মাথা যন্ত্রণা হয় মাঝে মাঝেই? ওষুধ ছাড়াই নিন সমাধান!
মাথা ব্যথা হলে সচেতন হতে হবে বইকি। কপাল জুড়ে মাথা যন্ত্রণা, না কি মাথার পিছন দিকে ধীরে ধীরে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া— ঠিক কী ভাবে আর কোথায় যন্ত্রণ।
![]() |
| মাথা যন্ত্রণা অন্য কোনও অসুখের সঙ্কেতও বহন করে। |
সর্দিতে মাথা যন্ত্রণা হওয়া আর মাঝে মাঝেই মাথা ব্যথায় কাবু হয়ে পড়া এক জিনিস নয়। মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে ঝাপসা দেখা বা চোখ থেকে জল পড়ার মানে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও হতে পারে। আবার এর সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা চোখে অন্ধকার দেখার অর্থ কিন্তু মস্তিষ্কের স্নায়ুগত কোনও সমস্যাও হতে পারে। অনেকেরই মাথার সঙ্গে ঘাড়ে ব্যথা, গা-বমি ভাব এ সবও হয়ে থাকে, তখন আবার ইঙ্গিত যায় মাইগ্রেনের দিকে। আবার মাথার পিছন দিকে ঘন ঘন অসহ্য যন্ত্রণা কিন্তু কোনও টিউমার জাতীয় অসুখ থেকেও হতে পারে।
তাই মাঝে মাঝেই মাথা ব্যথা হলে সচেতন হতে হবে বইকি। কপাল জুড়ে মাথা যন্ত্রণা, না কি মাথার পিছন দিকে ধীরে ধীরে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া— ঠিক কী ভাবে আর কোথায় যন্ত্রণা হচ্ছে তার উপরেও নির্ভর করে চিকিৎসা। তাই মাথা যন্ত্রণায় বার বার ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কিন্তু সব সময় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ বা সময় হয় না, আবার ওষুধ খেলেই যে সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমে যায় এমনটাও নয়।
অনেকেই মাথা যন্ত্রণা কমাতে প্যারাসিটামল বা বেদনানাশক ওষুধ খান। যখন তখন সে সব ওষুধ খাওয়া শরীরের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। তাই কিছুটা ঘরোয়া উপায়ও অবলম্বন করতে হয় আমাদের। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে এই সব উপায় মেনে চললেও মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে। তবে তা বলে চিকিৎসাকে অবহেলা করবেন না যেন!
কফি ও চা-এ না: মাথা যন্ত্রণা হলেই চা বা কফির উপর নির্ভর করেন অনেকেই। আমাদের ধারণা চা বা কফি মাথাব্যথা সারায়। আসলে কফির ক্যাফিন স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করে ফলে ব্যথা কমেছে বলে মনে হয়। সে ধারণা ভুল। উল্টে মাথা ব্যথা সারাতে বেশি মাত্রায় চা-কফি শরীরের অন্য জটিলতা ডেকে আনতে পারে ও ক্যাফিন নির্ভর করে তুলতে পারে, যা ক্ষতিকর।
নিরুদ্বেগ বিরাম: মাথা যন্ত্রণার বাড়বাড়ি হলে কখনও কাজের মধ্যে থাকবেন না। সম্ভব হলে অন্ধকার ঘরে চোখ বুজে বসে থাকুন। চেষ্টা করুন পছন্দের গান শুনতে। এসি চালাবেন কি না তা নির্ভর করবে ঘরের আবহাওয়া কেমন পছন্দ করবেন তার উপর। আধ ঘণ্টা চোখ বুজে বিশ্রাম নিতে নিতে কোনও রকম মোবাইল চেকিং, গেম খেলা, টিভি দেখা এ সব করবেন না।
![]() |
| আরাম পেতে আধাঘন্টা চোখ বুজে, নিঃশব্দে বিশ্রাম নিন। |
![]() |
| উগ্র, বাজে বন্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। |
- ১. অপর্যাপ্ত পানি পান: পানির ঘাটতি পানির আরেক নাম জীবন কি এমনি এমনি বলে? পানি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। আর্দ্রতা বজায় রাখে। হজমশক্তি বাড়ায়। শরীর সতেজ রাখে। তাই পানির অভাবে শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি মাথাব্যথাও হতে পারে।
- ২. অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস: অনেক সময় খাবারও মাথাব্যথার কারণ হয়। খাবার হজম না হলে গ্যাস থেকে মাথা ধরে। তাই একমাত্র খিদে পেলে তবেই খাবেন। আবার দুটো বেলা খাবারের মাঝখানের গ্যাপ বেশি হলেও কিন্তু মাথাব্যথা হতে পারে। তাই অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়া ভাল।
- ৩. অশুভ অঙ্গভঙ্গি: ভুলভাবে শোয়া-বসা সঠিকভাবে না শুলে বা বসলেও কিন্তু শিরদাঁড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে হজমের সমস্যাও দেখা দেয়।
- ৪. অ্যালকোহল ও মদ্যপান: অ্যালকোহলে আসক্তি নিয়মিত মদ্যপান বা মাত্রাছাড়া আসক্তি শুধু মাথাব্যথা নয়, আরও অনেক রোগ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে রেড ওয়াইন কিন্তু নানা রোগের ডিপো। মদ্যপান অ্যালকোহল খাওয়া কখনই উচিত নয়। এতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। সেকারণেই মাথা ধরে যায়। এছাড়া এতে থাকা টাইরামিন ও ট্যানিন জাতীয় উপাদান মাথা ব্যথায় অনুঘটকের কাজ করে।
- ৫. বিভিন্ন যন্ত্রের ঝনঝনানি: সারাক্ষণ যন্ত্রে বুঁদ সারাক্ষণ মুঠোফোন কানে? অনেকক্ষণ গ্যাজেট ব্যবহারের পর মাথাব্যথা করে? যন্ত্রে অতিরিক্ত আসক্তিও কিন্তু মাথাব্যথা ডেকে আনে।
- ৬. প্রসেসড মাংস: মাংস দিয়ে তৈরি খাদ্য, এতে থাকা উপাদান মাথা যন্ত্রণাকে অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। ফলে নিয়মিত মাথা যন্ত্রণার সমস্যা থাকলে বেকন, সসেজ, পেপারনি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
- ৭.চিজ: ডেয়ারি পণ্য চিজেও রয়েছে টাইরামিন যা মাথা ধরায় অনুঘটকের কাজ করে। চিজ যত পুরনো হবে, ততই মাথা বেশি ধরে।
- ৮. কার্বোনেটেড পানীয়: এখন গরমকালে বিভিন্ন ধরনের ডায়েট সোডা ছাড়াও নানা ধরনের ক্যান্ডি, চুয়িংগামে থাকা চিনি জাতীয় উপাদান মাথা যন্ত্রণায় অনুঘটকের কাজ করে।
- ৯. চকোলেট: চকোলেট মুড ভালো করতে পারে তা গবেষণায় প্রমাণিত। তবে একইসঙ্গে এটাও দেখা গিয়েছে যে, এতে থাকা ক্যাফেইন মাইগ্রেনের যন্ত্রণাকে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
- ১০.আইসক্রিম: আপনি আইসক্রিম ভালোবাসলেও মাথা যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এটি। সেই কারণেই অনেকেই আইসক্রিম খাওয়ার পরে মাথা ধরার সমস্যা ভোগেন।
- ১১. কফি: মুহূর্তে ক্লান্তি দূর করে মুড ফিরিয়ে দিতে পারে কফির একটা চুমুক। তবে দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কফি খেলে এতে আসক্তি বাড়বে। এর যার ফলে অনিদ্রা ও মাথা যন্ত্রণার সমস্যা তৈরি হবে।
- স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'বোল্ট স্কাই'।
- আনন্দবাজার।
- বাংলাদেশ প্রতিদিন।
- Edited: Natural_Healing.



কোন মন্তব্য নেই