Detox ওয়াটার তৈরীর পদ্ধতি এবং এর গুনাগুন:
detoxify বা বিষমুক্ত করা। তেল–চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে শরীরের হাল হচ্ছে বেহাল। সে জন্য দরকার শরীর থেকে বাড়তি টক্সিন বা দূষিত উপাদান বের করে দেওয়া। সেই কাজ ভালোভাবে করবে ডিটক্স পানি।
ডায়েট আর ফিটনেস নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, তারা ভালোমতোই জানেন যে এই মুহূর্তে গোটা বিশ্ব জুড়ে যে জাদু পানীয়টি নিয়ে দারুণ মাতামাতি হচ্ছে, তার নাম ‘ডিটক্স ওয়াটার’।
| ডিটক্স ওয়াটারের নেই কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। শরীর থেকে বাড়তি টক্সিন বা দূষিত উপাদান বের করে দেয় ডিটক্স ওয়াটার। |
Advantage of Detox Water:
- ডিটক্স ওয়াটার সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এটি খুব সহজে বানানো এক ধরনের পানীয়, যা শরীরের দূষিত পদার্থ বের করতে এবং শরীরের মেদ দূর করে ওজন কমিয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তা হজমের সমস্যা, দুর্বলতা, ফোলা, বমির ভাব দূর করা, মুড ঠিক রাখা, ত্বকের সমস্যা দূর করাসহ নানা কাজে বেশ উপকারী পানীয়। এটি দেহের শক্তি বাড়াতে, লিভার পরিষ্কার করতে, ওজন কমাতে, প্রদাহ কমাতে ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ উপকারী।
- আমাদের শরীরের ভেতরে থাকা যত সব দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার জন্যই ডিটক্স পানির ব্যবহার। চাইলে বাড়িতেই নানা রকম ডিটক্স পানি বানিয়ে নেওয়া যায়।
- বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, আধা লিটার ডিটক্স ওয়াটার খুব অল্প সময়ের জন্য শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ ডিটক্স ওয়াটার পরোক্ষভাবে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। শরীরে পানি, লবণ ও পিএইচের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, হজমক্ষমতা বাড়ায়। অল্পতেই ক্লান্তি আসে না, মনও ভালো থাকে। তবে এটি সরাসরি কোনো কাজ করে না, বরং নানাভাবে সাহায্য করে।
- সুষম খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত পানিও একটি উপাদান। কেউ কেউ শুধু পানি খুব একটা পান করতে পারেন না। এর পরিবর্তে হয়তো কার্বোনেটেড ড্রিংকস কিংবা ফলের রস পান করেন। এভাবে পানি তো শরীরে ঢুকছে, কিন্তু পানির সঙ্গে ঢুকছে প্রচুর ক্যালরি। প্রতিনিয়ত এভাবে এতটা শর্করা গ্রহণ করা কারও জন্যই স্বাস্থ্যকর নয়। এর চেয়ে ডিটক্স ওয়াটার ভালো। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ভয় থাকে না। পর্যাপ্ত পানি পান করার ফলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হবে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল জানালেন, ভাত বা ভারী যে কোনো খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে আধা গ্লাস বা এক গ্লাস পানি পান করলে খাবারের পরিমাণ আপনা-আপনিই কমে আসে। এ অভ্যাস তৈরি করলে তা একসময় ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।
- ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ডায়েটিংয়ের পাশাপাশি ম্যাজিক দেখাতে পারে ‘ডিটক্স ওয়াটার’। ওজন কমানো ছাড়াও ডিটক্স ওয়াটার আপনার ত্বক হয়ে উঠবে ঝলমলে, ঢেকে যাবে বলিরেখা, পেট ফাঁপবে না, অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন, কমে যাবে হজমের সমস্যা।
- পরিপূর্ণ ডায়েটের অংশ হিসেবে ডিটক্স ওয়াটার বেশ উপকারী। যেমন—
- ♦ এই পানীয় শরীরের দূষিত পদার্থ বা টক্সিন দ্রুত বের করতে সহায়তা করে।
- ♦ শরীরের ফ্যাট সেলগুলো নিষ্কাশন করে।
- ♦ খাবার হজমে সহায়তা করে ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ভালো রাখে।
- ♦ ব্যায়ামের ফলে তৈরি হওয়া শারীরিক অবসাদ দূর করে।
- ♦ নিয়মিত খেলে এক মাসের মধ্যেই ওজন কমায়।
- ♦ ত্বক সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
- ♦ নিজেকে খুব এনার্জিটিক আর ফ্রেশ লাগে।
- ♦ এই পানি পানের ফলে জাংকফুড খাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ফলের স্বাদ থাকার কারণে সুগার ক্রেভিং বা মিষ্টি খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দেয়।
শরীর থেকে সব দূষিত উপাদান বের করতে ডিটক্স পানির বিকল্প নেই।
দেখে নিন কয়েকটি মজার ডিটক্স ওয়াটার তৈরির পদ্ধতি:
ডিটক্স ওয়াটার তৈরি তেমন জটিল কিছু নয়, মৌসুমি ফলের কয়েকটি টুকরো ফেলে দিন কাচের জগ বা বোতলে, বোতলটা পুরো ভর্তি করে নিন পানি দিয়ে। ইচ্ছে হলে এর মধ্যে কিছু পুদিনা পাতাও ফেলে দিতে পারেন। পানিটা এবার ফ্রিজে রেখে দিন। সারারাত থাকলে ফলের ফ্লেভারটা পানিতে মিশে যাবে। তারপর পানিটা ছেঁকে পান করতে পারেন, ফলসমেত খেলেও কোনও সমস্যা নেই৷ ২-৩ দিনের মধ্যে এই পানিটা পুরো খেয়ে শেষ করে ফেলতে হবে।
পছন্দের যে কোনো ফল দিয়েই তৈরি করতে পারেন ডিটক্স ওয়াটার। কমলালেবু, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, পাতিলেবু, আনারস, তরমুজ, আদা, পুদিনা, আপেল, কিউয়ি, আঙুর, শসা—যা ইচ্ছে ব্যবহার করতে পারেন, কোনও অসুবিধে নেই। তবে ফলের খোসা ছাড়ানো হয় না ডিটক্স ওয়াটার তৈরির সময়ে, তাই ব্যবহারের আগে অতি অবশ্যই খুব ভালো করে ধুয়ে নেবেন।
তবে বিশেষজ্ঞের মতে, ডিটক্স করার পদ্ধতি আমাদের মাঝেমধ্যে বদলানো দরকার। দীর্ঘ সময় আমরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করব না। এক রকম ডিটক্স পানি ১৫ দিন পান করে অন্যটা পান করতে পারেন। তাহলে শরীর সব ধরনের উপকার পাবে। তবে ডিটক্স পানি পানের ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ, দেখতে হবে শরীর কোনটি কীভাবে নিতে পারছে। গ্যাসের সমস্যা না থাকলে সকালে গরম পানিতে লেবু ও মধু যোগ করতে পারেন। এর আধা ঘণ্টা পর সকালের নাশতা করলেন। ঈদের সময় প্রচুর মাংস খাওয়া হয়। এ সময় ২ টেবিল চামচ টক দই নিয়ে তাতে পানি, জিরা, গোলমরিচ, লবণ দিয়ে ব্লেন্ড করে খেতে পারেন।
দেখা যায়, অনেকে একবারে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করেন সারা দিন। এই রূপবিশেষজ্ঞের মতে, তেমন করা মোটেও ঠিক নয়। সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত। তবে রাতে কিছুটা কম পান করাই ভালো, তা না হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ডিটক্স পানি সকালে একটি কাচের জগে রেখে দিতে পারেন। পরে সারা দিন পান করে সন্ধ্যার দিকে বাকিগুলো ফেলে দিতে হবে। না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। সারা দিনে পান করতে পারেন যতটা ইচ্ছা। গোসল থেকে বের হয়ে এসেও এক গ্লাস পানি পান করুন।
সবশেষে এই সময়ে শরীর ঠিক রাখার জন্য তিনি ভাত খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে পানি পানের পরামর্শ দেন। এরপর খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর পানি পান করবেন। খাবারের মাঝে পানি পানে হজমে সমস্যা হয়। আর ডিটক্স করার জন্য ঠান্ডা পানি নয়, ঘরের তাপমাত্রায় আছে এমন পানি নেওয়াই ভালো বলেন শামসুন্নাহার নাহিদ।
পাতলা পাতলা করে একটি আপেল কেটে নিন। সেই সঙ্গে নিন দেড় ইঞ্চি লম্বামাপের দারচিনির টুকরো। আপনার যদি চড়া ফ্লেভার পছন্দ হয়, তা হলে পুরোটা আপেল আর দারচিনি পানিতে দিন৷ ৫০০ মিলি পানিতে ৩-৪ টুকরো আপেল আর এক টুকরো দারচিনি দিলে হালকা একটা ফ্লেভার পাবেন।
২. পাতিলেবু, আদা, পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
এক বোতল পানিতে অর্ধেকটা পাতিলেবুর রস চিপে দিন। সেই সঙ্গে আদা আর পাতিলেবুর পাতলা স্লাইস যোগ করুন। খেয়াল করে ব্যবহার করুন তাজা আদা। কিছু পুদিনা পাতাও যোগ করে দিতে পারেন৷ সকালবেলা খালি পেটে এই পানি খেলেও খুব ভালো ফল পাবেন, আপনার হজম সংক্রান্ত সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করবে এই ডিটক্স ওয়াটার।
৩. কমলালেবু আর ব্লুবেরি ডিটক্স ওয়াটার:
তাজা ব্লুবেরি না পেলে কালো আঙুরও ব্যবহার করতে পারেন৷ এক লিটার পানির জন্য দু’টি কমলালেবু পাতলা স্লাইস করে কেটে নিন। কমলার কোয়াও ব্যবহার করা যায়। সেই সঙ্গে দিন এক কাপ ব্লুবেরি বা আঙুর।
৪. কমলালেবু, বাতাবিলেবু ডিটক্স ওয়াটার:
দু’টি কমলালেবু কেটে নিন বড়ো বড়ো টুকরো করে অর্ধেকটা বাতাবি কেটে নিন। তার পর এক লিটার পানির মধ্যে ফেলে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন। বাতাবিলেবু টক হলে এমনি খাওয়া যায় না সাধারণত। পানির মধ্যে দিয়ে খেলে টকভাব চলে যাবে, পুষ্টিগুণটাও পাবেন।
৫. শসা, পাতিলেবু আর পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
একটা শসা কেটে নিন, আগে চেখে দেখে নেবেন শসাটা তেতো কিনা। সঙ্গে দিন পাতিলেবুর স্লাইস আর পুদিনা৷ ঠান্ডা করে পান করুন, দারুণ ফ্রেশ লাগবে।
৬. তরমুজ, কিউয়ি, স্ট্রবেরি ডিটক্স ওয়াটার:
এক কাপ তরমুজের টুকরো, গোটা তিনেক মাঝারি আকারের স্ট্রবেরি, একটা কিউয়ি টুকরো করে কেটে নিন। সামান্য থেঁতলে ফেলে দিন এক লিটার পানির মধ্যে৷ সঙ্গে পুদিনা বা পাতিলেবুও দিতে পারেন ইচ্ছে করলে।
৭. আদা, লেবু, পুদিনাপাতা ও শসার ডিটক্স ওয়াটার:
হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বললেন, এক জগ পানিতে আদা, লেবু, পুদিনাপাতা ও শসা রেখে দিতে পারেন। সেখান থেকে ছেঁকে পানি খেতে পারেন। জিরাপানি ভালো ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে শরীর ডিটক্স হয়। শুধু পানিতেও ডিটক্সের কাজ হয়। সে জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুই গ্লাস উষ্ণ গরম পানি পান করতে পারেন। উষ্ণ পানি পানের কোনো অসুবিধা নেই।
৮. মৌসুমী ফল:
বড় মুখের একটি জার বা কাচের বোতল ৫০০ মিলি পানি দিয়ে ভর্তি করে তাতে বিভিন্ন রসালো ফল যেমন—আঙুর, আপেল, তরমুজ, স্লাইস করা কমলালেবু, শসা (ছোট ছোট স্লাইস, কিন্তু খোসা ছাড়ানো নয়) ইত্যাদি কুচি করে এর মধ্যে রাখুন। এরপর জারটি ফ্রিজে রেখে দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য। এটা তৈরি হতে খুব বেশি হলে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। রাতে ঘুমানোর আগে মিশ্রণটা ফ্রিজে রেখে দিলে সকালেই তৈরি হয়ে যাবে ডিটক্স। যদি কালো জামের মতো ফল দেওয়া হয়, তাহলে চামচ দিয়ে সামান্য ক্রাশ করে দিলে ভালো। এতে আঁশ ও ফলের রস দুটিই পানিতে মিশতে পারে। সুগন্ধির জন্য এর মধ্যে পুদিনাপাতাও দেওয়া যেতে পারে। তবে কী ফল দিতে হবে, সেটা নির্ভর করে কারো রুচি আর পছন্দের ওপর। তবে সিজনাল ফল দিলে বেশি উপকারিতা মেলে। একবার বানিয়ে রাখলে দু-তিন দিন অনায়াসে তা খাওয়া যায়। ইচ্ছা করলে দুই দিনের জন্য বানিয়ে ফ্রিজে রেখেও দেওয়া যেতে পারে। সব সময় বহন করাও যায়।
| ডিটক্স ওয়াটার পানে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ভয় থাকে না। ডিটক্স ওয়াটার বিপাক ক্রিয়ার হার ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। |
গোটা ফলের কিন্তু কোনও বিকল্প নেই:
আমরা তো আর ফল শুধু স্বাদের জন্য খাই না, তাই মিনারেল, ভিটামিন, ফাইবারও আমাদের শরীরের নানা কাজে লাগে। তাই ডিটক্স ওয়াটারের বোতল নিয়ে ঘুরছেন বলে খাদ্যতালিকা থেকে তাজা গোটা ফল একেবারে ছেঁটে ফেলবেন না। গোটা ফল চিবিয়ে খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। তবে ফলের রস বা নরম পানীয়ের চেয়ে ডিটক্স ওয়াটার নিশ্চিতভাবেই অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
ডিটক্স ওয়াটারের যেমন অজস্র গুণ আছে, তেমন কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখাও দরকার৷ প্রতিদিন মোটামুটি লিটার পাঁচেক পানিই আপনার শরীরের জন্য যথেষ্ট৷ তার চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি খেলে কিন্তু কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে৷ তাছাড়া বাড়তি পানির সঙ্গে আপনার শরীরের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় সোডিয়ামও বেরিয়ে যাবে, ফলে খুব ক্লান্ত লাগবে৷ পানি কম খেলে যেমন মাসলে ক্র্যাম্প ধরে, অতিরিক্ত পানির কারণেও ঠিক সেটাই হতে পারে৷ তাছাড়া কিডনি কমজোরি হয়ে যাওয়ার ফলে শরীরে বাড়তি পানি জমে গেলেও অনেক সমস্যা দেখা দেবে, তাই যা করবেন ভেবে-চিন্তে করাই ভালো৷ দরকারে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন৷
বিশেষজ্ঞের মতে, ডিটক্স করার পদ্ধতি আমাদের মাঝেমধ্যে বদলানো দরকার। দীর্ঘ সময় আমরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করব না। এক রকম ডিটক্স পানি ১৫ দিন পান করে অন্যটা পান করতে পারেন। তাহলে শরীর সব ধরনের উপকার পাবে। তবে ডিটক্স পানি পানের ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ, দেখতে হবে শরীর কোনটি কীভাবে নিতে পারছে। গ্যাসের সমস্যা না থাকলে সকালে গরম পানিতে লেবু ও মধু যোগ করতে পারেন। এর আধা ঘণ্টা পর সকালের নাশতা করলেন। ঈদের সময় প্রচুর মাংস খাওয়া হয়। এ সময় ২ টেবিল চামচ টক দই নিয়ে তাতে পানি, জিরা, গোলমরিচ, লবণ দিয়ে ব্লেন্ড করে খেতে পারেন।
দেখা যায়, অনেকে একবারে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করেন সারা দিন। এই রূপবিশেষজ্ঞের মতে, তেমন করা মোটেও ঠিক নয়। সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত। তবে রাতে কিছুটা কম পান করাই ভালো, তা না হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ডিটক্স পানি সকালে একটি কাচের জগে রেখে দিতে পারেন। পরে সারা দিন পান করে সন্ধ্যার দিকে বাকিগুলো ফেলে দিতে হবে। না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। সারা দিনে পান করতে পারেন যতটা ইচ্ছা। গোসল থেকে বের হয়ে এসেও এক গ্লাস পানি পান করুন।
সবশেষে এই সময়ে শরীর ঠিক রাখার জন্য তিনি ভাত খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে পানি পানের পরামর্শ দেন। এরপর খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর পানি পান করবেন। খাবারের মাঝে পানি পানে হজমে সমস্যা হয়। আর ডিটক্স করার জন্য ঠান্ডা পানি নয়, ঘরের তাপমাত্রায় আছে এমন পানি নেওয়াই ভালো।
সাধারণত খাবারের আগে বা খালি পেটে ডিটক্স পানীয় পান করা ভালো। দিনে এক লিটারের মতো এই পানীয় পান করা যেতে পারে।
তথ্যসূত্র:
- হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ,
- বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান শামসুন্নাহার নাহিদ,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল,
- প্রথম আলো।
- সময় টিভি।
- উম্মে সালমা তামান্না, পুষ্টিবিদ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, বাড্ডা, ঢাকা, কালের কন্ঠ।
- Edited: Natural Healing.
কোন মন্তব্য নেই