Golden Milk- সোনালী দুধে ফিরে আসুক স্বাস্থ্যের সোনালী দিন! (পর্ব-১)
করোনা-আক্রান্ত সময়ে আয়ুর্বেদ মেনে অনেকেই হলুদ মেশানো দুধ খাওয়া শুরু করেছেন। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলেই দাবি করে এসেছেন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় আয়ুষ মন্ত্রকও রোগের হানা প্রতিহত করতে এই হলুদ মেশানো দুধের কথা তাদের নির্দেশাবলিতে বলেছে।
কলকাতার নামী দামি ক্যাফেতেও এখন পাওয়া যাচ্ছে সুস্বাদু ও ইমিউনিটি বুস্টার এই পানীয়। মধু যোগ করে তার নাম দেওয়া হয়েছে হানি-টারমারিক লাত্তে।
এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, বাঁচতে গেলে লড়তে হবে নিজের শরীর দিয়েই। তাই রসনার চেয়ে বেশি কদর পুষ্টিগুণের। বিদেশি ভাল-মন্দের বদলে বাঙালির ঘরোয়া খাবার। তারই সঙ্গে মানুষ মজে উঠেছেন ঘরোয়া উষ্ণ হলুদ-দুধে। স্বাদ ও উপকার বাড়াতে কখনও তাতে মেশানো হচ্ছে অ্যামন্ড, কাজু। এই পানীয়ের পোশাকি নাম টারমারিক লাত্তে। সিডনি, স্যানফ্রান্সিসকো ও ইংল্যান্ডের অনুকরণে কলকাতার নামী দামি ক্যাফেতেও এখন পাওয়া যাচ্ছে সুস্বাদু ও ইমিউনিটি বুস্টার এই পানীয়। মধু যোগ করে তার নাম দেওয়া হয়েছে হানি-টারমারিক লাত্তে। কখনও আবার সাবেকি হলুদ দুধে মেশানো হচ্ছে আদা, গোলমরিচ, দারুচিনি ও মধু বা ম্যাপল সিরাপ, কখনও বা অন্য কিছু। ভারী হচ্ছে উপকারের পাল্লা।
![]() |
| মুঠো মুঠো মাল্টিভিটামিন ক্যাপসুল নয়, ঘরোয়া পানীয়তেই বাড়তে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা! ভাবছেন কোন পানীয়? দুধ-হলুদেই জব্দ হবে রোগ-বালাই। |
হলুদ, আদা, গোলমরিচ, দারচিনি ও মধু বা ম্যাপল সিরাপ দিয়ে বানিয়েও এই পানীয়টি খাওয়া যায়। আবার শুধু হলুদ ও মধু মিশিয়ে খাওয়ারও চল আছে। কোভিডের সময় তো বটেই, তার পরবর্তী সময়েও এই হলুদ মেশানো দুধ শরীরের অনেকটা উপকার করবে।
হলুদ মেশানো-দুধের গুণ:
- • এই দুধের প্রদান উপাদান হলুদে যে কারকিউমিন আছে সেটিই হল আসল। কয়েক হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধের অনুপান হিসেবে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের গুণ থাকার কারণে শরীরের সমস্ত কোষকে নানা রকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে সে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন কমে, সংক্রমণ হলে তা সারেও সহজে। কমে যে কোনও ক্রনিক রোগের আশঙ্কা। দারুচিনি ও আদারও এই গুণ আছে। ফলে তিনটি মিশিয়ে খেলে আরও ভাল কাজ হয়। দুধ আর গোলমরিচ দুই-ই শরীরে কারকিউমিনের শোষণের হার বাড়ায়। তা ছাড়া তাদের নিজস্ব উপকার তো আছেই।
- • হলুদ-দুধ শরীরে অহেতুক প্রদাহের প্রদাহের প্রবণতা কমায়। ফলে হৃদরোগ, ডায়াবিটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, আর্থ্রাইটিস, অ্যালঝাইমার্স এমনকি ক্যানসারের আশঙ্কা ও প্রকোপও কম থাকে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, ওষুধ খেলে যতটা প্রদাহ কমে, নিয়মিত কারকিউমিন খেলেও কমে সেই মাত্রাতেই। ৪৫ জন রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের রোগীকে দিনে ৫০০ মিলিগ্রা কারকিউমিন খাইয়ে দেখা যায়, ওষুধ না খাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের ব্যথা কম থাকছে। ২৪৭ জন অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রোগীকে কারকিউমিন খাইয়ে ৬ সপ্তাহ স্টাডি করে দেখা যায়, তাঁদের ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন কমেছে।
- • নিয়মিত হলুদ মেশানো-দুধ খেলে কারকিউমিনের প্রভাবে ‘বিডিএনএফ’ নামে এক রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ে শরীরে। যার হাত ধরে কমে অ্যালঝাইমার্সের প্রকোপ। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ে। আবার পশুদের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দারচিনি খেলে মস্তিষ্কে টাউ প্রোটিনের পরিমাণ কমে ও অ্যালঝাইমার্সের উপকার হয়।
- • বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রমাণিত, হলুদ মোশানো দুধ হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাঁদের রোজ ১২০ মিলিগ্রা দারচিনি পাউডার খাইয়ে দেখা গিয়েছে, তাঁদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমেছে, বেড়েছে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা। ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও কমেছে। তাই রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও এই পানীয় বেশ উপকারী।
- • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জীবাণু সংক্রমণ ঠেকাতেও এই হলুদ দুধের কিছু ভূমিকার রয়েছে।
- • দুধে আছে অঢেল প্রোটিন। স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিয়মিত খেতে পারলে ভাল। তা ছাড়া আছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, হাড়-পেশির সুস্থতা বজায় রাখতে যার বিরাট ভূমিকা অনেক।
- • কখনও বৃষ্টি, কখনও আবার কড়া রোদ। এই আবহাওয়ায় ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি লেগেই আছে। গরম দুধে এক চামচ হলুদ গুলে খেলেই হবে সমস্যার সমাধান!
- • হলুদ-দুধ ত্বকে বয়েসের ছাপ পড়তেও বাধা দেয়। হলুদে থাকা বিভিন্ন যৌগ শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। এতে ভাল মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় ত্বকের জেল্লাও বাড়ে।
- • নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে কারকিউমিনের প্রভাবে শরীরে ‘বিডিএনএফ’ নামে এক রাসায়নিকের পরিমাণ বাড়ে। এই যৌগ অ্যালঝাইমার্স রোগের ঝুঁকি কমায়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- • হলুদে কারকিউমিন ভরপুর মাত্রায় থাকে। এই যৌগ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের সব কোষকে নানা রকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন কমে, সংক্রমণ হলে তা সারেও সহজে।
- • হলুদ-দুধ শরীরে প্রদাহের প্রবণতা কমায়। ফলে হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস, আর্থ্রাইটিস এমনকি ক্যানসারের আশঙ্কাও কমে নিয়মিত এই পানীয় খেলে।
- • হলুদ খেলে মন ভাল থাকে। ৬০ জন গভীর অবসাদে ভুগছেন এমন মানুষের কাউকে দেওয়া হয় কারমিউমিন, কাউকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, কাউকে দুটোই। ৬ মাস পরে দেখা যায় প্রথম দুটো গ্রুপের সদস্যদের একই রকম ফলাফল হয়েছে। আর তৃতীয় গ্রুপের মানুষেরা সবচেয়ে ভাল আছেন।
- • হলুদ, আদা, দারুচিনি সবার মধ্যেই ক্যানসার ঠেকানোর গুণাবলি আছে। তবে কোনটা কী পরিমাণে খেলে কতটা কাজ হবে, তা জানতে গেলে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন আছে।
কী ভাবে বানাবেন:
সাধারণ মাপের এক গ্লাস (120ml) দুধ নিন। গরুর দুধ সহ্য না হলে আমন্ড বা সোয়াবিনের দুধ নিতে পারেন। তাতে মেশান এক চা-চামচ কাঁচা বা শুকনো গোটা হলুদ বাটা, অল্প কিছুটা আদা কুচি, আধ চা-চামচ দারচিনির গুঁড়ো, এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো। ফুটতে শুরু করার পর আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট ফোটান। নামিয়ে ছেঁকে নিন। দুধ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে এর সঙ্গে এক চা–চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। মোটামুটি দিন পাঁচেকের মতো বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। খাওয়ার সময় একটু গরম করে নিলেই হবে। মিষ্টি স্বাদ চাইলে এতে মধু বা ম্যাপল সিরাপ মেশান। তবে ওজন বাড়ার ভয় থাকলে অল্প মধু মেশান।
![]() |
| মুঠো মুঠো মাল্টিভিটামিন ক্যাপসুল নয়, ঘরোয়া পানীয়তেই বাড়তে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা! ভাবছেন কোন পানীয়? দুধ-হলুদেই জব্দ হবে রোগ-বালাই। |
- • রক্ত পাতলা রাখে বলে গর্ভাবস্থায় খুব বেশি না খাওয়াই ভাল।
- • যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে, তাঁরাও খাবেন রয়েসয়ে। কারণ হলুদে ২ শতাংশ অক্সালেট আছে, যার প্রভাবে কারও কারও কিডনিতে পাথর হতে পারে।
- • আদা ও দারুচিনি বেশি খেলেও সমস্যা হয়।
তথ্যসূত্র:
- আয়ুর্বেদ চিকিৎসক দেবাশিস ঘোষ, আনন্দবাজার।
- আলমগীর আলম, খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ, প্রথম আলো।
- Edited: Natural_Healing.


কোন মন্তব্য নেই