নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা ও সমাধান
![]() |
| হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব তার শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা জলীয় পদার্থ বা তরল জাতীয় খাবার প্রবেশ করাতে হবে। |
'হৃদয়'-এর নানা লীলাখেলায় আমরা প্রায়ই বিড়ম্বিত হই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় তার অন্যতম একটি হলো 'নিম্ন রক্তচাপ'। আমাদের রক্তচাপকে দুটি সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়। প্রথম তথা বড় সংখ্যাটি 'সিস্টোলিক প্রেসার', অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড যখন স্পন্দিত বা সঙ্কুচিত হবে, রক্ত সঞ্চালন করে তখনকার রক্তচাপ। আর দ্বিতীয় তথা ছোট সংখ্যাটি হলো 'ডায়াস্টোলিক প্রেসার' অর্থাৎ দুটি হৃৎস্পন্দনের মধ্যে হৃৎপিণ্ড যখন প্রসারিত হয়ে নিজেকে রক্তে পূর্ণ করে নেয় তখনকার রক্তচাপ। সাধারণভাবে ১২০/৮০ (সিস্টোলিক/ডায়াস্টোলিক) রক্তচাপকে আদর্শ ধরা হয়। তবে কী যার রক্তচাপ এরচেয়ে কম, তিনি অসুস্থ? একজন নিম্ন রক্তচাপের রোগী? আসুন জেনে নিই 'নিম্ন রক্তচাপ'-এর ইতিবৃত্ত।
নিম্ন রক্তচাপ কী?
সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির রক্তচাপ ৯০/৬০ অথবা তার নিচে হলে এবং এর সঙ্গে যদি নিম্ন রক্তচাপের শারীরিক লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়, তার রক্তচাপকে কম বা নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। একজন সুস্থ ব্যক্তি, যার মাঝে শারীরিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণ নেই, আর রক্তচাপ সব সময়ই ৯০/৬০ বা এর কম থাকে_ তিনি নিম্ন রক্তচাপের রোগী নন। বুঝতে হবে যে, তার ওই কম রক্তচাপ তার জন্য স্বাভাবিক।
স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট এনএইচএস চয়েজ এবং জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণগুলোর কথা;
লো প্রেসার এর লক্ষণ:
- মাথা ঘোরানো, মাথা 'হালকা' বা 'ফাঁকা' বোধ হওয়া: নিম্ন রক্তচাপের একটি প্রচলিত লক্ষণ হচ্ছে মাথা ঘোরা। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসলে এই সমস্যা হতে পারে। একটানা কয়েকদিন এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- মূর্ছা যাওয়া বা অজ্ঞান বা প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: মস্তিস্কের রক্ত চলাচল কমে গেলে নিম্ন রক্তচাপ হয়। এতে রোগীরা মূর্ছা যায়। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখা: শরীরে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঙ্গে ভালোভাবে অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছায় না। এটি চোখের ওপর প্রভাব ফেলে। এতে চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা হয়।
- বুক ধড়ফড় করা: রক্তচাপ কমে গেলে হৃদপিণ্ড সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। এতে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা হয়, বুক ধড়ফড় করে। ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।
- ম্লান ত্বক: ত্বক ম্নান হয়ে যাওয়া নিম্ন রক্তচাপের আরেকটি লক্ষণ। রক্তচাপ কমে গেলে ত্বক হলুদ অথবা ত্বক সাদা সাদা হয়ে যাওয়া বা ঠাণ্ডা বোধ হওয়া বা ম্নান হয়ে যায়।
- ঘাম হয় ও অতিরিক্ত তৃষ্ণা বোধ হওয়া: রক্তচাপ কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। শরীরের পানি ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে থাকে। এমন হলে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া প্রয়োজন।
- বমি হওয়া।
- শারীরিক দুর্বলতাও রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ।
- কোনো কিছুতে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা/অপারগতা।
- বিষন্নতা।
নিম্ন রক্তচাপের কারণগুলো সম্পর্কেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন:
নিম্ন রক্তচাপ কেন হয়? একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপ জন্মগতভাবেই সাধারণের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু উপরোক্ত লক্ষণযুক্ত নিম্ন রক্তচাপের রোগীর রক্তচাপ যেসব কারণে কমে যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো_
- দেহে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া বা রক্তস্বল্পতা।
- ঠিকমতো না খাওয়া বা খুব বেশি উপোস থাকাবা অপুষ্টিতে ভোগা।
- অপর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বমি, ডায়রিয়াসহ যেকোনো কারণে পানিশূন্যতা।
- অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় বা স্নায়ুর দুর্বলতা।
- হরমোনের তারতম্য (এডিসন্স ডিজিস)।
- অ্যালার্জির কারণে রক্ত বহনকারী শিরার প্রশস্ততা বেড়ে যাওয়া (এনাফাইলেকটিক শক)।
- হার্ট অ্যাটাক হওয়া বা হার্ট পাম্প করতে না পারা।
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ কেউ হয়তো উচ্চ রক্তচাপের বা হার্ট অ্যাটাকের রোগী। সে ওষুধ খাচ্ছে; কিন্তু সেই ওষুধ পরিমাণে হয়তো বেশি হয়ে যাচ্ছে। তখন তার এটা হতে পারে। এসব কারণে হাইপোটেনশন হলে ওষুধের পরিমাণ কমাতে হবে।
- হার্ট ফেইলিওর, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, হৃপণ্ডের ভাল্ব সমস্যা কিংবা খুব কম হার্ট রেট (ব্রাডিকার্ডিয়া)।
- অতিমাত্রায় জীবাণু সংক্রমণ (সোসিয়া)' অ্যালার্জি' জনিত অত্যধিক প্রতিক্রিয়া ('অ্যানাফাইলেক্সিস)।
- গর্ভাবস্থায়।
- অতিরিক্ত সময় শুয়ে থাকলেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
কারো কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রেসার কম থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি যদি কোনো অসুবিধা অনুভব না করেন, তবে এটা তার জন্য স্বাভাবিক। নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, নিম্ন রক্তচাপ কোন রোগ নয়, তাই একে রোগ বানানো কিংবা চিকিৎসারও দরকার নেই। হাইপোটেনশন হলো অন্য রোগের প্রকাশ। সুতরাং এর মূল চিকিৎসা হলো মূল রোগটি চিহ্নিত করা এবং তার চিকিৎসা করা।
হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ হলে করণীয় কী:
উপরোক্ত আলোচনা সাপেক্ষে এটা স্পষ্ট যে, আপনার রক্তচাপ যদি স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন কম থাকে এবং শারীরিক কোনো লক্ষণ না থাকে, তবে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রক্তচাপ যদি হঠাৎ কমে যায়, অথবা উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে নিম্নোক্ত সাধারণ পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত_
- কারো হয়তো হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ ধরা পড়লে তাত্ক্ষণিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাকে পানীয় জাতীয় কিছু খেতে দেওয়া। যত দ্রুত সম্ভব তার শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড বা জলীয় পদার্থ প্রবেশ করাতে হবে। এধরণের পরিস্থিতিতে তাকে ডাব, স্যালাইন, চা, পানি, দুধ বা অন্য যেকোন তরল খাবার খাওয়াতে হবে। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে, রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
- অতিরিক্ত পরিশ্রম পরিহার করুন।
- অতিরিক্ত রোদে বা গরমে থাকবেন না।
- দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা শুয়ে থাকবেন না।
- শোয়া থেকে বসা বা বসা থেকে দাঁড়ানো_ ধীরে করুন।
- ডায়াবেটিস রোগী হলে, রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
- নতুন কোনো ওষুধ সেবন করার পর রক্তচাপ কমলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নিম্ন রক্তচাপ প্রতিরোধে করণীয়:
- সারাদিনই মাঝেমধ্যে হালকা খাবার খাওয়া। বেশি সময় উপোস বা খালি পেটে না থাকা।
- অনেকক্ষণ একই স্থানে বসা বা শুয়ে থাকার পর সাবধানে ও ধীরে ওঠা।
- পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে খাবারে আলু, ডিম, মাছ, মাংস, ছানা, বাদাম, সবুজ শাক নিয়মিত রাখা।
- খাদ্যতালিকায় লবণ স্বাভাবিক রাখা।
- পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হালকা ব্যায়াম করা।
- ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- বমি বা ডায়রিয়া হলে শরীরে পানির ভারসাম্য যাতে বহাল থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা।
লক্ষনীয় বিষয়:
অকারণেই ক্লান্ত?
আপনার কি অকারণেই ক্লান্ত লাগে কিংবা হঠাৎ করে চোখের সমানে সবকিছু কেমন ঘোলাটে মনে হয়? তাহলে আপনার প্রেশার বা রক্তচাপটা একটু ‘চেক’ করিয়ে নেওয়া উচিত৷ এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে লো প্রেশারের সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে৷
বয়ঃসন্ধিকাল;
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে-মেয়েরা যখন লম্বা হয় তখন শরীরে রক্তের চাপ কমতে পারে, যা কিনা শরীরে হরমোন পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত৷ তবে এ নিয়ে ভাবনার কিছু নেই৷ কারণ এই সমস্যা নিজে থেকেই চলে যায়৷ জানান ডা. বডো শিফমান৷
মাসিক ঋতুস্রাব;
অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণে অনেক মেয়েরই প্রেশার লো হতে পারে৷ এ সময়ে আয়রন ট্যাবলেট বেশ উপকারী৷ অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত নেবে আপনার ডাক্তার৷ তবে যেসব খাবারে আয়রন রয়েছে, অর্থাৎ কলিজা, মাংস, ডিম, বিভিন্ন শাক, কলা, আপেল, টমেটো ইত্যাদি খেলেও কিন্তু উপকার পেতে পারেন৷
ওষুধের প্রভাব;
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন থেকেও অনেক সময় প্রেশার কমে যেতে পারে বা মাথা ঘুরতে পারে৷ এটা সাধারণত হয়ে থাকে ওষুধের পরিমাণ কম-বেশি বা ওষুধ সহ্য না হওয়ার কারণে৷ তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত৷
অন্য অসুখের প্রভাব;
ডায়াবেটিস বা পার্কিনসন্স রোগ থাকলেও কখনো কখনো রক্তের চাপ কমে যেতে পারে৷ নার্ভ ধমনীকে ‘কন্ট্রোল’ করে থাকে বলে, রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে তা নার্ভের ক্ষতি করে৷ এরকম পরিস্থিতিতে রক্তের চাপ কমে নীচের দিকে, অর্থাৎ পায়ে নেমে যেতে পারে৷
মানসিক চাপ;
হঠাৎ করে অন্য কোনো সমস্যা বা মানসিক অবস্থার কারণে মনের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে আর তা থেকেও রক্তের চাপ একেবারে নেমে গিয়ে ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হতে পারে৷ এ কথা জানান ডা. ভল্ফগাং ফন শাইড্ট৷ আসলে অনেক কারণেই প্রেশার কমে যেতে পারে৷ তাই প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ অন্তর প্রেশার মাপা এবং তা ‘চার্ট’ করে লিখে রাখা জরুরি৷ একমাত্র তবেই বিশেষজ্ঞের পক্ষে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব৷
ব্যায়াম;
রক্তের চাপ কিছুটা কমে গেলে সাধারণত তেমন ভয়ের কারণ থাকে না৷ তবে এক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন৷ তাছাড়া নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করলে সহজেই রক্তের চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷ আর নিয়মিত ব্যায়াম করা দু’রকম প্রেশারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা ‘হাই’ বা ‘লো’ যাই হোক না কেন৷
হৃদপিণ্ড;
সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে শরীরে রক্ত চলাচল যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় না৷ এর ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত চালাচলে অসুবিধা হতে পারে৷ এমনকি ব্যাপারটা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারে৷ তাই রক্তের নিম্নচাপকেও গুরুত্ব দিতে হবে, জানান জার্মান কার্ডিওলজিস্ট ভল্ফগাং ফন শাইড্ট৷
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি :
- রক্তচাপ অল্প সময়ের ব্যবধানে ২০ (সধঃ ঐম) বা এর অধিক কমলে।
- আলোচিত লক্ষণগুলো অধিক মাত্রায় দেখা দিলে, যেমন মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হওয়া
- ওষুধ বা অ্যালার্জিজনিত তাৎক্ষণিক কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে।
- অত্যধিক রক্তক্ষরণ, বমি বা ডায়রিয়াজনিত নিম্ন রক্তচাপ হলে।
- নির্দিষ্ট রোগ, যেমন_ হৃদরোগ, হরমোনজনিত রোগ বা জীবাণুর সংক্রমণ ইত্যাদির কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে।
- সাধারণ পদক্ষেপগুলো নেওয়ার পরও শারীরিক লক্ষণগুলোর উন্নতি না হলে।
‘লো প্রেশার’ বা নিম্ন রক্তচাপ হলে তা উচ্চ রক্তচাপের মতো আতঙ্কের কারণ হয় না ঠিকই, তবে তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়৷ তাই লো প্রেশারের কারণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায় জানা থাকলে কাজে লাগবে৷
সুতরাং নিম্ন রক্তচাপ হলে বিচলিত না হয়ে প্রতিকারমূলক সাধারণ পদক্ষেপগুলো পালন করুন, প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং সুস্থ থাকুন।
তথ্যসূত্রঃ
- ডা. সৈয়দ গোলাম মোগনী মাওলা, এফসিপিএস (মেডিসিন), সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা, সমকাল।
- স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট এনএইচএস চয়েজ এবং জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
- জার্মান কার্ডিওলজিস্ট ভল্ফগাং ফন শাইড্ট,
- ডা. বডো শিফমান,
- ডয়চে ভেলে।
- সময় টিভি।
- এনটিভি।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই