৭০ মিলিগ্রামের নিচে, এলডিএল প্রতি ডেসিলিটারে ১০০ মিলিগ্রামের নিচে আর ট্রাইগ্লিসারাইড প্রতি ডেসিলিটারে ১৫০ মিলিগ্রামের নিচে থাকে। ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা ডেসিলিটারে ৪০ মিলিগ্রামের ওপরে রাখা ভালো।

উপসর্গ: বা লক্ষণ:

কোলেস্টেরল মানেই যে ক্ষতিকর, তা কিন্তু নয়। বরং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোলেস্টেরলের প্রয়োজন। মোমের মতো এক ধরনের ফ্যাটি পদার্থ হচ্ছে কোলেস্টেরল। স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের জন্য উপকারী এই পদার্থটি প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে গেলেই দেখা দেয় অসঙ্গতি। সমস্যাটা হয় দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণটা বেড়ে গেলে। তখন তা হৃদরোগজনিত অসুস্থতার কারণ হয়ে ওঠে। তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে কোলেস্টেরলের মাত্রার উপর নজর রাখা প্রয়োজন। কিন্তু তার তো জানতে হবে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে। 

কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ নেই। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে এটি সহজে বোঝাও যায় না। কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের খারাপ প্রভাবজনিত কারণে অ্যাথেক্সেকেরোসিস, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক, পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ প্রভৃতি কঠিন রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

তাই সতর্ক হয়ে ২৫ বছরের পর অন্তত পাঁচ বছরে একবার এবং ৪০ বছরের পর বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখা উচিৎ। তা না হলে এমনও হতে পারে, হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষা করে বোঝা যাবে যে কারো রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে। কেননা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা থাকলে আগে থেকেই সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো যায়।

কোলেস্টেরলকে নীরব ঘাতক বলা হয়। কোলেস্টেরল এক প্রকারের চর্বি। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে—ট্রাইগ্লিসারাইডস, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টেরল। এর মধ্যে এইচডিএল হলো উপকারী এবং এলডিএল হলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

পায়ের পাতা ঠাণ্ডা হওয়া:

শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে শীতকালের মতো সারা বছরই পায়ের পাতা ঠাণ্ডা থাকতে পারে। এটি মূলত পিএডি বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের অন্যতম লক্ষণ। শরীরে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকলে এ লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ত্বক ও নখের রং পরিবর্তন হলে:

পায়ের রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে পায়ের নখ ও ত্বকের রং পরিবর্তন হতে পারে। এর মূল কারণ অক্সিজেন বহনকারী রক্তের প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে কোষগুলো ঠিকমতো পুষ্টি পায় না। ফলে পায়ের ত্বক চকচকে ও টানটান হয় এবং পায়ের নখগুলোও পুরু হতে পারে, ধীর গতিতে বাড়তে পারে। তাই ত্বক ও নখের রঙে পরিবর্তন লক্ষ করলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ক্ষত না সারা:

পিএডি বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের অন্যতম লক্ষণ হলো ক্ষত না সারা। শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে ইসকেমিক আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অনেকেরই পায়ে অসাড় ভাব বা দুর্বলতার অনুভূতি হতে পারে। এটিও পিএডির লক্ষণ। তাই এমন লক্ষণ প্রকাশ পেলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। আর একটি কথা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আপনাকে অবশ্যই জীবন যাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

পায়ের পাতায় বা আঙুলে হঠাৎ টান ধরা:

ঘুমের মধ্যে পায়ের পাতায় বা আঙুলে হঠাৎ টান ধরা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত হতে পারে। রাতে এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে, রাতে এমন সমস্যা হচ্ছে কিনা। 

কোলেস্টেরল খুব বেড়ে গেলে প্রভাব পড়ে পায়ের টেন্ডন লিগামেন্টগুলিতে। এসময় ফ্যাটের কারণে ধমনীগুলি সরু হয়ে যায় এবং পায়ের নীচের অংশে রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়। এতে পা ভারী হয়ে যায় এবং একটু হাঁটলেই প্রচন্ড ব্যথা হয়। 

রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না হলে পায়ের আঙুলের রঙেও বদল আসতে পারে। বদল আসতে পারে পায়ের নখেরও ।

সমস্যার বিষয় হচ্ছে কোলেস্টেরলের মাত্রা যতক্ষণ না মারাত্মক বেড়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ শরীরে কোনও বড় লক্ষণ দেখা যায় না। তাই এই লক্ষণগুলি দেখা দিতেই সাবধান হতে হবে। 

এছাড়া মাঝেমধ্যে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে কোলেস্টেরলের মাত্রার উপর নজর রাখা প্রয়োজন। 

তাই রোজকার খাদ্যতালিকায় অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণ কমিয়ে শরীরচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।

কোলেস্টেরল তৈরি হয় যকৃত থেকে। লাইপোপ্রোটিনের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়ে এই পদার্থটি। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে কোলেস্টেরল।

কিন্তু শরীরে প্রোটিনের অভাব হলে এবং ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে গেলে, তা কোলেস্টেরলের সঙ্গে মিশে ‘লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ বা এলডিএল হয়ে যায়। তখনই কোলেস্টেরল শরীরের পক্ষে খুব ক্ষতিকর হয়ে যায়।

লক্ষণের কারণে শরীরে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়:

আপনি হঠাৎ শুনলেন, পাশের বাসার ভদ্রলোকের টেলিভিশন দেখার সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হলো। ব্যথার তীব্রতা বাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলো। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তিনি অসাড় হয়ে পড়লেন। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানালেন, কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। একে বলা হয় ‘সাডেন ডেথ’।

সুস্থ-সবল একজন মানুষ আগাম কোনো অসুখের পূর্বাভাস না দিয়েও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হয়? রক্তনালির (ধমনি) ভেতরে কোলেস্টেরল বা লিপিড (বিশেষ করে এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড) জমা হয়ে ধমনির মুখ সরু করে দেয়। সরু মুখে হঠাৎ রক্তের কিছু উপাদান পিণ্ডাকারে জমা হলে রক্তনালি (ধমনি) তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ধমনি হঠাৎ বন্ধ হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। আর মস্তিষ্কের রক্তনালি হঠাৎ বন্ধ হলে ব্রেন স্ট্রোক হয়।

উচ্চ কোলেস্টেরলের কোনো আগাম উপসর্গ হয় না। তাই ২০ বছর বয়সের পর থেকে পাঁচ বছরে কমপক্ষে একবার সব মানুষের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা দরকার। তবে বয়স ৪০ পার হলে বছরে দুবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা ভালো। কোলেস্টেরল পরীক্ষার জন্য ৯-১২ ঘণ্টা কোনো কিছু না খেয়ে থাকতে হয়।

তাই সকালে নাশতার আগে কোলেস্টেরল পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়াই উচিত। একজন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ‘রিস্ক স্কোর’ মেপে পরবর্তী ১০ বছরে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কতটুকু, তা জানাতে পারবেন। 

তথ্যসূত্র:

  • VerywellHealth.Com
  • ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াছ, হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, ম্যাক্স হাসপাতাল, প্রথম আলো।
  • একুশে টিভি।
  • বোল্ডস্কাই > এনটিভি।
  • ডা. মোস্তফা জামান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক, কালের কণ্ঠ।
  • Edited: National_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.