First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

রক্তশূন্যতা ও হিমোগ্লোবিন কীভাবে বুঝবেন? এবং চিকিৎসা কি?

রক্তশূন্যতা/রক্তস্বল্পতা/আমিনিয়া/রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাব/রক্তে আয়রনের অভাব কি?

রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কোনো কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হলেও শরীরে স্বাভাবিকভাবে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ হল— পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ ডিএল/ডেসিলিটার। মহিলাদের ১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ ডেসিলিটার। শিশুর বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী স্বাভাবিক মানের নিচে থাকে, তবে সে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে বলা হয়। এক বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত সাধারণভাবে শিশুর হিমোগ্লোবিন ১১ গ্রাম বা ডেসিলিটারের নিচে থাকা রক্তস্বল্পতার নির্দেশ করে।

হিমোগ্লোবিন কি?

হিমোগ্লোবিন হল লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একপ্রকার প্রোটিন যার মধ্যে আয়রন এবং ট্রান্সপোর্টস অক্সিজেন বর্তমান। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে। রক্তের প্রধান দুটি উপাদান হলো রক্তকোষ ও রক্তরস। লোহিত রক্তকণিকায় থাকে হিমোগ্লোবিন নামের রঞ্জক পদার্থ, যা দেহের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সারা শরীরে দেখা দেয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। 

উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই ব্যাধির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা অপুষ্টির কারণে এই রোগে আক্রান্ত হন। আবার অনেকে নানা গোর ভোগের ফলেও অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হন। রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে নীচে নেমে গেলে সেটাই রক্তাল্পতা। 

রক্তে ‌‌আয়রন এবং হিমোগ্লোবিনের অভাব, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের কারণে রক্তশূন্যতা হয়ে থাকে।

কেন হয় অ্যানিমিয়া?

রক্তস্বল্পতা অন্যান্য রোগের উপসর্গ হতে পারে আবার নিজে একটি রোগ হতে পারে, যেমন সমস্ত রক্তকণিকা তৈরির অভাবে রক্তাল্পতা হয়।  রক্তশূন্যতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে (যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী বৃক্কীয় কার্যহীনতা), বা কখনো নিজেই একটি রোগ হতে পারে (যেমন অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া অর্থাৎ সমস্ত রক্তকণিকা তৈরি হবার অভাব) বা যার কারণে অন্য রোগ হতে পারে (যেমন হার্ট ফেইলিওর)।

  • রক্তাল্পতা মূলত তিনটি কারণে হয়। সেগুলি হল; i-রক্তক্ষয়, ii-লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন কমে যাওয়া, iii-এবং লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট হয়ে যাওয়া। এই তিন কারণে রক্তের মধ্যে আয়রণের পরিমাণ কমে যায়। খাদ্যে পুষ্টির অভাবে রক্তাল্পতা হয়। আবার, 

  • রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো আয়রন। কোনো কারণে শরীরে আয়রনের উপস্থিতি কমে গেলে রক্তস্বল্পতা হয়। একে বলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা। 
  • ভিটামিন সি, বি (১২) ও ফলিক অ্যাসিডের  (বি ৯) ঘাটতির কারণে হাইপোথাইরয়েড অ্যানিমিয়া হয়। ভিটামিন সি এবং ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি।
  • দীর্ঘমেয়াদি রোগ (যেমন কিডনি বিকল), ডায়াবেটিস, অর্ষে ভুগা ইত্যাদি।
  • দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ (যেমন যক্ষ্মা)।
  • রক্তে ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা। 
  • রক্ত উৎপাদনকারীর মজ্জার সমস্যা।
  • সময়ের আগে/নিজে নিজে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়া ও রক্তক্ষরণ।
  • প্রদাহজনক পেটের রোগের (ক্রোনস ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিস) ইত্যাদি হতে পারে রক্তশূন্যতার কারণ।
  •  যে মহিলাদের ঋতুস্রাবের পরিমাণ অতিরিক্ত হয় তাদের ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা খুব বেশি। 
  • দুর্ঘটনা জনিত কারণে রক্তক্ষরণ, রক্ত বমি, দীর্ঘদিন ক্যানসার রোগে ভুগলে, কৃমি সংক্রান্ত রোগে ভুগলে, গর্ভাবস্থার কারণে রক্তাল্পতা হয়।
  • কিছু ওষুধ সেবনে যেমনে অ্যান্টি ক্যানসার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু ওষুধ সেবনে আবার খিঁচুনি রোগের কিছু ওষুধ সেবনে রক্তাল্পতা হয়।
  • কিছু রোগের জন্য হয় যেমন ম্যলেরিয়া, কালাজ্বর, যক্ষা, যকৃৎ সংক্রান্ত সমস্যা, কিডনি সমস্যা, ম্যাল অ্যাবসরপশান সিমব্রম বা পুষ্টির পচন এবং শোষণ এর প্রক্রিয়ায় কোনও কারণে অসুবিধা হলে রক্তাল্পতা হতে পারে। 
  • দীর্ঘদিন ধরে যারা ব্যথার ওষুধ সেবন করেন, তারাও রক্তাল্পতায় ভোগেন।
  • পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্ষত বা আলসারের কারণে ক্রমাগত বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্তক্ষরণ হওয়া, অন্ত্রে কৃমির সংক্রমণ বা অর্শরোগে (পাইলস) রোগীর অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে।

তবে সব ধরনের কারণের মধ্যে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এর হার বেশি। বাংলাদেশে নারীদের গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এতে বিরূপ প্রভাব পড়ে শিশুর ওপর, মাতৃমৃত্যুর হারও যায় বেড়ে।

কেন আয়রনের ঘাটতি?

আয়রনের ঘাটতি হওয়ার প্রধান কারণ অপুষ্টি। খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় এবং শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায় সেই অনুযায়ী গর্ভবতী মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয় না। কিছু পরিবার বা এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের কম খেতে দেওয়া হয়। যেসব নারী অতিরিক্ত ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাঁদেরও আয়রনজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। পেপটিক আলসার, কৃমি, পাইলস, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণেও দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে।

যারা বেশি বেশি বা অপ্রয়োজনীয় গ্যাসট্রিকের ওষুধ খায় অর্থাৎ গ্যাসট্রিকের সমস্যা হলেও খায়, না হলেও খায়, তাদের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। কারণ, আয়রন শোষণ করতে গেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড লাগবে কিন্তু গ্যাসট্রিকের ওষুধগুলো কারণে এই অ্যাসিড কমে গেলে আয়রন কিন্তু পর্যাপ্ত শোষণ হবে না।

কীভাবে বুঝবেন?

চিত্র: বডিতে রক্তশূন্যতার লক্ষণ।
উপসর্গ: রক্তশূন্যতার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন রকম হয়। কয়েকটি লক্ষণে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হওয়া, কাজকর্মে অনীহা,  লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়, তবে রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রমে নিঃশ্বাস ঘন হওয়া বা অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি বোধ করা, মাথা ঘুরানো ও বমি বমি ভাব হওয়া, , বুক ধড়ফড় করা, খাবারের প্রতি আসক্তি কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া।
আপাত দৃষ্টিতে রক্ত স্বল্পতাকে খুব বড় কোনও রোগ বলে মনে না হলেও, যে কোন বড় রোগের শুরু হতে পারে এই রক্ত স্বল্পতা থেকেই। তাই শুরু থেকেই রক্ত স্বল্পতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ।
একজন পূর্ণবয়স্ক নারীদের জন্য রক্তে হিমোগ্লোবিন ১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ডেসিলিটার, পুরুষের রক্তে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ডেসিলিটার, শিশুদের রক্তে ১১ থেকে ১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার থাকা স্বাভাবিক।
কারও রক্তে হিমোগ্লোবিন এর চেয়ে কমে গেলে তিনি রক্ত স্বল্পতায় আক্রান্ত বলেই মনে করা হয়। এ বার রক্ত স্বল্পতার লক্ষণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
রক্ত স্বল্পতার লক্ষণ-
  •  শরীর কাঁপা, অবসন্নতা, ক্লান্তিভাব, দুর্বলতা, অবসাদ, মুখে-ঠোঁটে ঘা, বমি, ঘাম হওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ছোট শ্বাস, বেশি ঠান্ডা অনুভব করা ইত্যাদি রক্তশূন্যতার সাধারণ লক্ষণ। এছাড়াও,
  • কানে ঝিঁঝিঁ শব্দ শোনা।
  • আয়রনের অভাবে চুল পড়ে যাওয়া।
  • মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঘার ব্যাথা।
  • বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা।
  • চোখের ভেতর দিকের পর্দার লাল আভা ক্রমে ফ্যাকাশে হওয়া।
  • চোখে অন্ধকার বা ঝাপশা দেখা।
  • শরীর, চোখ, মুখ, চামড়া ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করা।
  • হাত-পায়ের তালু সাদা হয়ে যাওয়া বা ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
  • জিহ্বা মসৃণ হয়ে যাওয়া, জিহ্বার স্বাদ ও অনুভূতির স্বাভাবিকতা নষ্ট হ‌ওয়া।
  • খাবারে অরুচি ও ক্ষুধামান্দ্য।
  • নখ ভঙ্গুর হওয়া বা নখের আকৃতি চামচের মতো হওয়া।
  • কাজকর্ম-পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়া।
  • দুর্বলতা ও সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া এবং ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া।
  • রক্তশূন্যতার মাত্রা তীব্র হলে শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ লাগা এমনকি হার্ট ফেইলিউরও হতে পারে।
  • রক্ত স্বল্পতায় আক্রান্তকে বিষণ্ণতায় ভুগতে দেখা যায়। সারাক্ষণ দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা হওয়ার কারণে রোগীকে বিষণ্ণতা গ্রাস করে।
  • এ ছাড়াও রক্ত স্বল্পতার আর একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হল, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। রক্ত স্বল্পতার কারণে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত দেহে সঞ্চালনের জন্য পাম্প করতে পারে না। ফলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।
রক্তশূন্যতা সন্দেহ করা হলে রক্তের একটি কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করা জরুরি। এটি দেখে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ও লোহিত কণিকার পরিমাণ, আকার, রঞ্জক পদার্থের ঘনত্ব ও মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক আরবিসি ইনডেক্স দেখে রক্তশূন্যতার কারণ অনুমান করতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার জন্য পরে অন্যান্য পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা কী? 

যেকোনো ধরনের রক্তস্বল্পতায় চিকিৎসা দেওয়া হয় রক্তস্বল্পতার পেছনের কারণটিকে বিবেচনা করে। যেমন, পেপটিক আলসার, পাইলস বা ক্যানসার শনাক্ত করা বা কেন মাসিকে বেশি রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তা খোঁজে বের করা ইত্যাদি।

রক্তশূন্যতা হলে আয়রন বড়ি কিনে খেলেই হলো—এ ধারণা ঠিক নয়। আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতায় কী কারণে আয়রনের ঘাটতি হলো, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টিজনিত কারণে হলে আয়রন দেওয়াটাই মূল চিকিৎসা। সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আয়রন বড়ি/সাপ্লিমেন্ট দেয়া হয়, কিন্তু

আয়রন সাপ্লিমেন্ট দুই ভাবে দেওয়া হয়। মুখে খাওয়ার জন্য ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারে, শিরায় ইনজেকশন হিসেবে। কোন উপায়ে রোগী এটা নেবে, তা রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন। পেপটিক আলসার, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, পাইলস থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। নিয়মিত কৃমির ওষুধ খেতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য একটা বড় হুমকি হলো এই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা। অথচ এর সমাধান খুব সহজ। রক্তপরীক্ষা করলে এই রোগ নির্ণয় করা একেবারেই সহজ। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার গণনা ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরিমাপ সম্ভব। শুধু দরকার একটু সচেতনতা।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করণীয়।
যে খাদ্য গুলিতে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রন পাওয়া যাবে:

রক্ত স্বল্পতা প্রতিকারের উপায়—

শরীরে আয়রনের ঘাটতিজনিত কারণে রক্ত স্বল্পতা হলে আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। রক্ত স্বল্পতায় অনেকে আয়রন ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। তবে ইচ্ছামতো আয়রন ট্যাবলেট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো আয়রন খাওয়াই ভালো।

কিছু পুষ্টিকর খাবার আছে যা খাওয়ার মাধ্যমে কোনও ওষুধ ছাড়াই রক্ত স্বল্পতা দূর করা সম্ভব। যেমন- দুধ, শাক-সবজি, মধু, বিভিন্ন ফল ইত্যাদি। যারা ফল খেতে ভালবাসেন না তারা প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন খুব সহজেই শরীরের কাজে লাগাতে পারেন।

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় এবং শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া দরকার। এর পাশাপাশি আয়রন সমৃদ্ধ ওষুধও খেতে পারেন।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর জন্য কচু, কচু শাক, কচুর লতি, কলার থোড়ের ভর্তা, কবুতরের গোস্ত, ডালিম বা আনার, পাকা পেয়ারা, তরমুজ, শুকনা খেজুর ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। 

রক্তে আয়রন বাড়ানোর জন্য, কচুশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচা কলা, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, গিলা, গরু-খাসির মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে।

তথ্যসূত্র:

  • উইকিপিডিয়া।
  • ডা. গুলজার হোসেন- রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, 
  • অধ্যাপক আল-আমিন মৃধা- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগ, 
  • ডাক্তার শরিফুল ইসলাম, প্রথম আলো।
  • ডা. এম শমশের আলী, সিনি. কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • আনন্দবাজার।
  • সময় টিভি।
  • এনটিভি।
  • জি ২৪ ঘণ্টা এবং এমএইচ/ এসএইচ/ থেকে একুশে টিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.