ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে- ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত কিনা বুঝবেন কিভাবে?
'ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ':'ডেল্টা প্লাস'-
করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। এরই মধ্যে করোনার এ ধরনটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে যাদের কোভিড হচ্ছে তাদের ভেতর তিনটি নতুন লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। এগুলো হলো-
১. ঠাণ্ডা সর্দি, ২. মাথা ব্যাথা এবং ৩. গলা ব্যাথা বা সোর থ্রো
এর সঙ্গে হাল্কা জ্বরও থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যে এখন কারো ভেতর এই তিনটি লক্ষণ দেখা দিলেই তাদেরকে কোভিড টেস্ট করাতে বলা হচ্ছে। সম্প্রতি কিংস কলেজ অব লন্ডন পরিচালিত জো সিম্পটম স্টাডি নামের অ্যাপস ভিত্তিক একটি গবেষণায় বেশিরভাগ কোভিড রোগীদের ভেতরে এই নতুন লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হয়।
এর আগে কোভিডের প্রধাণ লক্ষণগুলো ছিল..
১. উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, ২. ক্রমাগত শুস্ক কাশি, ৩. স্বাদ এবং ঘ্রাণশক্তির পরিবর্তন, ইত্যাদি।
বাংলাদেশে এখন যেহেতু ৮০ শতাংশের ওপরে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে কোভিড হচ্ছে, তাই যাদের ভেতর ওপরের তিনটি নতুন লক্ষণ দেখা দিবে, তাদের কোভিড টেস্ট করানো উচিত। এতে করে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে ত্বরিত আইসোলেশন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে দেশে করোনার বিস্তার এবং এর থেকে মৃত্যু, দুটোই কমানো যাবে।
কোভিড: নতুন ভ্যারিয়ান্ট 'ডেল্টা প্লাস' কি ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে?
গবেষকরা বলছেন করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়ান্ট, যেটিকে এতদিন 'ডেল্টা' ভ্যারিয়ান্ট বলা হচ্ছিল, দ্বিতীয় দফায় পরিবর্তিত হয়েছে। ইউরোপে প্রথমবার শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়ান্টকে 'ডেল্টা প্লাস' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কয়েকটি গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তথাকথিত 'ডেল্টা প্লাস' ভ্যারিয়ান্ট আগের ভ্যারিয়ান্টগুলোর চেয়ে সহজে ছড়ায়, ফুসফুসের কোষের সাথে অপেক্ষাকৃত সহজে যুক্ত হয় এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা যে মূলনীতি অনুসারে তৈরি করা হয় - 'মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি' - তার বিরুদ্ধে কার্যকর।
ডেলটা ভেরিয়েন্ট থেকে 'ডেল্টা প্লাস বেশি মারাত্মক -এমন ভাবার কারণ নেই'
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিভাগের ভাইরোলজিস্ট জেরেমি কামিল বিবিসি'র সৌতিক বিশ্বাসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের চেয়ে নতুন ডেল্টা প্লাস বেশি মারাত্মক, এরকম চিন্তা করার কোনো কারণ এখনো নেই।"
অন্যদিকে;
দিল্লির ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলোজির পরিচালক ডা অনুরাগ আগারওয়ালের মতে, "ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট থেকে তৈরি হওয়া সব ভ্যারিয়ান্টই দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।"
যেসব কারণে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট মারাত্মক:
বিশেজ্ঞরা বলছেন ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অন্যতম প্রধান উপসর্গ মাথা ব্যাথা। এর পাশাপাশি গলা ব্যাথা, সর্দি এবং জ্বরও থাকতে পারে।
তবে এই ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হলে স্বাদ বা গন্ধের অনুভূতি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি কাশি হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ কম।
যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞদের হিসেব অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ভ্যারিয়ান্টগুলোর চেয়ে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট অন্তত ৬০% বেশি সংক্রামক।
এছাড়া পূর্ববর্তী ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্তদের তুলনায় ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কাল ছত্রাক রোগটি কী?
বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যার নাম ‘মিউকোরমাইকোসিস’। চলতি ভাষায় এটি ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ নামে পরিচিত। এটি প্রধানত সুবিধাগত (অপুরচুনিস্টিক) সংক্রমণ; যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশি কমে গেলে হয়ে থাকে।
মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ হয়। সাধারণত এই ছত্রাক পাওয়া যায় মাটি, গাছপালা, সার এবং পচন ধরা ফল ও সবজিতে। এটা মাটি এবং বাতাসে এমনিতেই থাকে। এমনকি নাক ও সুস্থ মানুষের শ্লেষ্মার মধ্যেও এটা স্বাভাবিক সময়ে থাকতে পারে। এই ছত্রাক সাইনাস, মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফুসফুস যেহেতু দুর্বল থাকে, সেজন্য তাদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের কথায় মিউকোরমাইকোসিস থেকে মৃত্যুর আশঙ্কা ৫০%। তাদের ধারণা স্টেরয়েডের ব্যবহার থেকে এ সংক্রমণ শুরু হতে পারে।
কোভিড-১৯-এর রোগীরা কেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের শিকার হচ্ছেন?
কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত এবং ভীষণভাবে কমে যায় এবং বিভিন্ন সুবিধাভোগী রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
করোনাভাইরাসের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে ফুসফুস ও মস্তিষ্ক। এরই মধ্যে শরীরে ঢুকে পড়ছে এক ধরনের ছত্রাক। সম্প্রতি দিল্লির একটি হাসপাতালে কিছু করোনা রোগীর মধ্যে মারাত্মক ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাকের সংক্রমণের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
কোভিড-১৯ গুরুতরভাবে আক্রান্তদের চিকিৎসায় তাদের জীবন বাঁচাতে এখন স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ আক্রান্তদের ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড ওষুধ দিতেই হচ্ছে। স্টেরয়েডের ব্যবহার স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে সেক্ষেত্রে এই রোগ চলে আসছে অজান্তেই।
![]() |
| ভারতের পুনেতে মিউকোরমাইকোসিস আক্রান্ত একজন রোগীকে পরীক্ষা করছেন একজন চিকিৎসক। মিউকোর নামের ছত্রাক দেখা যায় মাটিতে, গাছপালায়, সার এবং পচন ধরা ফল ও শাকসবজিতে। |
গুরুতর লক্ষণগুলো হলো-নাক বন্ধ, নাক দিয়ে জল পড়া, গালে হাড়ে ব্যথা, মুখে ফোলাভাব, শুকনো কাশি, দাঁতে ব্যথা, ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা। নাকের চারপাশে ব্যথা এবং লালভাব, নাকের চামড়ার চারপাশে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়া, জ্বর, মাথা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বমি। চোখে ব্যথা এবং চোখ ফুলে যাওয়া, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, যার থেকে পরে দৃষ্টিশক্তি চলে যায়।
নাক দিয়ে কালচে কফ বেরোয়। নাকের ভিতরের অংশ কালচে রঙের হয়ে যায়। মুখ, গালে ব্যথা। কারও কারও ক্ষেত্রে সে সব অংশ অবশ হয়ে যায়। সংক্রমণ বেশি ছড়ালে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।
যাদের করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে (উচ্চমাত্রায় বা দীর্ঘসময় ধরে) তাদের মধ্যে এই ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস যাদের তাদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বহুদিন ধরে যারা আইসিইউতে থেকেছেন বা কো-মর্বিডিটি রয়েছে তাদের এ ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শরীর দুর্বল হলে মূলত বাসা বাধে এই ছত্রাক। করোনা রোগীরা বেশি দিন আইসিইউ-তে থাকলে, কিংবা তাঁদের উপরে স্টেরয়েডের ব্যবহার বেশি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এমন ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঢুকে পড়ছে শরীরে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে করণীয়?
-ধুলোবালি রয়েছে এমন জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন
-চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিফাংগাল বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুরু করা
-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
-সঠিক পরিমাণে স্টেরয়েডের ব্যবহার
-উপসর্গ দেখলেই সাবধান হতে হবে।
-চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সতর্কতা:
সাইনাসাইটিস, বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নাকে সর্দি জমা, নাক দিয়ে সর্দি বের হওয়া (কালচে/রক্তসহ), চোয়ালের হাড়ে ব্যথা।
-মুখের এক দিকে ব্যথা, অসাড় হয়ে আসা বা জ্বালা করা।
-নাকের আগায় বা চার পাশে কালচে হয়ে গিয়ে ত্বকের রং বদলে যাওয়া।
-দাঁতে ব্যথা, দাঁত আলগা হয়ে আসা, চোয়াল আটকে যাওয়া।
- চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা দুটো করে দেখা ও চোখে ব্যথা, জ্বর, ত্বকে জ্বালা, থ্রম্বোসিস ও নেক্রোসিস।
-বুকে ব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বাড়তে থাকা।
করণীয়:
-হাইপারগ্লাইসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
-কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়ে ও ডায়াবেটিসে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
-সঠিকভাবে স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হবে। সঠিক সময়, সঠিক ডোজ ও কোর্স পূর্ণ করতে হবে।
-অক্সিজেন থেরাপির সময় পরিষ্কার ও ফোটানো জল ব্যবহার করা।
-সঠিকভাবে জেনে ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধকারী/অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হবে।
-ডায়াবিটিস ছাড়াও যে সব কোভিড আক্রান্তের ক্যানসার, বৃক্কের রোগ কিংবা যকৃতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সাবধান থাকতে হবে। শুধু করোনা চিকিৎসা চলার সময় নয়, সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও। কারণ, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসার পরেও বহু সময়ে নতুন করে দেখা দিচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে কোনও নাক-কান-গলার চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া যায়। তা ছাড়া, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নিতে হবে।
বর্জনীয়:
-এই সংক্রমণের উপসর্গ অবহেলা করবেন না।
নাক বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে ব্যাকটেরিয়াজনিত সাইনোসাইটিস বলে অবহেলা করবেন না, বিশেষত যেখানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
-ছত্রাক সংক্রমণ হচ্ছে কিনা, জানতে বিশদে পরীক্ষা করাতে দ্বিধা করবেন না (কেওএইচ স্টেইনিং ও মাইক্রোস্কোপি, কালচার, এমএএলডিআইটিওএফ)।
-মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে একটুও সময় নষ্ট করবেন না।
ব্যবস্থাপনা:
১. ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস নিয়ন্ত্রণ করুন।
২. স্টেরয়েডের ব্যবহার সীমিতকরণ।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ করুন।
৪.পচনশীল উপাদান বাদ দেওয়ার জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই করান।
৫.কোনোরকম অ্যান্টি-ফাংগাল প্রফিল্যাক্সিস নয়।
চিকিৎসা:
-ইউরিনারি ক্যাথেটার ব্যবহার- প্রয়োজন সাপেক্ষে
-শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
-অন্তত ৪-৬ সপ্তাহ সাধারণ স্যালাইন চালু রাখা, অ্যান্টিফাঙ্গাল থেরাপিতে অ্যাম্ফোটেরিসিন বি চালু করার আগে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসা করছেন ঢাকার বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। অধ্যাপক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যেহেতু সংক্রামক নয়, সেজন্য এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কেন স্টেরয়েডের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ?
করোনা রোগীর চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে অনেক সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তার জেরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সেই রোগীর শরীরে বাসা বাধার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে করোনা রোগী যখন বেশ খানিকটা সেরে উঠছেন, সে সময়ে নতুন এই সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। তাই করোনা-চিকিৎসায় স্টেরয়েড কম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ সবচেয়ে ক্ষতিকর। যথেষ্ট তাড়াতাড়ি এই সংক্রমণ ধরা না পড়লে চিকিৎসা চালানো কঠিন। কারণ, এমন রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ খুব দ্রুত বৃক্কে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে সুরক্ষার উপায়:
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলছে, যেসব জায়গায় ছত্রাকের উপস্থিতি আছে সেসব জায়গা এড়িয়ে যাওয়া খুবই কঠিন।
চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব ছত্রাকের কারণে মিউকোরমাইকোসিস হয় সেটা পরিবেশে থাকা খুবই সাধারণ ঘটনা।
তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারা কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে করে মিউকোরমাইকোসিস সংক্রমণের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যেতে পারে। এগুলো তুলে ধরা হলো।
১. যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসি বলছে, যেসব জায়গায় অনেক বেশি ধুলোবালি রয়েছে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা। যদি সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা সম্ভব না হয়, তাহলে এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার করা।
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব স্থাপনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোর সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। সিডিসি বলছে এসব জায়গা থেকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
৩. শরীরের চামড়ায় যাতে কোন ইনফেকশন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কোথাও কেটে গেলে কিংবা চামড়া উঠে গেলে সেটি যাতে ধুলো-ময়লার সংস্পর্শে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৪. কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা
৫. রোগীর স্টেরয়েড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানী হতে হবে। বারডেম হাসপাতালে রেসপিরেটরি মেডিসিনের অধ্যাপক স্টেরয়েডের ব্যবহার ডায়াবেটিসকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে। ফলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমতি হবার ঝুঁকি বেশি ধাকে।
৬. রোগীকে অক্সিজেন দেবার সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
৭. মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলছে, এসব সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নিলেই যে মিউকোরমাইকোসিস সংক্রমণ এড়ানো যাবে সেটি এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়।
তথ্যসূত্র:
- ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম, লেখক: চিকিৎসক, সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, শেফিল্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্য, কনটেন্ট ক্রেডিট: মেডিভয়েস,
- ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, যুগান্তর।
- জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ডা. মো. শহিদুল্লাহ, ডয়চে ভেলে।
- বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব চিকিৎসক ও অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব,
- ঢাকার বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন,
- যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল,
- যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিভাগের ভাইরোলজিস্ট জেরেমি কামিল,
- দিল্লির ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলোজির পরিচালক ডা অনুরাগ আগারওয়াল,
- বিবিসি বাংলা।
- আনন্দবাজার।
- Edited: Natural_Healing.

.jpg)

কোন মন্তব্য নেই