First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

সুস্বাস্থ্যের জন্য ম্যাগনেসিয়াম

সুস্বাস্থ্যের জন্য যেসব খনিজ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাগনেসিয়াম তার একটি। বলা হয়, ম্যাগনেসিয়াম আমাদের হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হাড়ের সুস্থতার জন্যও এটি জরুরি। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। ম্যাগনেসিয়াম মৌসুমিজনিত প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে, মাংসপেশির কার্যকারিতা বাড়াতে কাজ করে।

ম্যাগনেসিয়ামের অভাব ঘটলে পেশি ও স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে, আবার রক্তচাপ ও বিপাক ক্রিয়ার নানা কার্যক্রম ঠিক রাখতেও সমস্যা হয় তখন। তাই দৈনন্দিন খাবারে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম থাকা উচিত বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। 

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির কারণে অবসন্ন ভাব হতে পারে। 
স্ট্রোক ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতায় অনেক সময় রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কম পাওয়া যায় ও চিকিৎসকেরা শিরায় বা মুখে ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে থাকেন। 

আসুন জেনে নিই কোন কোন খাবারে পাবেন এই খনিজ উপাদানটি:

  • গাঢ় রঙের পাতাযুক্ত শাকে রয়েছে ভালো ম্যাগনেসিয়াম। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সিদ্ধ করে বা সালাদ হিসেবে শাক রাখতে পারেন। পালং শাকে সবচেয়ে বেশি ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়া বাঁধাকপি, পাতাকপিও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস।
  •  বিভিন্ন ধরনের বীজ ও বাদামেও আপনি পাবেন এই খনিজটি। দিনে এক কাপ পরিমাণে কুমড়ার বীজ খেলে তা দিনের ম্যাগসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে। কুমড়ার বীজ ছাড়াও সূর্যমুখীর বীজে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। এছাড়া সবুজ রঙের ফল স্কোয়াসের বীজে, কাজুবাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড, পেস্তা বাদাম ও প্রায় ধরনের বাদামেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।  
  • বরবটি, শিম, সয়াবিন ও নানা ধরনের ডালেও আছে ম্যাগনেসিয়াম। 
  • মাছও ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভালো উৎস। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, যেমন—ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ যেমন- টুনা, স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে একদিন অন্তত এই মাছগুলো খেলে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে।
  • ফলের মধ্যে কলা, কিশমিশ, অ্যাভাকাডো, র‍্যাশবেরি, খেজুরে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। একটি মাঝারি আকৃতির অ্যাভোকাডোতে ৫৮ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। স্মুদি বানিয়ে কিংবা ফলের সালাদ তৈরি করে এ ফলটি খেতে পারেন।
  • ননি ছাড়া দই ও পনিরেও পাবেন এটি।
  • ডার্ক চকলেটও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। এক টুকরা বর্গাকৃতির ডার্ক চকোলেট খেলে ৯৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। তবে খুব বেশি পরিমাণে এই চকলেট একবারে খাওয়া ঠিক নয়। 

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি বোঝার চার উপায়:

সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলের কথা বলতে গেলে আমরা ক্যালসিয়াম ও আয়রনকে বুঝি। তবে ম্যাগনেসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর গুরুত্বও অপরিসীম।

ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে, পেশি ভালো রাখতে কাজ করে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা হয়। দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি বোঝার কিছু উপায়ের কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

১. মেজাজের ওঠানামা ও ঘুমের অসুবিধা-

বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের কারণে ঘুমের অসুবিধা হয়। তবে এর বাইরেও আরেকটি সমস্যার কারণে ঘুমের সমস্যা ঘটে। আর এটি হলো ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির কারণে মেজাজ ওঠানামা করে, আর ঘুমের সমস্যা হয়।

২. পেশিব্যথা ও দুর্বলতা-

পেশিব্যথা ও পেশির দুর্বলতা ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির একটি লক্ষণ। এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরমর্শ নিন।

৩. অবসন্ন ভাব-

অবসন্ন ভাব ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির একটি অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। সব সময় ক্লান্ত লাগলে শরীরের ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

৪. বমি-

টানা বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির একটি লক্ষণ। তাই প্রায়ই বমি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: 

  • এনআইএইচ> প্রথম আলো।
  • এনটিভি।
  • হেলিদবিল্ডার্জড> সমকাল।
  • Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.