যে ১৬টি লক্ষণ দেখলে ডায়াবেটিস রোগের পরীক্ষা করাতে হবে
ডায়াবেটিস হয়েছে, সেটা দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেননি আফরোজা আক্তার। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই তিনি শুকিয়ে যাচ্ছিলেন, ক্লান্তি আর অবসাদ বোধ করছিলেন।
''অনেকদিন ধরে শরীরে খারাপ লাগছে দেখে একজন মেডিসিনের ডক্টরের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার সঙ্গে ডায়াবেটিসের পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। সেখানেই ধরা পড়ে, আমার নাকি অনেকদিন ধরেই ডায়াবেটিস হয়ে গেছে।''
তিনি বলছিলেন, এরপর ডায়াবেটিস হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার করিয়ে ওষুধ খাওয়া শুরু করেন।
তিনি একাই নন, ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ টের পাননা যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
![]() |
| ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা বলছেন। |
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান বলেন, ''ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের অন্তত ৫০ শতাংশ জানেন না যে, তার ডায়াবেটিস আছে। এ কারণে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি খুব জরুরি।''
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে, তারা প্রথমদিকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। কারণ এটা হচ্ছে ধীরগতির ঘাতক। যার হয়েছে, সেদিনই তাকে বিপদে ফেলবে না, কিন্তু আস্তে আস্তে তার শরীরের ক্ষয় করে দেবে।''
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অশনাক্ত থাকলে বা চিকিৎসা না হলে কিডনি, লিভার, চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, চুল পড়ে যায়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতির শিকার হতে পারে।
মি. সাইফুদ্দিন বলছেন, ''যারা যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন, প্রতিদিন যদি অন্তত ১০ হাজার কদম কেউ হাঁটেন, তাহলে ডায়াবেটিক হলেও সেটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। কিন্তু সেটা কতজন করেন?''
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ''কেউ ডায়াবেটিক হলে অবশ্যই তার জীবনযাপনে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে।''
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ-২ ধরণের ডায়াবেটিসের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগেভাগে সতর্ক থাকলে, শারীরিক পরিশ্রম করলে এবং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনলে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু একবার ডায়াবেটিস হয়ে গেলে আর এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে:
ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক। এতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এটি এমনই এক রোগ যাকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে সচেতন থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু এখনও অনেকের মাঝে সেভাবে সচেতনতা বাড়েনি। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, মাত্রাছাড়া খাওয়াদাওয়ার ফলে বাড়ছে ডায়াবেটিসের সমস্যা। এছাড়া মানসিক চাপ ও অনিয়ম থেকেও অনেকের শরীরে বাসা বাঁধে এই রোগটি।
তবে অনেক সময়ে ডায়াবেটিস রোগীরা বুঝে উঠতে পারেন না এই রোগটি কখন নিয়ন্ত্রণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু লক্ষণ আছে তাতে বোঝা যায় শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়ছে। এবার সেই লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিন-
- ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া: বার বার প্রস্রাব হওয়া কিন্তু ডায়াবেটিসের লক্ষণ। সুস্থ স্বাভাবিক যে কোনও মানুষ দিনে চার থেকে সাতবার বাথরুমে যান। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি হয়। এর কারণ হল শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ তৈরি করে, তা প্রস্রাবের মধ্যে দিয়েই বাইরে আসে। যে কারণে অল্প পানি খেলেও বারে বারে বাথরুমে যেতে হয়,
- অধিক পিপাসা লাগা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া: ১০ মিনিট আগেও পানি খেলে যেন মনে হচ্ছে আবারও গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মুখ আর গলার চারপাশ সবসময় শুকনো থাকছে। প্রয়োজনের থেকে বেশি পানি খেয়েও তৃষ্ণা মিটছে না। এরকম সমস্যা হলে একবার সুগার টেস্ট করিয়ে নিন,
- ক্লান্ত লাগা: ডায়াবেটিস বাড়লে শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে। থেকে থেকে ঘুম পায়। এছাড়াও কমে যায় পরিশ্রম ক্ষমতা। এমনকী পর্যাপ্ত ঘুমালেও মেটে না ঘুমের চাহিদা। ফলে তারা যেখানে-সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে এই বিষয়টি অবহেলা করবেন না। পরিশ্রম করলে সবারই ক্লান্তি আসে, ঘুম পায়। কিন্তু শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়লে এই ঘুম পাওয়া হল অন্যতম লক্ষণ। সব সময় মনে হবে ঘুম কম হচ্ছে,
- দুর্বল লাগা' ও ঘোর ঘোর ভাব আসা, অল্প পরিশ্রমেই দুর্বল হয়ে পড়া। এ জন্য অল্পতেই ক্লান্তি লাগলে সচেতন হওয়া উচিত। অন্য অনেক কারণে দুর্বলতা লাগতে পারে, তবে সেটি ডায়াবেটিসের কারণে কি না, তা নিশ্চিত হতে রক্তের শর্করা মাপুন,
- ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া: শরীর যখন খাবার হজম করায় তখন শক্তি উৎপন্ন করে। গ্লুকোজ ভেঙে সেই শক্তি আসে। কিন্তু ইনসুলিন যখন ঠিক মতো কাজ করে না তখন এই প্রক্রিয়া থাকে পুরোপুরি বন্ধ। ফলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজের মাত্রা। আর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেলেও তখন মনে হয় পেট ভরেনি।
- সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া,
- মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া,
- কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া, স্বল্প সময়ের মধ্যে বা হঠাৎ ওজন বেশ কমে যাওয়া বা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া,
- শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা: সামান্য কোনও ঘা যদি শুকাতে সময় লাগে তাহলে মনে রাখবেন আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি। সুগার থাকলেই যে কোনও কাটা থেকে রস গড়ায়। ওষুধ লাগালেও ক্ষত সহজে সারতে চায় না। কাটার জায়গা লাল হয়ে ফুলেও যায়। যদি দেখেন ১০ দিনেও কোনও কাটা শুকাচ্ছে না তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন অবিলম্বে,
- চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব: মুখ আর ত্বক আগের থেকে খসখসে হয়ে যাচ্ছে। চামড়া সবসময় শুকনো থাকছে। এছাড়াও কোন কারণ ছাড়াই সবসময় গা চুলকাচ্ছে। মুখের ভেতর চুলকোনো, পায়ের পাতা জ্বালা করা এসবও কিন্তু ডায়াবেটিস বাড়ার লক্ষণ। বয়সের কারণে ত্বকে বলিরেখা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি কালো বা বেগুনি ছোপ দেখা যায় ত্বকে, বা কনুই, গোড়ালির মতো জায়গা কালো হয়ে যেতে থাকে তা হলে অবশ্যই আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বেশ বেশি,
- বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা,
- চোখে কম দেখতে শুরু করা: চশমা ছাড়াই সব দেখতে পেতেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। সব আবছা লাগছে। দৃষ্টিশক্তি পরিস্কার হচ্ছে না, এসবই কিন্তু সুগারের লক্ষণ। কারণ সুগার বাড়লে তার প্রথম প্রভাব পড়ে চোখে আর কিডনিতে। যে কারণে কোমর ব্যথা, পায়ে ব্যথা ইউরিনের সমস্যা আসে। সেই সঙ্গে চশমা ছাড়া দেখতেও অসুবিধা হয়। চোখ সবসময় জ্বালা করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে শরীরে ফ্লুইডের মাত্রার পরিবর্তন হয়। যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে,
- হাত-পা অথবা হাত-পায়ের কোনো আঙুল অবশ অনুভব হওয়া: পেশির টান, পায়ের তলায় ব্যথা ও জ্বালা সুগার বাড়লে এই সমস্যাও আসে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারা যায় না। চামড়া ফেটে যায়। সুগার খুব বেশি বাড়লে এই সমস্যা কিন্তু আসতে বাধ্য। এছাড়াও পায়ের চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া (কড়া পড়ে যাওয়া) সুগারের লক্ষণ,
- ইউরিন ইনফেকশন: কোন কারণ ছাড়াই ইউরিন ইনফেকশন, জ্বর হচ্ছে? তাহলে ইউরিন ইনফেকশনের ওষুধের পাশাপাশি ডায়াবেটিস চেক করয়ে নিন। আপনার অজান্তেই হয়তো শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। যে কারণে বার বার ইনফেকশন হচ্ছে, বাথরুমে সমস্যা হচ্ছে। এসব হলে একদম অবহেলা করবেন না। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- শ্রবণশক্তি পরিবর্তিত হওয়া: হঠাত্ কি কানে কম শুনতে শুরু করেছেন? অনেকেই ভাবেন বয়স বাড়ার সঙ্গে এমনটা হয়ে থাকে। কিন্তু কানে কম শোনা ডায়াবেটিসেরও লক্ষণ হতে পারে। যদি দেখেন টিভি দেখার সময় ভলিউম ক্রমশ বাড়িয়ে যেতেই হচ্ছে, না হলে শুনতে পাচ্ছেন না তা হলে সাবধান থাকুন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রি-ডায়াবেটিকের কারণে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। অর্থাত্, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, কিন্তু ঠিক যতটা হলে ডায়াবেটিক বলা হবে তার থেকে কম হলে সেই অবস্থাকে প্রি-ডায়াবেটিক বলা হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে তা কানের রক্তনালী ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। যার ফলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে শ্রবণশক্তি,
- সারাক্ষণ চুলকানি: ডায়াবেটিসের প্রভাবে শরীরে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। যার ফলে সারাক্ষণ চুলকানির সমস্যা হতে পারে। যদি ময়শ্চারাইজার ও ক্রিম লাগানোর পরও ত্বক শুষ্ক লাগে তা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে নিন।
কাদের ঝুঁকি বেশিঃ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের এই রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে।
এছাড়া যারা নিয়মিত হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, অলস বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এছাড়া নারীদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে।
যাদের হৃদরোগ রয়েছে, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যেসব শিশুর ওজন বেশি, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের ডায়াবেটিস রয়েছে, যাদের মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হয়েছিল, সেই সব শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কী করতে হবে?
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলছেন, যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে।
এজন্য সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। এখন অনেক ফার্মেসিতে স্বল্পমূল্যে দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যায়। সেখান ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে।
মি. সাইফুদ্দিন বলছেন, ''ডায়াবেটিস যত তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যাবে, সেই রোগীর জন্য সেটা ততো ভালো। তাতে তিনি যেমন রোগটির চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে পারবেন, পাশাপাশি তার জীবনযাপনও একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।''
তথ্যসূত্রঃ
- বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন,
- বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান,
- বিবিসি বাংলা।
- অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান ইউনিটপ্রধান, এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি বিভাগ বারডেম হাসপাতাল, কালের কণ্ঠ।
- এএইচ/এসএ/ > একুশে টিভি।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই