First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

কোন ভিটামিনের অভাবে কি হয়?

সারাদিন যে পরিমাণে পরিশ্রম হচ্ছে সে পরিমাণে খাবার না খাওয়ায় শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। যার কারণে শারীরিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।

আমাদের শরীরে ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা নানা রকম ভিটামিন খেয়ে থাকি। কিন্তু, সময় বিশেষে ভিটামিনের অভাব হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী৷ গবেষণার তথ্য অনুসারে, গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি মানুষ ভিটামিনের অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন৷

ভিটামিনের অভাব আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়৷ ফলে খুব দ্রুত রোগাক্রমণের সম্ভবনা থাকে৷ যার জন্য দায়ী অবশ্য আমাদের জীবনযাত্রাই৷ আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন, ভিটামিনের অভাব বুঝবেন কীভাবে?

শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে শারীরিকভাবে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়। যেমন, অবসন্নতা, ছোট শ্বাস, ক্লান্ত ত্বক, মাথা ঘোরা, অনিয়ন্ত্রিত হার্টবিট- এগুলো ভিটামিনের অভাবের লক্ষণ।

১. সংকেত-:

গাল, হাত প্রভৃতি জায়গায় লাল অথবা সাদা ব্রণ হওয়া-

অভাব-

এটি ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি এর অভাব নির্দেশ করে।

যেভাবে দূর করবেন-

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। ভিটামিন ডি পেতে সূর্যের আলো লাগানো চাই শরীরে, তবে বুঝেশুনে। সাধারণত বলা হয়, সকাল ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে আলো বেশি ভালো। এ ছাড়া মাছ, টুনা, সার্ডিন, ডিম, দুধ, মাখন, সবুজ পাতাজাতীয় সবজি এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, ওয়াল নাট ইত্যাদিও যোগ করতে পারেন।

আর ভিটামিন এ পেতে পেপে, রঙিন সবজি, গাজর, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। 

২. সংকেত-:

হাত, পা অথবা দেহের অন্য কোনো জায়গায় অসাড়তা-

অভাব -

এই ধরনের সংকেত ভিটামিন বি-এর অভাব নির্দেশ করে। যেমন বি৬ এবং বি১২। এটি পেরিফেরাল স্নায়ুর সমস্যা নির্দেশ করে, যা ত্বকে এসে শেষ হয়। এ ছাড়া উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, এনিমিয়া, অবসন্নতা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও ভিটামিন বি-এর অভাবে দেখা দিতে পারে।    

কীভাবে দূর করবেন-

খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি-এর পরিমাণ বেশি রাখতে হবে। বাদামি ভাত, বাদাম, ডিম, মুরগি, খাসির মাংস, কলা, ব্রকলি, বাঁধাকপি এবং সবুজ পাতাজাতীয় সবজি ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। 

৩. সংকেত-:

মুখের কোনো খাঁজ-

অভাব-

জিংক,আয়রন এবং ভিটামিন বি, যেমন, নায়াসিন (বি৩), রিবোফ্লেভিন (বি২)।

দূর করবেন যেভাবে-

টুনামাছ, ডিম, মুরগি, টমেটো, পিনাট, ব্রকলি ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি দই, পনির, ঘি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

৪. সংকেত-:

পেশি খিঁচুনির কারণে টনটন করে ব্যথা, বিশেষ করে পায়ের বিভিন্ন অংশে-

অভাব-

ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। যদি এই সমস্যা প্রায়ই হতে থাকে তবে বুঝতে হবে যে আপনার খাবারে এগুলোর অভাব রয়েছে।

দূর করবেন যেভাবে-

পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন। কলা, বাদাম, নারকেল পানি ইত্যাদি। ম্যাগনেসিয়ামের জন্য গাঢ় সবুজজাতীয় খাবার খেতে পারেন। গাজর, বাদামি ভাত, কাজুবাদাম থেকে ক্যালসিয়াম পাওয়া যাবে।

৫. সংকেত-:

মুখে লাল র‍্যাশ এবং অতিরিক্ত চুল পড়া ও পেকে যাওয়া এবং রুক্ষ হওয়া-

অভাব-

অতিরিক্ত চুল পড়া ও তাড়াতাড়ি চুল পেকে যাওয়ার কারণ হচ্ছে যত্নের অভাব বা কসমেটিকের জন্য, এটি অনেকেই মনে করেন। কিন্তু এই ধারণাটি ভুল, এটি কোনো ধরণের কেমিক্যালের প্রভাব নয় বা যত্নের অভাব নয়। এটি ভিটামিন বি৭ (বায়োটিন), ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে এর অভাবজনিত সমস্যার লক্ষণ। এটি বায়োটিন (বি৭) চুলের ভিটামিন হিসেবে পরিচিত। যখন আপনার শরীর চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন খায় (যেমন এ ডি ই কে) তখন বেশি ভিটামিন বি সঞ্চয় হয় না। 

যেভাবে দূর করবেন-

অ্যাভাকাডো, মাশরুম, ফুলকপি, সয়াবিন, বাদাম, মাছ, ডিম, ফুলকপি, আমন্ড, তিলের বীজ ও কলা রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। 

৬. সংকেত-:

হাতে ও পায়ে ঝি ঝি ধরা-

হাতে ও পায়ে ঝি ঝি ধরা, পায়ের পাতা, তালু এবং পায়ের পেছনের অংশে ব্যথা অনুভব করার সমস্যায় পড়েন কমবেশি অনেকেই। আমরা ধরেই নেই এ সকল সমস্যার কারণ একটানা বসে থাকা ও নার্ভে চাপ পড়া। 

অভাব-

এই সমস্যাগুলোর মূলে রয়েছে ওয়াটার স্যলুবল বি ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব।

যেভাবে দূর করবেন-

সবুজ শাক, কাঠবাদাম, তাল, কমলা, কলা, চিনাবাদাম, ডাবের পানি, কিশমিশ, কাজু বাদাম ইত্যাদি রাখুন খাদ্য তালিকায়।

৭. সংকেত-:

ঠোঁটের কিনার ও পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া-   

ঠোঁটের কিনার ফাটা ও পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ভিটামিনের অভাব। আমরা অনেকেই মনে করি, ঠোঁট ফাটা বা ঠোঁটের কিনার ফাটা শীতকালের সমস্যা অথবা একটু পানিশূন্যতার লক্ষণ। 

অভাব-

কিন্তু এটি ভিটামিন বি৩, বি২ ও বি১২ এবং আয়রন, জিংক ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ।

যেভাবে দূর করবেন-

ডিম, টমেটো, চিনাবাদাম, ডাল, দই, পনির, ঘি এবং ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়।

৮. সংকেত-:

দেহের নানা অংশ অবশ হয়ে যাওয়া-

দেহের নানা অংশে অবশবোধ হওয়া খুবই সাধারণ একটি লক্ষণ। অনেক সময় আমরা ভাবি একটানা একভাবে বসে থাকা কিংবা নার্ভের ওপর চাপ পড়ার কারণে এটি ঘটে।

অভাব-

কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভিটামিন বি৯, বি৬ এবং বি১২ এর অভাব দেহে হলে এই লক্ষণটি দেখা দেয়। এছাড়াও ভিটামিনের অভাবের কারণে বিষণ্ণতা, রক্তস্বল্পতা, দুর্বলতা এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায়।  

যেভাবে দূর করবেন-

সামুদ্রিক মাছ, লাল চালের ভাত, বাদাম, ডিম, মুরগির মাংস, কলা, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং সবুজ শাক রাখুন খাদ্য তালিকায়।

৯. সংকেত-:

পেশিতে টান ধরা- মাঝে মাঝে পায়ের হাঁটুর পিছনের পেশিতে টান ধরে।

অভাব-

ভিটামিন বি ও তার সঙ্গে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের কমতি রয়েছে শরীরে।

যেভাবে দূর করবেন-

ছোট মুরগীর মাংস বেশি করে খেতে হবে তার সঙ্গে ডিম ও দুধ রাখা প্রয়োজন। 

১০. সংকেত-:

দেহের বিভিন্ন অংশে লাল ও সাদা রংয়ের ফোস্কা ওঠা-

মুখ, বাহু, উরু এবং দেহের পিঠের নিচে ও পেছনের অংশে লাল বা সাদাটে রংয়ের ফোস্কা উঠে, সেটা আমরা সাধারণ সমস্যা মনে করি।

অভাব-

কিন্তু আসলে দেহের এই সকল স্থানে লালচে ও সাদাটে রংয়ের ফোস্কা ভিটামিন এ ও ডি এবং এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিডের অভাবের লক্ষণ।

যেভাবে দূর করবেন-

একটানা অনেকক্ষণ এসি ঘরে থাকবেন না, সূর্যের আলোতে বের হন, প্রচুর পরিমাণে মাছ, শাকসবজি ও ডিম রাখুন খাদ্য তালিকায়।

১১. সংকেত-:

চোখের নানা ধরনের সমস্যা।

অভাব-‌ ভিটামিন-এ।

যেভাবে দূর করবেন-

গাজর, ফুলকপি, লাউ, পালং শাক, মিষ্টি আলু, লাল শাক, সহ সব রকমের সবুজ এবং হলুদ শাকসবজি, রঙিন ফলমূল, সাধারণত যে শাকসবজি বা ফলের রঙ যত গাঢ় হয় তাতে ভিটামিন ‘এ’ র পরিমান তত বেশি হয়। এছাড়া মিষ্টি কুমড়ো, পাকা পেঁপে, ব্রকোলি, রাঙা আলু, চিজ, আম, পনির, মটরশুঁটি, টমেটো, বাটার, কমলা ও অন্যান্য সব্জি, ফল ইত্যাদিতে খাবার থেকে ভিটামিন ‘এ’ বা ক্যারোটিন পাওয়া যায়।

১২. সংকেত-:

বেরিবারি রোগ হয‌ওয়া যা পেশীকে দুর্বল করে দেয়। এছাড়াও হৃৎপিণ্ডের আকার বেড়ে যাওয়া, পায়ে খিল ধরা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়া। 

অভাব- Vitamin B1 (থায়ামিন)।

যেভাবে দূর করবেন-

ডাল, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, মটর, শিম, যকৃৎ, বৃক্ক, হৃৎপিণ্ড এবং পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবারে এই ভিটামনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে। 

১৩. সংকেত-:

মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। অ্যানিমিয়া ও স্কার্ভি রোগ হয়‌ওয়া। খুব সহজে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়া। 

অভাব- ভিটামিন-সি।

যেভাবে দূর করতে পারেন-

লেবু, আমলকি, পেয়ারা,আঙুর ইত্যাদি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলগুলি৷ কাঁকরুল, করলা, কাঁচা আম। শজনেপাতা, নটেশাক, ধনেপাতা, ডাটাশাক।

১৪. সংকেত-:

হাড়ের ক্ষয় এবং গঠনগত ত্রুটি দেখা দেওয়া। পেশিতে ব্যথা, হাই প্রেশার হরমোনের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও কোমরে ব্যথা, সারাদিন ক্লান্তি বোধ এগুলিও লেগেই থাকে।

অভাব- ভিটামিন-ডি।

যেভাবে দূর করতে পারেন-

দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন মাছের তেল, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, চর্বি গরুর যকৃৎ বা লিভার, মাশরুম, কর্ড লিভার তেল, মার্জারিন, কমলালেবু৷ এবং ইলিশ মাছের তেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। 

১৫. সংকেত-: 

চুলের বিভিন্ন সমস্যা। শরীরের ভারসাম্য হীনতা। চোখে ঝাপসা দেখা।

অভাব- ভিটামিন-ই।

যেভাবে দূর করবেন-

পালং শাক, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, দ্ভিজ্জ তেল (কর্ন, কার্পাস তুলার বীজ, সয়াবিন), ক্যানোলা বা সানফ্লাওয়ার অয়েলে রান্না করা খাবার, আমন্ড, ব্রকোলি, গমের ভ্রুণ, সমগ্র খাদ্যশস্য, মাছ, অ্যাভোক্যাডো, এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস।

১৬. ফোলা চোখ নিয়ে সকালে ঘুম থেকে ওঠা- অনেকের কাছেই বিষয়টি অবহেলার৷ কিন্তু, এটিও হতে পারে একটি ইঙ্গিত৷ প্রতিদিন যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে৷ তবে সাবধান হোন৷ ঘরোয়াভাবে এই অভাব পূরণ করতে খেতে পাবেন আলু, দই ইত্যাদি৷

তথ্যসূত্র:

  • টাইমস অফ ইন্ডিয়া> NTV.
  • কেএনইউ/এসি> ETV.
  • বিডি প্রতিদিন> আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর।
  • Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.