ক্যান্সারের ২৪ টি লক্ষণ যা চোখ এড়িয়ে যায়!
ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আছে, যা মানুষ নিজের অজান্তেই এড়িয়ে যায়। অথচ রোগবালাই শুরুতে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। মানবদেহে এমন বিশেষ কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো সম্পর্কে আপনাকে আগে-ভাগেই সাবধান হতে হবে। সেজন্য সেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে অবশ্যই একটা ধারণা থাকতে হবে। আর সেসব লক্ষণ নিজের বা অন্য কারো মধ্যে দেখা মাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাই আজ জানাবো ক্যান্সারের কিছু লক্ষণের কথা, যেগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
-) অন্ত্রের অভ্যাসে ঘন ঘন পরিবর্তন: আপনার অন্ত্রের মধ্যে নড়াচড়া যদি সহজ না হয় এবং মল স্বাভাবিকের চেয়ে বড় কিংবা কোনোভাবে অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে তা মলাশয়ে ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। যদি অন্ত্রে ক্যান্সার হয় তাহলে পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়া, শ্লেষ্মা নিঃসরণ বা দূষিত স্রাব এবং হঠাৎ মলত্যাগের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তাই এক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
-) মূত্রথলির অভ্যাসে পরিবর্তন: যদি কারো মূত্র বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসে, তাহলে তা মূত্রথলি বা কিডনির ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। আবার মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও এটা হতে পারে। তাই সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
-) মল ও মূত্রত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: যদি ঘন ঘন মল-মূত্রের বেগ অনুভব করেন, তবে এখানে ক্যান্সার নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ঘন ঘন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও মলাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ। মূত্রত্যাগের সময় অন্ত্রে ব্যথা বা রক্তক্ষরণ মূত্রথলির ক্যান্সারের উপসর্গ।
-) ঘনঘন অপ্রত্যাশিত ব্যথা: অধিকাংশ ব্যথাই ক্যান্সারের লক্ষণ নয়, তবে ঘন ঘন ব্যথা হলে তা চিন্তার বিষয়৷ তবে ক্রমাগত মাথাব্যথা হলে আবার এটা ভাবার কারণ নেই যে, কারো বুঝি ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। কিন্তু বুকে ক্রমাগত এবং নিয়মিত ব্যথা ফুসফুসের ক্যান্সার কিংবা তলপেটে ক্রমাগত ব্যথা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। পেটে ব্যথা লেগেই রয়েছে এমন হলে ভাববেন না যে ‘সিস্ট’ হয়েছে৷ এই ব্যথা কিন্তু যে কোনও ধরণের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে৷
-) আঁচিল বা তিলের আকৃতিতে পরিবর্তন: সব আঁচিল বা তিলের সঙ্গে টিউমারের সম্পর্ক নেই। তবে কোনো আঁচিল বা তিলের রং বা আকৃতি ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই ভালো।
-) ক্ষতস্থান না শুকালে: আপনার শরীরে কোনো ক্ষত যদি তিন সপ্তাহেও না শুকায়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
-) অপ্রত্যাশিত রক্তপাত: মাসিকের সময় ছাড়া অন্য সময়ে যোনি থেকে রক্তপাত সার্ভিকাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। আর মলদ্বার থেকে রক্তপাতও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
মাড়ি, প্রস্রাব বা মল থেকে রক্তপাত হলে, এবং তার সঙ্গে জ্বর থাকলে তা ক্যানসারের লক্ষণ।
-) আকস্মিক ওজন হ্রাস: পাকস্থলীতে ক্যান্সার হলে আকস্মিক ওজন হ্রাস পায়। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য নানারকম চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি কোনোরকম চেষ্টা ছাড়াই কারো ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে, তাহলে সেটা বিপদের লক্ষণ। পাকস্থলী ক্যান্সার হলে মাংসের প্রতি অরুচি, স্বল্প খাবারেই তৃপ্তি, রক্তশুন্যতা এবং অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।
-) অপ্রত্যাশিত স্ফীতি বা কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: শরীরের কোথাও কোনো অপ্রত্যাশিত স্ফীতি বা কোনো ফোলা স্থানের আকার পরিবর্তন হতে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মেয়েদের স্তনের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ডের উপস্থিতিও কিন্তু ক্যানসারের লক্ষণ। শরীরের কোথাও আচমকা গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া লিম্ফেটিক সিস্টেম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়৷ এটা ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ হলেও হতে পারে৷ কোনো কোনো সময় ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটবে। এটি স্তন ক্যান্সারের একটি অজানা লক্ষণ। শক্ত গিঁটের মতো স্তন বা বগলের নিচে এই লক্ষণ দেখা দেয়। এতে প্রদাহ এবং আকার পরিবর্তন হয়। স্তনে কোনও লাম্প বা ব্যথাহীন ফোলা অংশ স্তন ক্যানসারের লক্ষণ।
শরীরের কোথাও কোন পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতিও ক্যান্সারের লক্ষণ।
-) ঘন ঘন গিলতে সমস্যা হলে: এটা দু’ধরনের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ঘাড় এবং ফুসফুসে/খাদ্যনালীর ক্যানসার। তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান৷
-) লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। ফলে জ্বর, সর্দি লেগেই থাকে৷ মাঝেমধ্যেই জ্বর, সর্দি চললে অবজ্ঞা না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
-) রেক্টাম (মলদ্বার) দিয়ে নিয়মিত রক্তপাত হলে: সাবধান হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটা কোলন ক্যান্সারের খুব সাধারণ লক্ষণ৷
-) ডায়েটিং বা শরীরচর্চা ছাড়াই অস্বাভাবিক হারে শরীরের ওজন কমে যাওয়াও কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে৷ কারণ এই রোগে খেতে ইচ্ছে করে না৷ ফলে ওজন কমতে থাকে৷
-) কোনও আঘাত পাননি অথচ শরীরে কালশিটে দাগ দেখা গেলে সেটা লিউকোমিয়া হতে পারে৷ মুখে, ঘাড়ে বা বুকে লাল রঙের দাগ হওয়াটাও ভাল লক্ষণ নয়৷ দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
-) কাশি ও ব্রঙ্কাইটিস- এ দুটো দীর্ঘ দিন না সারলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখান। এ দু’টোই ফুসফুসের ক্যান্সার ও লিউকোমিয়ার লক্ষণ হতে পারে৷ সাধারণ ব্রঙ্কাইটিস হলেও তো প্রচণ্ড কাশি ও বুকে ব্যথা হয়৷ ব্রঙ্কাইটিসের কাশি চিকিৎসার পরও ফিরে এলে, বা পুরোপুরি না সারলে, আর একটু দেখি বলে অবহেলা করবেন না৷
-) ত্বকে চুলকানি: মনে রাখবেন সব ধরনের ত্বকের চুলকানি টিউমার সংশ্লিষ্ট নয়। মূত্রাশয়ে ত্বকের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে জননাঙ্গে চুলকানি হতে পারে। আর ব্রেন ক্যান্সার হলে নাকের ছিদ্রপথে চুলকানি হতে পারে।
-) প্রস্রাব করার সময় তরল নিঃসরণ: প্রস্রাব করার সময় তরল নিঃসরণ হওয়া কিডনি ক্যান্সারের একটি লক্ষণ। যা প্রস্রাব করার সময় রক্তপড়ার মতো লক্ষণের মতো। তাছাড়া কিডনিতে হাইপারটেনশন ও ব্যাথা এবং দীর্ঘমেয়াদি দূর্বলতা থাকবে।
-) স্থায়ী স্বরভঙ্গ বা গলাব্যাথা ও গলদাহ: শ্বাসনালীর ক্যান্সার হলে স্থায়ী স্বরভঙ্গ বা গলাব্যাথা ও গলদাহ লক্ষণ দেখা দেয়। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। এছাড়া গলার পেশির স্ফীতি ঘটে গলায় একটি মাংসপিণ্ড জমে যাওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে।
-) ঘন ঘন জ্বর: এটা যে কোন রোগের উপসর্গ। ক্যান্সার শরীরে জেঁকে বসলে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এতে দেখা দেয় ঘন ঘন জ্বর । ঘন ঘন জ্বর ব্ল্যাড ক্যান্সারের লক্ষণ বুঝতে হবে।
-) খাবারে অনিচ্ছা: কেউ খাবার খেলে যদি নিয়মিত বদহজমে ভোগেন, তবে পেট, কণ্ঠনালী বা গলার ক্যান্সার নিয়ে চিন্তার কারণ আছে। অবশ্য সাধারণত এসব উপসর্গকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তবুও এ ধরনের অসুস্থতাকে অবহেলা করতে নেই।
লাগাতার পেটে অস্বস্তি ও গ্যাস হলে নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না। ওভারির ক্যানসারের কারণে এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একটানা পেটের গণ্ডগোল বা কোষ্ঠকাঠিন্য অন্ত্র, প্রস্টেট বা রেক্টাল ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে।
-) অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড: আপনি যদি শরীরের কোন অংশে অস্বাভাবিক কোন মাংসপিণ্ড দেখতে পান অথবা মাংস জমাট হতে দেখেন কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তবে এটা কিন্তু ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে। তাই দেরি না করে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের।
-) মেনোপজের (রজোবন্ধ/ঋতুজরা) পর পেটে ব্যথা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
এগুলো ছাড়া আরও রয়েছে পা ফুলে যাওয়া, শরীরের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইত্যাদি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারলে বেশিরভাগ ক্যান্সারেরই চিকিৎসা ও নিরাময় সম্ভব।
তথ্যসূত্র:
- ডয়চে ভেলে> কালের কণ্ঠ।
- আর/ডব্লিউএন> একুশে টিভি।
- এএইচ/ > একুশে টিভি।
- আনন্দবাজার।
- বোল্ড স্কাই।
- Edited: Natural_Healing.

কোন মন্তব্য নেই