First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে বুঝবেন যেভাবে?

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী বাড়িতে থাকুক বা হাসপাতালে, এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘনত্ব কমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করা। সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকে।

রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব আর হৃদ্‌স্পন্দনের গতি পরিমাপ করা যায় যে যন্ত্রের মাধ্যমে, তার নাম পালস অক্সিমিটার। এই যন্ত্র না থাকলেও একটা ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের অবস্থা বুঝে নেওয়া যায়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকেরা ঘরে অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার পরামর্শ দিচ্ছেন। সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকে।
■ রোগীকে প্রথমে মুখ দিয়ে সজোরে বুকের ভেতরে থাকা বাতাস ছাড়তে হবে। তারপর ধীরে ধীরে গভীরভাবে নাক দিয়ে বাতাস টেনে শ্বাস ধরে রাখতে হবে। যদি ৭ সেকেন্ড এভাবে শ্বাস ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আর যদি ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত শ্বাস ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশ। 

■ করোনায় সংক্রমিত রোগীর জন্য দ্বিতীয় সপ্তাহটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের এ সময় নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। এগুলো ফুসফুসে সংক্রমণজনিত প্রদাহের লক্ষণ।

■ অনেক সময় শুরুতে অক্সিজেনের ঘাটতি রোগী বুঝতে পারে না। দিব্যি সুস্থ–স্বাভাবিক মনে হয়। একে বলে ‘নীরব হাইপোক্সিয়া’।

■ রক্তে অক্সিজেন কমে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় (প্রতি মিনিটে ২৪-এর বেশি)। হৃদ্স্পন্দনের গতি (প্রতি মিনিটে ১০০-এর বেশি) বেড়ে যায়, বুকে ব্যথা হয় ও নিশ্বাসে সমস্যা হয়। ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে, স্নায়ুতন্ত্র, এমনকি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এ সময় মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, একটু পরিশ্রম বা হাঁটাহাটিতে সমস্যা হয়। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ এগুলো। 

■ অক্সিজেনের মাত্রা খুব বেশি কমে গেলে রোগীর ঠোঁট ও ত্বক নীল হয়ে যায়। এ সময় রোগীকে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে বলতে হবে। এতে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। কারণ, এর ফলে ফুসফুসের একটা বড় অংশে সহজে বাতাস যায় এবং রক্ত সহজে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

রক্তে অক্সিজেন সঠিক মাত্রার চেয়ে কমে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়।
কোভিড-১৯: অথবা অন্য কারনে শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে প্রাথমিকভাবে যা করতে পারেন:

কোভিড-১৯ মানুষের শরীরে যেসব ক্ষতি করে তার একটি হচ্ছে অনেকেরই রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা থাকা উচিৎ ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ।

অক্সিজেনের মাত্রা খুব সহজে পরিমাপ করার জন্য এখন বহু মানুষের ঘরেই রয়েছে অক্সিমিটার।

কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়মিত অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন পরিমাপ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

অক্সিজেন ৯০ এর নিচে নেমে গেলেই সমস্যা শুরু হয়। মাত্রা বেশি কমে গেলে রোগীকে ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে অক্সিজেন দেবার দরকার পড়ে।

কিন্তু দরকারের সময় যদি ঘরে অক্সিজেন না থাকে তখন রোগী কিছুটা হলেও শারীরিকভাবে স্বস্তি পেতে পারেন এরকম কয়েকটি সহজ টিপস দিয়েছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর।

পোশাক ঢিলা করে দিন:

আঁটসাঁট পোশাকে এমনিতেই শ্বাস নিতে অনেকের সমস্যা হয়। বুক ভরে শ্বাস নেয়া যায়না কারণ এমন পোশাকে ফুসফুসের পেশী প্রসারিত হতে বাধাগ্রস্ত হয়।

আর যদি এমনিতেই শরীরে অক্সিজেন কম থাকে - তাহলে সাধারণ পোশাকও কষ্ট দিতে পারে।

কোভিড রোগীর শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে শুরুতেই পরনের পোশাক ঢিলা করে দিন।

টাইট কিছু পরনে থাকলে সেটি খুলে দিন। অন্তর্বাস, প্যান্ট এরকম পোশাক খুলে ফেলুন। মুখের মাস্কও খুলে দিন কারণ মাস্কের কারণেও শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে।

তাড়াহুড়ো নয়:

রোগী নিজে যদি একা থাকেন বা অন্য কেউ যদি তাকে সাহায্য করেন তাহলে কেউই তাড়াহুড়ো করবেন না।

শরীরের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। হাঁটাচলা এমনকি কিছু খেলেও শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

তাই হাঁটাচলা বন্ধ করে স্থির থাকুন। কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

উপুড় করে শুইয়ে দিন:

এভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে শ্বাস নিলে উপকার পাওয়া যায় ।
রোগীকে বিছানায় উপুড় করে শুইয়ে দিন। বুকের উপর শুয়ে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

তাতে উপকার পাওয়া যায় কেননা ফুসফুসের একটি বড় অংশ মানুষের শরীরের পিঠের দিকে অবস্থিত।

উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে ফুসফুসের পিঠের দিকের অংশ সহজে অক্সিজেন পায়। এতে কিছুটা উপকার পেতে পারেন করোনা রোগী।

শ্বাসের ব্যায়াম:

ফুসফুস সুস্থ রাখতে ইদানীং চিকিৎসকেরা সবাইকে ফুসফুসের ব্যায়াম করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

সুস্থ ব্যক্তিদেরও এই পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কেননা করোনাভাইরাস ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। কোভিডে আক্রান্ত রোগীরাও শ্বাসকষ্ট হলে শ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।

জেনে নিন খুব সহজ একটি শ্বাসের ব্যায়াম। রোগীকে লম্বা করে নাক দিয়ে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে।

সাত থেকে দশ সেকেন্ড অথবা যতক্ষণ সম্ভব ফুসফুসে বাতাস ধরে রাখতে হবে।

তারপর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে। এই ব্যায়াম বেশ কয়েকবার করতে হবে।

শ্বাসের Hit ব্যায়াম সম্পর্কে ডা: জাহাঙ্গীর কোবীর এর ভিডিওগুলি দেখুন...

ভিড় নয়:

শ্বাসকষ্ট হলে আশপাশ থেকে মানুষজনকে সরিয়ে দিন। মানুষের ভিড়ে ঘরে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে যায়। ঘরের দরজা জানালা খুলে দিন।

এই টিপসগুলো সাময়িকভাবে স্বস্তি দেবে ।

তবে এগুলো তাদের জন্যই - যাদের হালকা সমস্যা। যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তাহলে অক্সিজেন দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

সেক্ষেত্রে হাসপাতালে নেয়া বা বাড়িতে সিলিন্ডার এনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারোর সহায়তায় রোগীকে অক্সিজেন দেয়াই উত্তম।

রক্তে অক্সিজেনের অভাব বা হাইপক্সিয়া:

রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়াকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয়, হাইপক্সিয়া। শুধু কোভিড-১৯ নয়, অন্যান্য অসুখেও হাইপক্সিয়া হতে পারে। এটি কোনও রোগ নয়, উপসর্গ। তবে এই উপসর্গ এতটাই সিরিয়াস যে, দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে রোগীর মস্তিষ্কে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

রক্তে অক্সিজেন কমে গেলে যা ঘটে:

রক্তে অক্সিজেন কমে গেছে কিনা তা অক্সিমিটার ছাড়াও বোঝার উপায় আছে।

যেমন মাথা ঝিমঝিম করতে পারে, শরীর দুর্বল লাগতে পারে, শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।

রক্তে অক্সিজেন সঠিক মাত্রার চেয়ে কমে গেলে মস্তিষ্কেও অক্সিজেনের ঘাটতি হয় - যা খুবই বিপজ্জনক।

শ্বাস নিতে সমস্যা এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দু:শ্চিন্তার বিষয়।

কাদের হাইপক্সিয়ার সম্ভাবনা বেশি?

একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০-১০০ শতাংশ থাকা উচিত। সেটা কম হয়ে গেলেই সমস্যা। ক্রনিক অসুখের কারণে কারও হাইপক্সিয়া হতে পারে, আবার আচমকাই কারও মধ্যে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডি‌জ়িজ়), অ্যাজ়মার রোগীদের ক্ষেত্রে হাইপক্সিয়া দেখা যায় বেশি। কারণ এঁদের শরীরে এমনিই অক্সিজেন কম জেনারেটেড হয়। তাই কোনও কারণে যদি রোগের প্রকোপ বাড়ে তখন শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। সে ক্ষেত্রে যদি দেখা যায়, অক্সিজেনের লেভেল ৯০-এর নীচে নেমে গিয়েছে, তখন দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

অ্যানিমিয়ার রোগীদের মধ্যেও এই উপসর্গ দেখা যায়। আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে। অ্যানিমিয়ার রোগীদের শরীরে এমনিতেই অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে। যে কারণে এঁদের নিয়মিত ব্লাড টেস্ট করানো গেলে ভাল। রক্তে হিমোগ্লোবিন খুব কমে গেলে, আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া দমবন্ধ করা জায়গায় থাকার ফলেও হাইপক্সিয়া হতে পারে। কোভিড বিপর্যস্ত এ সময়ে ভিড়ভাট্টায় এই সমস্যা বাড়তে পারে বলে মত চিকিৎসকদের।

কারও হার্টে ব্লকেজ থাকলে উপসর্গ হিসেবে হাইপক্সিয়া দেখা যেতে পারে। তখন রোগীর বুকে ব্যথা হবে।

দুর্ঘটনাজনিত কারণেও এটি হতে পারে। যেমন, শ্বাসনালিতে কোনও খাবার আটকে গিয়ে হাইপক্সিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিয়মিত মনিটর করা জরুরি:

হাইপক্সিয়ার কারণেই করোনা রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত অক্সিজেন লেভেল মনিটর করা হচ্ছে এবং সেই মাত্রা ৯০-এর নীচে নেমে গেলে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। জেনারেল ফিজ়িশিয়ান ডা. সুবীরকুমার মণ্ডলের কথায়, ‘‘অধিকাংশ করোনা রোগীর কমন উপসর্গ শ্বাসকষ্ট। এই রোগে ভাইরাসটি ফুসফুসে ঢুকে অ্যালভিওলাই ও ফুসফুসের থলিগুলির ক্ষতি করে। যে কারণে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করার কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে। অক্সিজেনের ঘাটতি যদি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়, তা মাথায় আঘাত পর্যন্ত করতে পারে।’’

প্রতিকারের উপায়:

পরিস্থিতি এখন শাঁখের করাতের মতো। স্বাভাবিক নিয়মে রাস্তায় বেরোলে বা ভিড়ের মধ্যে গেলে মাস্ক পরা আবশ্যিক। কিন্তু ভিড় জায়গা মানে সেখানে অক্সিজেন কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেশি। সে ক্ষেত্রে মাস্ক পরে থাকলে শ্বাসকষ্ট হবেই। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে কারও বুকে ব্যথা হতে পারে, কেউ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা ভিড় এড়িেয় চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। ‘‘ভিড়ের মধ্যে মাস্ক পরে থাকলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কম হবে। হাইপক্সিয়ার ফলে কারও ব্রেন ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু যথেষ্ট। এই উভয়সঙ্কট তখনই এড়ানো যাবে, যখন মানুষজন ভিড়ের মধ্যে যাবেন না,’’ বললেন ডা. সুবীর মণ্ডল।

যাঁরা নিজেরা গাড়ি চালান, তাঁদের গাড়ির মধ্যে সারাক্ষণ মাস্ক না পরে থাকলেও চলবে বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। তবে বাইরের কোনও ব্যক্তি থাকলে মাস্ক পরা উচিত।

মর্নিংওয়াক এবং শারীরচর্চার সময়েও মাস্ক পরতে নিষেধ করছেন চিকিৎসকেরা। এতেও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা।

এখন জিম খুলে গিয়েছে, অনেকে যাচ্ছেনও। কিন্তু কার্ডিয়ো, ওয়েট ট্রেনিং, এরোবিক্স বা অন্য এক্সারসাই‌জ় করার সময়ে মাস্ক না পরার নিদান চিকিৎসকদের। সে ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাটাই একমাত্র উপায়।

শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণে যা খাবেন: শরীরে অক্সিজেন পরিমাণ বাড়ানোর জন্য, অ্যালকালাইন জাতীয় খাবার ৮০% খাদ্য তালিকায় রাখলে তা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের খাবার শরীরকে সক্রিয় রাখার পক্ষেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এই খাবার গুলো দেহের পিএইচ মাত্রা স্বাভাবিক রাখে এবং ভিটামিন ও মিনারেলসের শোষণে সহায়তা করে। অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করতে অ্যালকালাইন জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণে যা খাবেন:

পাতিলেবু: অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে খাদ্য তালিকায় যে-সমস্ত খাবার যোগ করতে পারেন, তার মধ্যে প্রথমেই থাকবে পাতিলেবু। পাতিলেবু অ্যাসিডিক হলেও তা শরীরের মধ্যে গিয়ে অ্যালকালাইন হয়ে যায়। এছাড়া এর ইলেকট্রোলাইটিক ধর্ম, ভিটামিন সি যা দ্রুত সর্দিকাশি, ফ্লু, হাইপারঅ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা ইত্যাদির থেকে মুক্তি দেয়।

ব্রকোলি: সুপার ফুড ব্রকোলি বিভিন্ন রকম ফ্লু থেকে আপনাকে নিরাপদে রাখতে পারে। ব্রকোলি যেমন বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ঝরিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে, তেমনি শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণেও এটি বেশ কার্যকরী।

বাদাম ও কিশমিশ: আমন্ড, কাজু ইত্যাদি বাদাম শরীরে অ্যালকালাইনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া কিশমিশে থাকা ভিটামিন এ, বি, সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এর ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে। তাই যে কোন সময় খিদে পেলে ড্রাই ফ্রুটস স্ন্যাক্স হিসেবে খেতে পারেন, এতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়বে।

অঙ্কুরিত ডাল বা কাঁচা ছোলা: সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে শরীরে পুষ্টির যোগান দিতে কাঁচা ছোলা, অঙ্কুরিত ডাল জাতীয় খাদ্য খুবই উপকারী। এতে থাকা ফাইবার এনার্জি যোগায়। এছাড়া দেহের ক্ষতিকারক টক্সিন উপাদানগুলো বের করে দিয়ে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটায়।

রসুন: সকালে উঠে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে রক্তচাপ কমা, শরীরের ব্যথা সহ অনেক সমস্যায় সমাধান হয়। আর এই করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদে থাকতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের যোগান পূরণে নিয়মিত রসুন খান।

মিষ্টি আলু/রাঙা আলু: নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে, বাড়তি ওজনও কমে যায়। মিষ্টি আলু নানা প্রাকৃতিক খনিজে ভরপুর। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেনও রয়েছে, যা আমাদের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফলে গ্রিন টি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিন টি মেটাবোলিজমের হার ঠিক রাখে বলে শরীরে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত যোগান থাকে। মেদ কমিয়ে ফিট থাকতে চাইলেও গ্রিন টিকে ভরসা করতে পারেন।

তরমুজ: উচ্চ অ্যালকালাইন মাত্রা যুক্ত এই ফলের পিএইচ মান ৯। এতে অধিক পরিমাণে পানি এবং ফাইবার থাকার ফলে এটি ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন, বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি থাকে যা শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও এনার্জির যোগান দেয় এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে।

টক দই: খাবার শেষে এক বাটি টক দই না হলে অনেকের চলে না। টক দই শরীরের পক্ষে খুব উপকারী। এটি পেটের সমস্যায় ঠিক করে। এছাড়া এক বাটি টক দই খাদ্য তালিকায় রাখলে তা শরীরে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত যোগান দিতে সহায়তা করবে।

ক্যাপসিকাম: ক্যাপসিকামের পিএইচ মান ৮.৫। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। ক্যাপসিকামে থাকে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ, যা দেহে রোগ, স্ট্রেসের হাত থেকে দেহকে মুক্ত রাখে। ফলে শরীর ঝরঝরে থাকে। অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে খাদ্য তালিকায় ক্যাপসিকাম নিয়ম করে রাখতে পারেন।

পালংশাক: পালংশাক একটি পুষ্টিকর শাক। এতে প্রচুর আয়রন থাকে বলে রক্তস্বল্পতার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ বলে বিবেচ্য হয়। এছাড়া অনেকেই জানেন না, এতে থাকা অক্সিজেন রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে।

এছাড়াও অ্যাভোকাডো, পাকা কলা, বেরিজাতীয় ফল, খেজুর, গাজর, আপেল, খোবানি, আঙুর, আনারস, আম, পেঁপে, কিউই ইত্যাদিও অ্যালকালাইন জাতীয় খাবার এবং প্রত্যেকটিই পুষ্টিকর। ফলে এই ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে খাদ্যতালিকায় এগুলো যোগ করুন এবং প্রচুর পানি পান করুন। তাহলে অনেকাংশে সুস্থ থাকবেন। উল্লিখিত অক্সিজেন সমৃদ্ধ খাবারগুলো আপনার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র:

  • অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রথম আলো।
  • জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর, বিবিসি বাংলা।
  • দৈনিক ইত্তেফাক।
  • আনন্দবাজার।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.