First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

মাত্র 7 দিনে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমাবেন যেভাবে! (Fat_পর্ব-৮)

পেটের মেদ চটজলদি কমাতে ৭ দিনের ঝটপট ডায়েট প্ল্যান!

‘মেদ ভুঁড়ি কি করি’ সমস্যায় অনেকেই ফেঁসে গিয়েছেন। আর সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবলম্বন করছেন বিভিন্ন পদ্ধতি। মেদ ভুঁড়ি নিয়ে যারা মহা বিপদে আছেন তারা খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারবেন এই সমস্যা থেকে। এমনকি মাত্র ৭ দিনেও বেশ কিছুটা কমানো সম্ভব পেটের মেদ। যেসব খাবার শরীরের মেদ বাড়ায় যেমন অ্যালকোহল, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে মাছ, মুরগী ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি শরীরকে মেদ বহুল করে তোলে এবং তলপেট, উরু, নিতম্বে মেদ জমে যায়। তাই খাবার গ্রহণের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। আসুন জেনে নেয়া যাক ওজন কমানোর ডায়েট প্ল্যান।

বেশি খেলে পেটে মেদ বা চর্বি জমে। কিন্তু মেদ জমার ভয়ে কি আপনি কম খেয়ে থাকবেন? পছন্দের খাবার খাবেন আবার পেটে মেদও জমবে না—এ দুটি যদি একসঙ্গে সম্ভব হয়, তাহলে তো কথাই নেই। সেটাও সম্ভব কিছু নিয়ম মানলে।

পেটে চর্বি জমার কারণ এবং রোগ:

ভরপেট খাওয়ার পরে আলস্য এসে ভর করে। আর খাওয়ার পরেই যাঁরা ভাতঘুমে যান, তাঁদের পেটে চর্বি জমার প্রবণতা থাকে সব থেকে বেশি। দীর্ঘক্ষণ বসে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের পেটেও আস্তেধীরে চর্বি জমে যায়। বাড়তি চর্বি শুধু সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দেয় না; রোগও ডেকে আনে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বলেন, ‘পেটে বাড়তি চর্বি জমে যাওয়ার আগেই সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আর চর্বি যদি জমেই যায়, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়ামে সেটিকে অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। কোন কারণে চর্বি জমছে, এই কারণটিকে চিহ্নিত করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।’

পেটে চর্বি জমার কারণ:

* যাঁরা শর্করাসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান, তাঁদের পেটে দ্রুত চর্বি জমে। ভাত, পোলাও, বিরিয়ানি, পরোটা, লুচি, মিষ্টি, কোমল পানীয় খাওয়ায় বিধিনিষেধ মানতে হবে।

* যাঁরা খাওয়ার পরে দ্রুতই ঘুমিয়ে যান, তাঁদের খাবার পরিপাক হয় না ঠিকমতো। সঞ্চিত শক্তি খরচও হয় না। চর্বি জমার এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

* যাঁদের সারা দিনের কাজ চেয়ার-টেবিলেই এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় না, তাঁদের পেটেও দ্রুত চর্বি জমে।

* মাখন, পনির, ঘিয়ের মতো চর্বিযুক্ত খাবারে যাঁরা অভ্যস্ত এবং যাঁরা ফাস্টফুডের ভক্ত, তাঁদের পেটেও চর্বি জমে সহজেই।

পেটে চর্বির জন্য রোগ:

* পেটে বাড়তি চর্বি জমলে কখনো রোগব্যাধিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়তি চর্বির ফলে পরিশ্রমে অনাগ্রহ জন্মে। ফলে চর্বি জমার হারটাও বাড়ে।

* স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে লিভারের বিভিন্ন রোগসহ ফ্যাটি লিভারের শঙ্কা বাড়ে, অর্থাৎ লিভারের চারদিকে চর্বি জমে যায়, ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন রোগী, হতে পারে হার্নিয়া। এ ছাড়া নারীর হরমোনজনিত জটিলতাসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।’

পেটের চর্বি কমানোর অত্যন্ত কার্যকরী উপায়:

মেদ ভুড়ি কী করি! প্রচলিত এই বাক্যটির সাথে বাঙালি কমবেশি পরিচিত। ওজন কমাতে গিয়ে প্রত্যেকেই সমস্যায় পড়েন পেটের চারপাশের চর্বি কমাতে। এর কারণটাও স্পষ্ট, ভুড়ি কমানো অতো সহজ নয়, যতোটা আমরা মুখে বলে ফেলি। তবে, অসম্ভবও নয়। ভুড়ি কমাতে কয়েকটি নিয়ম মানলে আপনিও হতে পারেন ছিপছিপে কোমরের অধিকারি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সে উপায়গুলো কী কী-

খাদ্যাভ্যাস:

পেটের মেদ কমাতে ভাজাপোড়া কম খাওয়া উচিত। চেষ্টা করুন কম তেলে রান্না করা বা সেদ্ধ করা খাবার খেতে। কোনোভাবেই ফাস্ট ফুড খাওয়া উচিত নয়। মেয়নেজ, পনির, সস, তেল, মাখন এসব আপনার পেটে চর্বি জমতে বড় ভূমিকা রাখে। দিনে তিন বেলা ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে পাঁচ বেলা খান পরিমাণে কম করে। একেবারে না খেয়ে থাকা ঠিক নয়। ভাত খাওয়ার চেয়ে ফল বা সবজি বেশি করে খান। পেট ভরবে কিন্তু ভুঁড়ি বাড়বে না। কোমল পানীয় কিছুক্ষণের জন্য প্রশান্তি দিতে পারে কিন্তু এটা পেটে চর্বি জমানোর পেছনে দায়ী। একইভাবে বাজারের ফ্রুট জুসে থাকা প্রচুর চিনি ও অন্যান্য উপাদান ভুঁড়ি বাড়াতে সহায়ক। তাই প্রচুর পানি, বাসায় বানানো ফলের রস, ফলের সালাদ হতে পারে খুব ভালো বিকল্প।

তৃপ্তি করে চিবিয়ে চিবিয়ে খান:

এমন কথা শুনে আকাশ থেকে পড়ার কিছু নেই। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমাণিত যে, যারা ধীরে ধীরে সময় নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খায়, তাদের হজমটা বেশ তাড়াতাড়ি হয়। ব্যস্ততা নিয়ে, কথা বলতে বলতে কিংবা ফোনে ফেসবুক দেখতে দেখতে খাবেন না। এতে মস্তিষ্ক ঠিকঠাক বার্তা পায় না, কখন আপনার পেট ভরে গিয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ সময়েই আমরা বেশি খেয়ে ফেলি।

অভ্যাস বদলান:

পেটের মেদ কমানোর জন্য নিয়মিত হাঁটুন। পেটে মেদ জমার অন্যতম কারণ খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া। ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হবে। পেটে মেদ জমবে না। অফিস বা বাসায় যতটা সম্ভব লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। এটা পেটের জমে থাকা চর্বি অপসারণের খুব ভালো উপায়। সিঁড়ি বাওয়ার ফলে পেটের ওপর চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে চর্বি কমতে থাকে।

চেষ্টা করুন সব সময় সোজা হয়ে দাঁড়াতে, বসতে ও হাঁটতে। কুঁজো হয়ে হাঁটবেন না বা বসবেন না। দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে এক স্থানে বসে থাকা, কম্পিউটারে কাজ করা, এসবের কারণে ভুঁড়ি বেড়ে যায়। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর একবার উঠে দাঁড়ান ও সোজা হয়ে বসুন।।

মনকে শান্ত রাখুন:

মন শান্ত না থাকলে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম হার কমে যায়। ঘুম ঠিক করে হয়না। এমনকি খাবারও হজম হতে দেরি হয়। তাই যতোটা সম্ভব মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে খাওয়ার সময় এবং ঘুমের আগে।

সোজা হয়ে বসুন:

কাজের সময় বা অন্য কোনো সময়ে আমরা বেশির ভাগ সময় কুঁজো হয়ে বসে থাকি। দীর্ঘ সময় এভাবে বসতে বসতে পেটের পেশিগুলো সেভাবেই ঝুলে যায়। তাই লক্ষ্য রাখবেন, বসার সময় মেরুদন্ড যেনো সোজা থাকে।

পেট টানটান করে ব্যায়াম:

অনেকে প্রতিদিন এক্সারসাইজ কারার পরেও পেটের মেদ ঝরে না। তার কারণ যেকোনো ব্যায়াম করার সময়ে পেটের পেশিগুলো টানটান রেখে ভেতরের দিকে টেনে ব্যায়াম করতে হবে। না হলে পেটের উপর চাপ পড়বে না। এক্ষেত্রে অবশ্য, শুধু কার্ডিয়ো করলে হবে না। করলে হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং করতে হবে। তাছাড়াও পেটের ব্যায়ামে প্ল্যাঙ্ক বা ক্রাঞ্চেস করা প্রয়োজন।

যোগব্যায়ম:

পেটের মেদ ঝরাতে যোগব্যায়াম উপকারি। নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে পেটের মেদ কমানো কমে যায়। এক্ষেত্রে ধনুরাসন, ভুজাঙ্গাসন, উস্ত্রাসনের মতো বেশ কিছু আসন আপনাকে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

বেছে বেছে খাবার:

এমন খাবার খেতে হবে যা সহজে হজম হয়ে যায়। শাক-সবজি-ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ভুড়ি কমানোর জন্য এগুলো আদর্শ খাবার। তেল-মশলা কম খেলেও ডায়েটে গুড ফ্যাট রাখতে হবে। না হলে শরীরে ফ্যাট বার্ন হবে না। বাদাম, নাট-বাটারের মতো খাবারে গুড ফ্যাট থাকে। তাই এগুলো প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই রাখবেন। সহজ করে বললে, ফাইবার ও গুড ফ্যাট আছে এমন খাবার খাবেন।

ভাত খাওয়া বন্ধ করুন: 

ভাত খেলে পুরোটাই পেটে মেদ হিসেবে জমা হয়। ভাতের পরিবর্তে লাল আটার রুটি খান। মেদ কমবে। যদি নিতান্তই ভাত খেতে হয় তবে এক কাপের বেশি ভাত খাবেন না।

চিনি-লবণ খুব কম:

লবণ যতো শরীরে যাবে, ততই শরীর বেশি পরিমাণে পানি ধরে রাখবে। এর ফলে ভুড়ি আরো ফুলে থাকবে। তাই লবণ মেপে খাবেন। কম সোডিয়াম রয়েছে, এমন লবণ কিনতে পারেন। অন্যদিকে, রিফাইন্ড চিনি একবার খেলে, খিদে আরো বাড়িয়ে দেয়। বারবার খেতে ইচ্ছে করে। এই জন্যেই একটা মিষ্টি খেলে আমাদের আরো একটা খেতে ইচ্ছে করে। চিনি জাতীয় খাবার পেটে মেদ জমায়। তাই চিনি একদম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। মধু, গুড় বা মিষ্টি ফল বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

চর্বি কমাতে আরো কিছু করণীয় জেনে নিব:

* একবারে বেশি না খেয়ে বেশিবার অল্প অল্প করে খান। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অল্প কিছু হলেও মুখে দিন।

* শর্করাজাতীয় খাবারে যদি পেট না ভরে, শাকসবজিতে ভরান। সঙ্গে খেতে পারেন যেকোনো টক ফল।

* খোসাসহ ফল বেশি করে খান। পেয়ার, বরই, আমড়া, শসা—এসবে তৃষ্ণা মেটাতে পারেন।

* একান্তই মাংস খেতে চাইলে চর্বির অংশ বাদ দিয়ে খেতে হবে। ঝোল কিংবা আলু একদমই বাদ থাকুক।

* যেকোনো ধরনের তেলে ভাজা, ফাস্টফুডজাতীয় খাবার একদমই বর্জন করতে হবে।

* পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। পানি শরীরের মেটাবলিজমক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে চর্বি জমতে বাধা দেবে।

* পেটের চর্বি কমাতে খাবার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি করতে হবে ব্যায়ামও।

* ক্যাফেইন, চিনি, অ্যালকোহল ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার শরীরে সহজেই মেদ জমিয়ে দেয়।

* খাবার তালিকা থেকে নিজের প্রিয় খাবার গুলো বাদ না দিয়ে সপ্তাহে এক দিন খান। সপ্তাহে একদিন কেক কিংবা চকলেট খেলে পুরো সপ্তাহ ডায়েটের বিরক্তি ও একঘেয়েমি কেটে যাবে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে মেটাবলিজম।

* মেদ কমাতে মাছের তেল খান। মাছের তেল অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড সরবরাহ করে।

* নিয়মিত সকালের নাস্তা করুন। ঘুম থেকে ওঠার ১ ঘন্টার মধ্যেই সকালের নাস্তা সেরে ফেলুন। যদি সকালে নাস্তা করার একেবারেই সময় না পান, তাহলেও কিছু ফল ও বাদাম অথবা একটি ডিম সেদ্ধ খেয়ে নিন।

* রাত ৮ টার পড়ে ভারী খাবার খাবেন না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৪ ঘন্টা আগে ভারী খাবার খেয়ে নেয়া ভালো। রাতে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে হজমে সমস্যা হয় এবং মেদ বাড়ে।

* ফার্মগেটের ম্যাক্সিমাম ফিটনেস জিমের প্রশিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বললেন, ‘নিয়মিত জিমে এলে এবং প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করলে ফলাফলটা খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। আর জিমে যাওয়া সম্ভব না হলে সাঁতার, সাইকেল চালানো, জোরে হাঁটা, দড়িলাফ—এগুলো পেটের চর্বি ঝরানোর জন্য খুব ভালো ব্যায়াম হতে পারে। এ ছাড়া লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা, কিংবা ফ্লাইওভারের নিচ থেকে জোরে হেঁটে ওপরের দিকে ওঠার অভ্যাস গড়লেও চর্বি ঝরবে দ্রুত।

মেদ কমানোর জন্য এবার সুনির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি নজর দিন:

সারা দিনের ব্যস্ততায় ঠিকমতো খাওয়ার সময় পান না এমন অভিযোগ অনেকেরই। এতে শরীরে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নানা অসুখের আশঙ্কার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ভুল খাদ্যাভ্যাস। সারা দিন না খেয়ে এরপর খাওয়ার সময় হয়তো খেয়ে ফেলছেন অনেক বেশি।

তাই খুব কষ্ট করে একবার ওজন কমলেও সুনির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস না থাকায় কিছুদিনের মধ্যেই বাড়তে শুরু করে ওজন। জমতে থাকে মেদ। অথচ একটু বুঝে খেলেই কমতে শুরু করবে পেটের এসব মেদ। আমাদের এবারের আয়োজন সেসব খাবার নিয়েই।

গ্রিন টি: এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ এমন কিছু পুষ্টির উপাদান, যা চর্বি কমাতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ক্যানসারেরও ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পানে কমতে শুরু করবে ওজন।

মরিচ: কাঁচা মরিচে আছে ক্যাপসেইসিন নামের একধরনের উপাদান, যা শরীরকে সুঠাম করতে কার্যকর। রান্না করা বা কাঁচা যেকোনো ধরনের মরিচের ঝাল মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয় এবং নিজে থেকেই ক্যালরি বার্ন করে। তাই একটু বেশি ঝালযুক্ত খাবার কমাতে পারে ওজন।

সাগু দানা: যদি আপনি একেবারে নিরামিষভোজী হন তাহলে ওমেগা থ্রি নিয়ে একদমই ভাবতে হবে না। সাগু দানায় আছে ওমেগা থ্রি, যা ওজন কমাতে সহায়তা করবে। এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, লোহা ও প্রচুর পরিমাণে ফাইবার।

আদা-চা: আদা হজমে সাহায্য করে। সারা দিনের দৌড়ঝাঁপে আদা-চা যেমন প্রশান্তি দেবে, তেমন এটি দুশ্চিন্তাজনিত ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।

মাছের তেল: মাছের তেলে আছে ওমেগা থ্রি, যা ওজন কমাতে সহায়তা করবে। মাছের তেল হাড় গঠনে সহায়তা করে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনীয় কোলস্টেরল বৃদ্ধি করে। মাছের তেল কোমর ও পেটের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

দারুচিনি: দারুচিনি মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরের মেদ কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দারুচিনি শরীরে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

লিন মিট: মাংস সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলেই তৈরি হয় লিন মিট। যাঁরা মাংস খেতে ভালোবাসেন, তাঁরা তেল-চর্বিযুক্ত মাংস না খেয়ে লিন মিট খেতে পারেন। সাধারণ মাংসের থেকে ৩০ শতাংশ ওজন কমবে শুধু লিন মিট খাওয়ার জন্যই।

পানি: প্রচুর পানি পান করুন। পানি শরীরের নানা অসুখ থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখবে। পানিস্বল্পতার কারণে মাথাব্যথা থেকে শুরু করে নানা অসুখ তৈরি হতে পারে। সেসব থেকেও মুক্তি মিলবে নিমেষেই। দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন। যদি পেটের মেদ দ্রুত কমাতে চান তবে অবশ্যই প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে। পানি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দেহের টক্সিন দূর করে পেটের মেদ কমতে সাহায্য করে।

নিয়মিত কাঁচা রসুন খান: 

গন্ধের কারণে অনেকেই কাঁচা রসুন থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু যদি দ্রুত পেটের মেদ কমাতে চান তবে নিয়মিত কাঁচা রসুন খাবেন। কাঁচা রসুন দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও মেদ ক্ষয় হতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২/৩ কোয়া রসুন খাবার অভ্যাস করুণ।

শাকসবজি খাবার অভ্যাস করুন: 

অনেকরই মাছ-মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি। এবং সবজি খাবার কথায় অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু মাছ মাংসে প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে যা দেহে মেদ জমায়। শাকসবজিতে আছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং পরিমিত ফাইবার। তাই পেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে শাকসবজি খান। মাছমাংস খাবার পরিমাণ কমিয়ে দিন।

মৌসুমি ফলমূল খান: 

সকালে, দুপুর, বিকাল এবং রাতের খাবারের তালিকায় ১ বাটি ফল রাখুন। এতে আপনার কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট কম খাওয়া হবে। ফলে আপনি দ্রুত মেদ কমাতে সক্ষম হবেন। অনেকে মনে করেন ফলের চাইতে ফলের জুস খাওয়া ভালো। কিন্তু ফলের জুস ফ্যাট বাড়ায়। কারণ জুসে ফলের কোন ফাইবার থাকে না এবং স্বাদের জন্য এতে কিছুটা মিষ্টি যোগ করা হয়। সুতরাং ফলেরজুসের পরিবর্তে ফল খান।

খাবারে যোগ করুন কিছু মসলা: 

দারুচিনি, আদা, গোল মরিচ জাতীয় মসলা যুক্ত খাবার খান। এইসব মসলা দেহের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। রান্নায় দারুচিনি, আদা ও গোল মরিচ যোগ করে রান্নার স্বাদের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি কমিয়ে নিতে পারেন পেটের মেদ।

ওজন কমে যাওয়ার পর অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর ভুল জীবনাচরণ আবার বাড়িয়ে দিতে পারে ওজন। সেটা একদিকে যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, তেমন এতে তৈরি হতে পারে ওজনসংক্রান্ত হতাশাও।

মেদ কমানোর জন্য এবার কিছু পানিয়ের প্রতি নজর দিন:

সারাদিন বাসায়, অফিস কিংবা কম্পিউটার ডেস্কের সামনে কাজ করতে করতে হাঁটার, ব্যায়ামের সময় পান না তারা। যার ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে এবং শরীর স্থূল হয়ে যায়। পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে গেলে বিয়ে বা পার্টিতে কোনো জাঁকজমক পোশাকে নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় লাগে না। তাই অতিরিক্ত মেদ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে পেটের অতিরিক্ত মেদ থেকে মুক্তি পাবেন ভেবেছেন কি? আর চিন্তা নেই। আজ আপনাদের জানাবো কয়েকটি চমৎকার পানীয় সম্পর্কে যে পানীয়গুলোর মধ্যে যেকোনো একটিকে প্রতিদিন সকালে খেলে পেটের মেদ অল্প দিনেই কমে যাবে।

মধু, লেবু, আদা মিশ্রিত চা: 

পেটের বাড়তি মেদ নিয়ে চিন্তিত? এসে গেলো মধু, লেবু, আদা মিশ্রিত চা। এই পানীয়টি দিয়ে প্রতিদিন সকাল শুরু করতে পারেন। তাহলে প্রতিটি সকাল হবে আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত।

আদা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং লেবু লিভারের জন্য উপকারী। সেই সাথে লেবু হজমে সাহায্য করে। আর মধুর উপকার তো কম বেশি আমরা সবাই জানি। মধু শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনাকে প্রাণবন্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে। তাই দেরি না করে আজ থেকে ঘরে বানিয়ে নিন মধু, লেবু ও আদা মিশ্রিত চা। এবং আপনি হয়ে যান স্লিম ও আকর্ষণীয়।

লেবু-পানি: 

চিনি ছাড়া তৈরি লেবু-পানি শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। লেবু-পানি লিভার পরিষ্কার রাখে, সে সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় চর্বি ভাঙার কাজও।

দিন শুরু করুন লেবু গরম পানি দিয়ে: সকালে খালি পেটে খান এক গ্লাস লেবু পানি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক ফালি লেবু চিপে নিয়ে এতে ১ চিমটি লবণ মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। প্রতিদিন নিয়ম করে পান করুন এই লেবু গরম পানি। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং গরম পানি উভয়ই পেটের মেদ কাটাতে সাহায্য করবে।

অর্গানিক আপেল, গাজর ও আদার পানীয়: অর্গানিক আপেল, গাজর ও আদা দিয়ে ঘরে এক মূহুর্তে তৈরি করে ফেলুন মজাদার পানীয় যা আপনার জন্য স্বাস্থ্যকরও বটে। আদার নির্যাস কিছুটা ঝাল মনে হলেও গাজর ও আপেলের সাথে মিশ্রিত করলে এমন মনে হবে না। দারুণ স্বাদের পানীয়টি বাসায় তৈরি করতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে।

কাঁচা আম ও আনারস মিশ্রিত পানীয়: 

কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি ভুলবাল বকছি? নাহ, আপনার ভাবনা সঠিক নয়। জাপানে কাঁচা আম ও আনারস মিশ্রিত এই পানীয়টি ওজন কমানোর পানীয় হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। কাঁচা আমের তৈরি হওয়ায় এই পানীয়টি স্বাদে অতুলনীয়। এছাড়া এটি বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে।

রোজ সকালে কাঁচা আম ও আনারস ব্লেন্ড করে এই পানীয়টি কয়েক মিনিটে তৈরি করে ফেলতে পারেন। এটি আপনার সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ কার্যকরী হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই আর পেটের মেদ নিয়ে চিন্তা না করে আজই বানিয়ে ফেলুল এই মজাদার পানীয়টি।

পুদিনা ও লেবু মিশ্রিত পানীয়: 

পুদিনাপাতার কার্যকারীতা আমরা সবাই জানি। তবে এটি কি জানি যে পুদিনা পাতা ওজন কমাতেও সহায়তা করে? হ্যাঁ, পুদিনাপাতা, বরফ কুচি, পানি ও লেবু মিশ্রিত পানীয়টি ওজন কমানোর সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি আপনাকে করবে চাঙা। প্রতিদিন সকালে এই পানীয়টি খেয়ে দেখতে পারেন। এর জন্য বাড়তি কোনো খরচ হবে না। কারণ প্রায় সবার বাসায় পুদিনাপাতা ও লেবু সর্বদা থাকে।

কলা, নারকেল ও কোকো মিশ্রিত পানীয়: বাড়তি মেদ নিয়ে চিন্তার দিন শেষ। আর অযথা পেটের বাড়তি মেদ নিয়ে সারা রাত চিন্তা করতে হবে না। কারণ কলা, নারকেল ও কোকো মিশ্রিত পানীয়টি রোজ পান করলে আপনি বাড়তি মেদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

এই পানীয়টি আপনাকে আকর্ষণীয় করবে কয়েক দিনের মধ্যেই। পরিষ্কার কলা, পরিমাণমতো নারকেল কুচি বা নারকেলের পানি, কোকো (কোকো চকোলেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) নিয়ে ব্লেন্ড করুন। তারপর গ্লাসে পরিবেশন করুন। দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগবে, এই পানীয়টি খেতেও লাগবে সুস্বাদু।

তরমুজের তৈরি পানীয়: 

পেটের মেদ কমানোর জন্য অনেকে কত কিছুই না করে। দৌড়-ঝাপ, ব্যায়াম। কিন্তু সবসময় চলমান না রাখার কারণে কার্যকরী সুফল পায় না অনেকে। তাই আজ আপনাদের জানাবো ঘরে বসে তৈরি করা যায় এমন একটি পানীয়ের কথা, যা খেলে আপনি বাড়তি মেদ থেকে মুক্তি পাবেন।

ঘরে বসে তরমুজের তৈরি একটি মজাদার পানীয় তৈরি করে পান করলে পেটের মেদ থেকে মুক্তি পাবেন। পরিমাণমতো তরমুজ কুচি, বরফ, হালকা পানি, প্রয়োজনমতো চিনি (যদি চান) ব্লেন্ড করে তৈরি করে ফেলুন মজাদার তরমুজেস জুস। এতদিন যারা জানতেন তরমুজ শুধু শরীরকে হাইড্রেট রাখে, আজ থেকে জানলেন আরো একটি নতুন উপকারিতার কথা।

জাম্বুরার শরবত: 

অনেক চেষ্টার পরও ওজন কমছে না? তাহলে পূর্বের সকল প্রচেষ্টা বাদ দিন। আজ থেকে রোজ সকালে জাম্বুরার শরবত খান। গবেষকদের মতে জাম্বুরার শরবত ওজন কমানো এবং পেটের মেদ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাম্বুরা খাদ্য হজমে কাজে লাগে এবং বিপাকে সহায়তা করে। রোজ সকালের নাস্তায় বা আপনার ডায়েট চার্টে জাম্বুরার শরবত রাখতে পারেন। এটি বাড়তি মেদ থেকে মুক্তি দেবে এবং আপনাকে করবে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

আনারসের ফ্রাপে: 

আনারস স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। আনারসের গুণাগুণের কথা আমরা সবাই জানি। আনারসে রয়েছে শর্করা বিপাকীয় এর উপাদান ব্রোমোলিন যা মেদ দূর করতে সহায়তা করে। উপরে আলোচিত প্রতিটি পানীয় আপনার জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ কাজ করতে পারে। আপনি চাইলে আজই তৈরি করতে পারেন যেকোনো একটি পানীয়।

ওজন কমাতে ৭ দিনের ডায়েট প্ল্যান:

১ম দিন: কলা ছাড়া যে কোনো ফল যত ইচ্ছা খান। সব ধরণের খাবার বাদ দিয়ে প্রথম দিন শুধু ফল খেতে হবে।

২য় দিন: দ্বিতীয় দিন খাবেন শাক সবজি। আলু ছাড়া যে কোনো শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খান। তবে তেল দিয়ে রান্না না করে সালাদ অথবা সেদ্ধ করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। তেল যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে অল্প পরিমাণে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

৩য় দিন: তৃতীয় দিন কলা খাবেন না। কলা ছাড়া যে কোনো ফল ও শাক সবজি ইচ্ছে তত খেতে পারেন। তবে অন্য কোনো খাবার খাওয়া যাবেনা।

৪র্থ দিন: চতুর্থ দিন হলো কলা খাওয়ার দিন। এই দিন আপনি ৮টি মাঝারি আকারের কলা ও তিন গ্লাস(২০০মিলি) দুধ খাবেন। তবে অন্য কিছু খাওয়া যাবে না।

৫ম দিন: পঞ্চম দিন মাংস খেতে পারবেন। অল্প পরিমাণে মুরগীর মাংস খান এবং ৬টি টমেটো খান।

৬ষ্ঠ দিন: ষষ্ঠ দিন ইচ্ছে মতো মুরগীর মাংস খান এবং আলু বাদে অন্যান্য শাকসবজি খান।

৭ম দিন: ডায়েটের শেষ দিন অর্থাৎ সপ্তম দিন বাদামি চাল, চর্বি ছাড়া মাংস, ফলের রস এবং সব রকমের শাক-সবজি গ্রহন করুন।

কিছু সাবধানতা:

১. মাসে একবারের বেশি এই ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা উচিত নয়।

২. অন্য কোনো অসুখ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে ডায়েট অনুসরণ করবেন না।

৩. ডায়েটের পাশাপাশি সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

ওজনের আধিক্যের ওপরে ভিত্তি করবে ওজন কমার বিষয়টি। যার ওজন অধিক, তার ক্ষেত্রে কমবেও অধিক। তবে কমপক্ষে ৩ পাউনড হতে ১০ পাউনড পর্যন্ত কমে থাকে।

তথ্যসূত্র:

  • স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন, 
  • ফার্মগেটের ম্যাক্সিমাম ফিটনেস জিমের প্রশিক্ষক মাহাবুবুর রহমান, 
  • বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ।
  • ইত্তেফাক।
  • একুশে টিভি।
  • প্রথম আলো।
  • Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.