First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার

অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ব্যাপারে আজকাল আমরা জানছি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও সুস্বাস্থ্যের জন্য এটি দরকার। কিন্তু এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে কতটুকু দরকার এবং কোন কোন খাবার থেকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যাবে, তা জানা নেই অনেকের।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কি? কত প্রকার?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হলো কিছু ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের (দেহের কোষ, প্রোটিন ও DNA ক্ষতি করে এমন কিছু) বিরুদ্ধে লড়াই করে, শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে শরীরে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। 

প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হলো-

বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন, সেলেনিয়াম ইত্যাদি।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খেতে হবে। শরীরে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। মূলত পাঁচ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো হলো, ভিটামিন-এ, সি, ই, বিটা-ক্যারোটিন, লাইকোপেন, লুটেইন, সেলেনিয়াম ইত্যাদি। 

ডেভিড নিয়মান বলেন, আপনি যদি খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন পান তাহলেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তিনি ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই বাড়িয়ে দিয়ে ক্রীড়াবিদদের ওপর গবেষণা চালিয়েছিলেন। তিনি দেখেন ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই সি বাড়িয়ে দেওয়া কারণে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পূর্বের তুলনায় বেড়ে যায়।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কেন প্রয়োজন?

বিভিন্ন কারণে শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে খুব সামান্য, তবে অবশ্যই প্রয়োজন আছে। শরীরে যেসব কারণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রয়োজন হয়, তা হলো—

*অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে

*সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে

*ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’-এর অভাবজনিত ক্ষতি দূর করে

*প্রাণোচ্ছলতা বজায় রাখে

*স্মৃতিশক্তি বজায় রাখে

*ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একজন ব্যক্তি যত বেশি অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাবেন, তাঁর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বাড়বে।

কোন কোন খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে:

*শাকসবজি ও ফলমূলে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া যেসব খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, তা হচ্ছে ভিটামিন ‘ই’, ভিটামিন ‘সি’, বিটা ক্যারোটিন, কাঠবাদাম, গ্রিন টি, আনারাস, আঙুর, ভুট্টা, লাল আটা, বাদাম তেল, জলপাই, খেজুর, উদ্ভিজ তেল, ব্রোকলি প্রভৃতি।

*প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি অবশ্যই থাকা উচিত। ক্যালসিয়াম ও আঁশসমৃদ্ধ খাবারেও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। সারা দিনে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা উচিত। কারণ, পানিতেও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে।

১. লেবু

এই সাইট্রাস ফলটি ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস এবং এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও শক্তিশালী উৎস। সাইট্রাস ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণে খাদ্যতালিকায় লেবু রাখতে পারেন।

২. বাদাম

বাদাম ভিটামিন ই-এ ভরপুর একটি খাবার। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম ইত্যাদি খেতে পারেন। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ করতে কাজ করবে।

৩. ব্রকলি

ব্রকলি ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎস। পাশাপাশি এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যায়। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে স্যালেনিয়াম। এটি শরীরের জন্য ভালো।

৪. মাছ

মাছের মধ্যে রয়েছে স্যালেনিয়াম। এটি মানব শরীরকে সুরক্ষা দেয়, ভালো রাখে। বিভিন্ন ধরনের মাছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

৫. লাল চাল

লাল চাল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো। এটি কম ক্যালরি সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে পলিফেনল। এটি অক্সিডেশন (জারণ) প্রক্রিয়াকে বন্ধ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা মেটাতে খাদ্যতালিকায় লাল চালও রাখতে পারেন।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই লেবু, করলা, বেগুনি বা লাল বাঁধাকপি, বিট, ব্রকোলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, পালংশাক, সবুজ শাক, কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই খান বেশি করে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট এর উপকারিতা:

* বিভিন্ন রকমের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন বিটা ক্যারোটিন চোখের জন্য খুব উপকারী, ফ্লাভানোয়েড হার্টের জন্য ভালো।

* অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের অতি বেগুনি রশ্মির কারণে যে ক্ষতি হয়, তা প্রতিরোধ করে।

* হৃদ্‌রোগ, চোখের বিভিন্ন রোগ, স্মৃতিশক্তিজনিত যেকোনো সমস্যা প্রতিরোধ করে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।

* অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বজায় থাকে, চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুল পড়া রোধ করে। এটি আয়রন লেভেল কার্যকরভাবে রক্ষা করে হিমোগ্লোবিনের সমতা বজায় রাখে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গ্রহণ করলে শরীর দুর্বল হয় না।

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেশন (জারণ) প্রক্রিয়াকে কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেশনের কারণে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-জাতীয় খাবার খেলে কোষ স্বাস্থ্যকর থাকে।

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-জাতীয় খাবার ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এটি শরীর থেকে ফ্রি র‍্যাডিকেল দূর করে এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে কাজ করে। এটি ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত রাখে।

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেতে হলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এ জাতীয় খাবার রাখা জরুরি।

অ্যান্টি অক্সিডেন্টের অভাবে কী হতে পারে?

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মূলত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর অভাবে লিভারে সমস্যা হতে পারে, ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, খুব কম বয়সে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায় এবং অনেক সময় রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।

সুতরাং সবারই প্রতিদিনের খাদ্যের তালিকায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে এমন খাবার রাখা উচিত।

তথ্যসূত্র: 

  • বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন্নাহার নাহিদ,
  • নিউট্রেক্স গ্লোবাল হিলিং সেন্টার> প্রথম আলো।
  • বোল্ডস্কাই> এনটিভি।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.