First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

সুনামি থেকে বাঁচার উপায়

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে খুব সম্প্রতি বড় ধরণের কোন সুনামি না হলেও, আরাকান অঞ্চলের একটি টেকটনিক প্লেটের কারণে সুনামির ঝুঁকি রয়েছে বলে বলছেন বিশ্লেষকরা।

তবে খুব তাড়াতাড়ি সেটি ঘটার আশঙ্কা নেই বলে বলছেন একজন বিশেষজ্ঞ।

কিন্তু সুনামির কোন ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাংলাদেশে প্রায় কোন প্রস্তুতি নেই বলেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

সুনামি কি?

সুনামি শব্দটি জাপানি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ হারবার ওয়েভ বা পোতাশ্রয়ের ঢেউ। এটি আসলে বিশাল আকারের শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস।

সমুদ্রতল বা তীরবর্তী মাটির গভীরে ভূমিকম্প অথবা টেকটনিক প্লেটের আকস্মিক উত্থানপতনের ফলে সমুদ্রের পানিতে কম্পনের তৈরি হয়, ফলে সেখানে বিশাল আকারে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। সেই ঢেউয়ের ফলে পানি আরো ফুলে উঠে যখন প্রবল বেগে ধাবিত হতে থাকে, সেটাকেই সুনামি বলে বর্ণনা করা হয়।

সমুদ্রতলের আগ্নেয়গিরি থেকে হঠাৎ অগ্নুৎপাতের কারণেও সুনামির তৈরি হতে পারে
সুনামিতে পানির ঢেউ কত উচ্চতায় হতে পারে?

২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার পালুতে সাড়ে সাত (৭.৫) মাত্রার ভূমিকম্পের পর যে সুনামি হয়, তাতে ঢেউয়ের উচ্চতা হয়েছিল ১৯ ফুট। ওই সুনামির আঘাতে পালু শহরে ১৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়। এর আগে ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় আরেকটি সুনামিতে আড়াই লক্ষ (২৫০০০০) মানুষ নিহত হয়েছিল।

২০১১ সালে জাপানে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৩৩ ফিট উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে। ওই ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজারের মানুষের মৃত্যু হয়। 

বাংলাদেশের ঝুঁকি কত?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব বলছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাঝে বার্মিজ প্লেট বলে একটি টেকটনিক প্লেট রয়েছে, যেখানে কোন রকম নড়াচড়া হলে বড় ধরণের ভূমিকম্প হওয়ার একটা ঝুঁকি রয়েছে। সেখানে বড় ভূমিকম্প হলে অবশ্যই আশেপাশের সাগরে বড় ধরণের সুনামির তৈরি হবে।

এরকম কিছু হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হবে বলে তিনি বলছেন। কারণ এর ফলে যে ভয়াবহ সুনামির সৃষ্টি হবে, তাতে ঘন জনবসতির বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হতে পারে।

তবে ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, এই প্লেটে ভূমিকম্প হলে অবশ্যই বড় সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখানে খুব তাড়াতাড়ি এই বড় ধরণের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলছেন, অতীতের নানা নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ১৯৬২ সালের ২রা এপ্রিল আরাকান কোস্টে প্রায় সাড়ে আট মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। সে সময়কার তথ্যে জানা যায়, তখন বড় ধরণের সুনামির তৈরি হয়েছি, যা উপকূল থেকে অনেকদূর পর্যন্ত ভেতরে এসে পৌঁছেছিল। যদিও তখনকার সময়ে মানুষ কম ছিল বলে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা হয়তো ততো বেশি হয়নি। তবে ঢাকায় নদীর পানি বেড়ে গিয়ে পাঁচশো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।

''এর পর আর এই অঞ্চলে কোন এতো বড় ভূমিকম্প বা সুনামির তথ্য পাওয়া যায় না। আমাদের হিসাবে, একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর ওই প্লেটে শক্তি সঞ্চয় হয়ে পরবর্তী ভূমিকম্প হতে আরো ৫০০ থেকে ৯০০ বছর লেগে যায়। সেই হিসাবে এখানে ওই প্লেটে বড় ভূমিকম্প হতে আরো দুইশো-আড়াইশো বছর বাকি আছে।'' বলছেন মি. আখতার।

বাংলাদেশ দুইটা বড় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে, যা চিটাগাং-আরাকান থেকে আন্দামানের দিকে চলে গেছে।

তবে কখনো কখনো কিছু ব্যতিক্রমের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি বলছেন।

ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ 'ফানেল শেপ' অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র দক্ষিণ দিতে প্রসারিত হয়ে গেছে।

ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, আন্দামান বা ভারত মহাসাগরে যদি বড় সুনামির তৈরি হয়, ফানেল শেপ হওয়ার কারণে তার প্রভাব কিছুটা বাংলাদেশে এসেও লাগবে। যদিও সেটা হয়তো ইন্দোনেশিয়ার মতো অতোটা প্রলয়ঙ্করী হবে না।

''কিন্তু আগে থেকে সতর্ক না হলে তাতেও অনেক প্রাণহানি ঘটতে পারে,'' তিনি আশঙ্কা করছেন।

সুনামির সতর্কতা কিভাবে?

ভূমিকম্প সম্পর্কে খুব আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব না হলেও, যেহেতু ভূমিকম্পের পরে পানির কম্পনে সুনামির সৃষ্টি হয়, ফলে সুনামি সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বিশ্বের অনেক স্থানে সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কোন ভূমিকম্পের ফলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি হলে দ্রুত সতর্কতা জারি করা হয়। ফলে সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো বা ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোয় সতর্কতা জারি করা হয়, যাতে সেখানকার বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে।

এ কিউ এম মাহবুব বলছেন, চীনে এখন এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যে, সুনামির ঝুঁকি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সবার মোবাইলে বার্তা চলে যায়, যাতে সবাই সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে চলে যেতে পারে। আরো অনেক দেশ সুনামির ক্ষেত্রে দ্রুত নিরাপদ করার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশে এরকম কোন ব্যবস্থা নেই বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব বলছেন, অনেক সময় বড় সুনামির ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে না পারলে তখন অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়।

২০০৭ সালে ঘুর্ণিঝড় 'সিডরের' সঙ্গে আসা জলোচ্ছ্বাসে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। সুনামির ক্ষেত্রে এরকম জলোচ্ছ্বাস আরো বড় হতে পারে।

অধ্যাপক ড. এ কি এম মাহবুব বলছেন,'' আমাদের দেশে সাইক্লোন বা বন্যা মোকাবেলায় আমরা অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছি। কিন্তু সুনামির ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রস্তুতি এখনো আমাদের নেই।''

জলবায়ুর সাথে সুনামির সম্পর্ক কি?

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সুনামিতে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে তেরশ' মানুষ৷ এই সুনামির কয়েক সপ্তাহ আগেই একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির উচ্চতা অল্প বৃদ্ধি পেলেই এই সুনামির ভয়াবহতার মাত্রা বেড়ে যাবে অনেকখানি৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভার্জিনিয়া টেক-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবার্ট ওয়াইস বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে ছোট সুনামিগুলোও আজকের দিনের বড় বড় সুনামির ভয়াবহতা বয়ে আনবে৷''

ওয়াইস সেই গবেষক দলের একজন৷ তাঁরা দেখিয়েছেন বিশ্বের যেসব এলাকায় পানির উচ্চতা বাড়ছে, সেখানে সুনামি কতটা বিপদজনক হতে পারে৷ গত মাসে বিখ্যাত জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস'-এ প্রকাশিত তাঁদের গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ০ দশমিক ৫ মিটার (১ দশমিক ৫ ফুট) উচ্চতা বাড়লে মাকাউতে সুনামি হবে দ্বিগুণ ভয়াবহ৷'

এই গবেষণাপত্রের আরেক লেখক ছিলেন সিঙ্গাপুরের আর্থ অবজারভেটরির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম সুইটজার; তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুক্রবার পালুতে যে সুনামি হয়েছে, ৫০ বছর পর তার মাত্রা হবে আরো ভয়াবহ৷ কারণ, পৃথিবীর এ অংশে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷''

জলবায়ু পরিবর্তন ও সুনামি:

বিজ্ঞানীরা বলে আসছিলেন যে, সুনামি ও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি দু'টি ভিন্ন বিষয়৷ যদিও ধারণা করা হতো যে, পানির উচ্চতা বাড়লে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে যাবে৷ কিংবা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর কারণে এসব অঞ্চলে বড় বিপর্যয় ঘটবে৷ কিন্তু পানি বাড়ার পর সুনামি হলে সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার গবেষণা খুব একটা ছিল না৷

‘‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা দেখতে চেয়েছি আমরা,'' সুইটজার বলেন৷

প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা পরিস্থিতি যেভাবে নিরূপণ করতে পেরেছেন, তা পাঁচ বছর আগেও সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন ওয়াইস৷

গবেষকদের মতে, যে মাকাউকে এখন সুনামিমুক্ত বলা হচ্ছে, পানির উচ্চতা যে হারে বাড়ছে, ভবিষ্যতে তা আর থাকবে না৷

‘‘যেসব এলাকায় দুই থেকে তিন মিটার পানি বাড়লে সুনামি হবে বলে তাকে এখন সুনামিমুক্ত বলা হচ্ছে, সেখানে দেড় থেকে দুই মিটার বাড়লেই তখন সুনামি হয়ে যাবে৷'' সুইটজার বলেন৷

২০১১ সালে জাপানের সুনামি যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তার কারণ ছিল ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প৷ ভবিষ্যতে আরো অনেক কম মাত্রার ভূমিকম্পেই এ মাত্রার সুনামি হতে পারে৷

ওয়াইসের মতে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়লে সুনামির ছোবল থেকে মুক্তি পাবে না অনেক উপকূল, যত দূরেই থাকুক না কেন৷ ২০১১ সালের জাপানের সুনামি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে পৌঁছেছে মাত্র ১০ ঘন্টায়৷ ঘন্টায় এর গতিবেগ ছিল ৭০০ কিলোমিটার৷

এ অবস্থা ভবিষ্যতে আরো কঠিন হবে বলে মনে করেন ওয়াইস ও সুইটজা

ওয়াইস বলেন, আট থেকে দশ মিটার উচ্চতার ঢেউ আক্রান্ত করতে পারে ফ্রেঞ্চ উপকূলকেও৷ তাই ইউরোপ-অ্যামেরিকা কেউই নিরাপদ নয় সুনামির হাত থেকে বাঁচার।

সুনামি থেকে বাঁচতে...

  • ভূমিকম্পের পরবর্তী সময় গুলোতে সচেতন থাকুন, কারণ ভূমিকম্পের পর পরেই সুনামির শুরু হয়।
  • ভূমিকম্প বা সুনামির আগে হঠাৎ পাখি উড়তে থাকা বা অন্য যে কোন পশু-প্রাণী তার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে ইত্যাদি লক্ষণ সুনামির সম্ভাব্যতা প্রকাশ করে।
  • ভূমিকম্প বা সুনামির আগে স্থির পানি থেকে গন্ধ বের হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করুন। কারণ, বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে।
  • ভূমিকম্প, সুনামি বা ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির সংকেত বেজে উঠছে কিনা লক্ষ্য করুন। কোন বিপদের আশঙ্কা মনে হলে এ তথ্যটি সবার কাছে ছড়িয়ে দিন এবং আপনার প্রয়োজনীয় মানুষগুলোকে একত্রিত করুণ এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান।
  • উপকূল থেকে পানি হঠাৎ সমুদ্র বা নদীর ভিতরের দিকে নেমে যাচ্ছে কিনা লক্ষ্য করুন, কারন একটু পরে সেই পানি উঁচু আকার ধারণ করে আবার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
  • সুনামি থেকে বাঁচতে আপনার মূল্যবান সম্পদ বা বস্তু কে ত্যাগ করুন, কারণ সম্পদের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • আপনার সঙ্গে যদি শিশু বা অন্যান্য পরিবারের সদস্য থাকে তাহলে তাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আশার সাম্ভব্য জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন, সকলেরই সাঁতার শেখা নিশ্চিত করুন, আপনি যদি সৈকতে কিংবা জাহাজে থাকেন, তাহলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট এর ব্যবস্থা করুন।
  • যেকোনো উপায়ে কোন বিপদের আশঙ্কা করলে সঙ্গে সঙ্গে কোনো উঁচু স্থান বা নিরাপদ আশ্রয়ে খুব দ্রুত এবং কম সময়ে চলে যান।
আরোও জানতে ক্লিক করুন...
কোন বিপদাপদে হঠাৎ মাথায় আঘাত পেলে প্রাথমিক চিকিৎসা কিভাবে?

সুনামি থেকে বাঁচার গাঠনিক উপায় এবং সমাজ সচেতনতা:

  • সম্ভাব্য বিপদ আগে থেকেই জেনে নিন: আপনি যে অঞ্চলে থাকেন সেখানে সুনামির ঝুঁকি রয়েছে কিনা তা আগে থেকেই জানা জরুরি কারণ, যদি আপনার বাড়ি, স্কুল বা কর্মক্ষেত্র সমুদ্রের কাছাকাছি উপকূলীয় অঞ্চলে হয়?
  • সম্ভাব্য উঁচু স্থান নির্বাচন করুন: আপনার বাড়ি, স্কুল বা কর্মক্ষেত্র সমুদ্রপৃষ্ঠে বা মোটামুটি কম এবং সমতল ভূমিতে বা উচ্চতায় সামান্য পার্থক্য সহ আপনি কী উচ্চতায় আছেন তা যদি আপনি না জানেন তবে আপনাকে তদন্ত করতে হবে এবং বিপদ মুহূর্তে খুব দ্রুত এবং কম সময়ে যেন সে উঁচু (সেটা হতে পারে উচু পাহাড়, উঁচু গাছ বা উঁচু বিল্ডিং ইত্যাদি) স্থানে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে কিছু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা সূচক হিসাবে উচ্চতা চিহ্ন ব্যবহার করে।
  • সাইক্লোন সেন্টারের মত সুনামি সেন্টার‌ও তৈরি করতে হবে: বাংলাদেশের সমুদ্র বা নদীর উপকূল একেবারে নাজুক, Wall of Water (পানির বড় ঢেউ) নেয়ার মতো কোন ব্যবস্থা সেখানে নেই। এমনকি যেসব সাইক্লোন সেন্টার আছে, সেগুলোও বড় সুনামি ঠেকাতে শক্ত নয়। ভবিষ্যতে সাইক্লোন সেন্টারও করার সময় সুনামির ব্যাপারটি বিবেচনায় রাখতে হবে এবং সেগুলো সেভাবে শক্ত আর উঁচু করে নির্মাণ করতে হবে।
  • চাই জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ: আসলে ভূমিকম্পের জন্যই তো আমাদের এখানে যথেষ্ট প্রস্তুতি বা প্রশিক্ষণ নেই। কিন্তু ভূমিকম্প এবং সুনামি, দুইটার জন্যই সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ থাকাটা জরুরি।'' বলছেন মি. মাহবুব। বিশেষ করে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় মানুষজনের সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ফলে উপকূলীয় দেশ হওয়া সত্ত্বেও সুনামির ভয়াবহতার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা প্রস্তুতি নেই।
  • ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতের মত সুনামির‌ও সংকেতের ব্যবস্থা করতে হবে: অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক সময় একঘণ্টা আগেও সুনামির সতর্কতা বার্তা পাওয়া যায়। ফলে যেভাবে সাইক্লোন মোকাবেলায় নানা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সুনামির প্রস্তুতির ব্যাপারটিও যোগ করা উচিত। তাহলে যদি কখনো সেরকম পরিস্থিতি দেখা যায়, প্রাণহানি অন্তত এড়ানো যাবে।''
  • জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে: সুইটজার বলেন, ঝড়-বন্যার মতো দুর্যোগ থেকে প্রাণহানি বা অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে নানা উপায় অবলম্বন করা হয়৷ কিন্তু সুনামির ভয়াবহতা তার চেয়ে অনেক বেশি৷ সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়লে এই ক্ষতি দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি চারগুণ হতে পারে৷ তাই কোনো ধরনের ব্যবস্থাই এর প্রতিরোধক নয় বলে মনে করেন গবেষকরা৷ তাই একমাত্র উপায় জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো৷ ‘‘তা করতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে৷
  • সুনামি ঠেকাতে উঁচু দেয়াল নির্মাণ করতে হবে: গবেষক হিরোইয়াসু কাওয়াই বলছেন, উপকূলে তৈরিকৃত এই দেয়াল সুনামি ঠেকাবে এবং ভূমিতে পানি প্রবেশ প্রতিহত করবে৷ সুনামির উচ্চতা দেয়ালের চেয়ে বেশি হলেও বন্যার পানি ঢুকতে দেরি হবে, আর স্থান পরিত্যাগের জন্য বেশি সময় পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন কাওয়াই৷

জেনে রাখুন;

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে। যখন ধ্বংসাত্মক পর্যায়টি হ্রাস পাবে তখন ধ্বংসস্তুপ, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন এবং ভাঙা অবকাঠামো প্রচুর থাকতে পারে। মৃতদেহও থাকতে পারে। পানীয় জল এবং আলো হিসাবে বেসিক পরিষেবাগুলি ধ্বংস বা বাধাগ্রস্থ হতে পারে। সম্ভবত কোনও খাবার সরবরাহ হবে না। রোগ, ট্রমা মানসিক চাপ, ব্যথা, ক্ষুধা এবং আঘাত এর ঝুঁকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঠিক পরে বজ্রপাত সুনামি-ভূমিকম্প-সাইক্লোন ইত্যাদির মতোই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। ঠিক সেই মুহুর্তে আসার আগে থেকেই নিজেকে, আপনার পরিবার এবং সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য কী করা দরকার তা বিবেচনা করুন।

তথ্যসূত্র:

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব আলম এবং ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, বিবিসি বাংলা।
  • সিঙ্গাপুরের আর্থ অবজারভেটরির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম সুইটজার এবং ভার্জিনিয়া টেক-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবার্ট ওয়াইস, ডয়চে ভেলে।
  • Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.