First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই ব্যায়াম-১

করোনাকালে মানুষ জীবন যাপনে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। কি ভাবে সুস্থ থাকা যায় তার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। খাওয়া-দাওয়া তো বটেই এর সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়ামকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চা প্রচুর পরিমাণে করার দরকার নেই। অভ্যাস না থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবার একেবারে না করলেও সমস্যা। কাজেই শরীর বুঝে ব্যায়াম করুন। যতটুকু করলে শরীর ঝরঝরে লাগে, মন ভাল হয়, কাজে মন বসে, ঠিক ততটুকু করুন। তাতেই শরীর সুস্থ থাকবে। বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

এই প্রসঙ্গে ভারতের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক মৌলি মাধব জানিয়েছেন, মাঝারি ব্যায়ামে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হয়, তার হাত ধরে সবল হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকরী উপায়:

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে অল্প অসুস্থতাতেও মানুষ খুব সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগের আক্রমণও জোরালো হয়। মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং কোন উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেটি নিয়ে নানামুখী গবেষণা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন-যাপনের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করছেন চিকিৎসকরা।

নিয়মিত ব্যায়াম অথবা অন্য যে কোন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম:

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে।

শরীরের মাংসপেশি এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। একই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।

ফলে শরীরের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছবে। তখন শরীরের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে।

সুতরাং প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। মি: কল্লোল বলেন, এমন ধরণের পরিশ্রম করতে হবে যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে।

ব্যায়ামে বাড়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা:

• সংক্রমণ হলে যেমন ‘ইমিউন সিস্টেম’ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুর বংশবিস্তার থামানোর চেষ্টা করে। ঠিক সেইভাবেই ব্যায়াম করলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বলে জীবাণুও আর তেমন একটা বাড়তে পারে না।

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বাড়ে অর্থাৎ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে। ফলে সহজে সংক্রমণ হয় না।

• ব্যায়ামে বাড়ে বিপাক ক্রিয়ার হার। তার ফলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি যেমন বাড়ে, তেমনি ওজনও থাকে বসে। আর এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়।

• ব্যায়াম করলে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুততর হয়। তাজা বাতাস ভেতর থেকে জীবাণু বের করে দিতে সাহায্য করে। কাজেই যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের চট করে সর্দি কাশি ও শ্বাসনালীর সংক্রমণ হয় না।

• ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করার সময় শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সহজে আক্রমণ করতে পারে না।  

• ইমিউন সিস্টেম শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে জীবাণুদের বংশ বিস্তার থামিয়ে দিতে চেষ্টা করে। আর ব্যায়াম করলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণু শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

• গা ঘামিয়ে ব্যায়াম করলে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার হার বাড়ে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 

• শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন হয়। তাই ক্ষয়জনিত ব্যাধি দূর হয়।

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে শ্বাসনালি ও ফুসফুসে জীবাণুরা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। তাই সর্দি-কাশি ও শ্বাসনালির সংক্রমণ দ্রুত হয় না।

• হাঁটাহাঁটি ও অন্যান্য ব্যায়াম করলে ওজন স্বাভাবিক থাকে। 

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি গতি বেড়ে যায়। শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়ে। শ্বেত রক্তকণিকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিক ডায়েট এবং মন ভালো রাখতে হবে। এ ছাড়া ধূমপানসহ তামাক ও মদ্যপানের নেশা ছাড়তে হবে। 

ব্যায়ামে কমে কোভিডের ঝুঁকি:

কোভিডের কো-মর্বিডিটি কমাতেও কাজে আসে ব্যায়াম। যেমন-

• ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

• কমায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ওকোলেস্টেরলের আশঙ্কা ও প্রকোপ।

• হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়।

• কমায় হৃদরোগের আশঙ্কা ও প্রকোপ।

• রক্তবাহী শিরা-ধমনী সুস্থ থাকার সুবাদে স্ট্রোকের আশঙ্কাও কম থাকে।

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা আপনাকে কাবু করতে পারবে না

তথ্যসূত্র:

  • ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক মৌলি মাধব, আনন্দবাজার> একুশে টিভি।
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন।
  • বিবিসি বাংলা।
  • আনন্দবাজার> যুগান্তর।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.