First Aid Present

Lifestyle Modification এবং প্রাকৃতিক খাদ্য, পানীয়, শাকসবজি, গাছ, ডালপালা, ফল, মসলা, পাতা ও ফুল ইত্যাদির দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা ও পানির সমন্বয়তা

বন্যা কি?

বন্যা প্রচুর বৃষ্টিপাত অথবা নদনদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভূভাগের প্লাবিত হয়ে পড়া। সাধারণত ভারি বৃষ্টিপাত, বরফ অথবা তুষার গলা পানি অথবা এদের মিলিত পানি নদীপ্রণালীর ধারণ ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে বন্যা সংঘটিত হয়। প্রতি বছর মৌসুমি ঋতুতে বাংলাদেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূ-ভাগ বন্যা প্লাবিত হয়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-কাঠামো, ভূ-প্রকৃতি এবং ভূমিরূপ বন্যা সংঘটনের জন্য দায়ী। মে মাস থেকেই এদেশে সাধারণত বন্যা শুরু হয়ে থাকে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা স্থায়ী হতে পারে। বিগত পঞ্চাশ বছরে সংঘটিত বন্যাগুলির মধ্যে পাঁচটি বন্যা ছিল ব্যাপক বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক। এগুলি হচ্ছে ১৯৫৫, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের বন্যা।

বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চার ধরনের বন্যা হয়। এগুলো হচ্ছে-

ক) মৌসুমি বন্যা (monsoon flood) - এই বন্যা ঋতুগত, নদনদীর পানি ধীরে ধীরে উঠানামা করে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে; খ) আকস্মিক বন্যা (flash flood) - আকস্মিক পাহাড়ি ঢল অথবা স্বল্প সময়ে সংঘটিত প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে কিংবা প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট বাঁধ ভেঙে সংঘটিত হয়; এই বন্যার পানি দ্রুত বাড়ে এবং দ্রুতই আবার কমেও যায়। একই সাথে পানি প্রবাহের গতিবেগ বেশি হয় এবং বন্যা হয় স্বল্প মেয়াদী।  গ) জোয়ারসৃষ্ট বন্যা: সংক্ষিপ্ত স্থিতিকাল বিশিষ্ট এই বন্যার উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে এবং ভূভাগের নিষ্কাশন প্রণালীকে আবদ্ধ করে ফেলে। সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে ঝড়-সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের উচ্চতা জনিত বন্যা। ঘ) অপ্রতুল নিষ্কাশন ব্যবস্থা জনিত বন্যা । এধরনের বন্যা সাধারণত পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে মাঝারি বা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পানি জমে কোন কোন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যার পানি খুব ধীরে কমে এবং বন্যা দীর্ঘ মেয়াদী হয়।

বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় একাধিক কারণে বন্যা হতে পারে।

বন্যার সময় শিশু, বৃদ্ধ এবং গবাদি পশুদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে সুতরাং তাদেরকে নিয়ে সচেতন থাকুন।
বন্যা সংঘটিত হওয়ার কারণ:

পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরা, শিলং মালভূমির পাদদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর বরাবর বিস্তৃত অঞ্চলে এই বদ্বীপের অবস্থান। মূলত হিমালয়ের উচ্চভূমি থেকে আগত নদীধারা কর্তৃক বাহিত পলিমাটি দ্বারা বঙ্গীয় বদ্বীপের সৃষ্টি। ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের অংশবিশেষের প্রধান নদীগুলো বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কারণ এটাই এই এলাকার সবচেয়ে নিচু অঞ্চল।

বাংলাদেশের প্রধান তিন নদীর গতিপথ- প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশের তিনটি প্রধান নদীপথে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আর্দ্র মৌসুমে ৮ লাখ ৪৪ হাজার মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়। একই সময় দেশের অভ্যন্তরে ১ লাখ ৮৭ হাজার মিলিয়ন কিউবিক মিটার নদী প্রবাহ সৃষ্টি হয় বৃষ্টিজনিত কারণে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সম্মিলিত পানির প্রবাহ লোয়ার মেঘনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে। কোনো বছর চীন,ভারত, ভুটান ও নেপালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে তা এ অঞ্চলের নদীগুলোর নির্গমন ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যায়। ফলে পুরা অঞ্চলটিতেই বন্যা দেখা দেয়।

১. নিম্ন উচ্চতাবিশিষ্ট ভূসংস্থানের কারণে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদীগুলো তাদের শাখা-প্রশাখা এবং উপনদীর সমন্বয়ে ঘন বিন্যস্ত নিষ্কাশন/প্রবাহ জালিকা গড়ে তুলেছে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির প্রবাহ পৌঁছে দেয়।

২. উজানের দেশগুলিতে, নদনদীর উজান এলাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়।

৩. হিমালয় পর্বতে তুষার গলন এবং প্রাকৃতিকভাবে হিমবাহের স্থানান্তর ঘটে।

৪. পলি সঞ্চয়ন ও নদী ভাঙনের ফলে নদনদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া।

৫. নদীর পার্শ্বদেশ দখল হয়ে যাওয়া।

৬. প্রধান প্রধান নদীসমূহে একসঙ্গে পানি বৃদ্ধি ঘটে এবং নিষ্ক্রমণ সীমা অতিক্রম করে।

৭. জোয়ারভাটা ও বায়ুপ্রবাহের বিপরীতমুখী ক্রিয়ার ফলে নদনদীর সমুদ্রমুখী প্রবাহের গতির মন্থরতা (ব্যাক ওয়াটার ইফেক্ট) ঘটে।

৮. বিদ্যমান রেলপথ, সড়ক, মহাসড়ক পানি নির্গমন বাধার সৃষ্টি করে।

চিহ্নিত কারণগুলোর দুটি (৫ ও ৮ নম্বর) বাদে বাকিগুলো প্রাকৃতিক, শক্তিশালী এবং নিয়ামক (রেগুলেটিভ) কারণ। এগুলো পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। ৮ নম্বর কারণটি দূর করার চিন্তা করে লাভ নাই। বরং এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে এগোতে হবে। যে প্রয়োজন মেটাতে সড়ক, মহাসড়ক এবং রেলপথের পরিমাণ ও উচ্চতা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকবে। বাকি থাকে ৫ নম্বর কারণটি। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী দখলমুক্ত হওয়ার পরিবর্তে দেশের নদ-নদী খাল বিল বরং ক্রমবর্ধমান হারে মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। 

আরো জানতে...

জলোচ্ছ্বাস এবং সুনামি র মত বন্যা এক ধরনের সমস্যা সুতরাং এগুলো থেকে কিভাবে তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষা পাবেন?

বন্যা সংঘটিত হওয়ার আর‌ও কারণগুলো হচ্ছে;

১) সাধারণভাবে নিম্ন উচ্চতাবিশিষ্ট ভূসংস্থান যার উপর দিয়ে প্রধান প্রধান নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদীগুলি তাদের শাখা-প্রশাখা এবং উপনদীর সমন্বয়ে ঘন বিন্যস্ত নিষ্কাশন জালিকা গড়ে তুলেছে; ২) দেশের বাইরে নদনদীর উজান এলাকায় এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাত; ৩) হিমালয় পর্বতে তুষার গলন এবং প্রাকৃতিকভাবে হিমবাহের স্থানান্তর সংঘটন; ৪) পলি সঞ্চয়নের ফলে নদনদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া/নদীর পার্শ্বদেশ দখল হয়ে যাওয়া/ভূমিধ্বস সংঘটন; ৫) প্রধান প্রধান নদীসমূহে একসঙ্গে পানি বৃদ্ধি এবং এক নদীর ওপর অন্য নদীর প্রভাব বিস্তার করা; ৬) প্রকৃতির ওপর মানবীয় হস্তক্ষেপ; ৭) জোয়ারভাটা এবং বায়ুপ্রবাহের বিপরীতমুখী ক্রিয়ার ফলে নদনদীর সমুদ্রমুখী প্রবাহ ধীরগতি প্রাপ্ত হওয়া (back water effect); ৮) সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া; ৯) ভূ-গাঠনিক বিশৃঙ্খলা (ভূমিকম্প, নদীর প্রবাহ ও ভূরূপতত্ত্বে পরিবর্তন); ১০) সম্ভাব্য গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।


বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কিভাবে কমিয়ে আনা যাবে?

  • সামাজিক অভিযোজনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার চিন্তা করা যেতে পারে। পদক্ষেপগুলো হলো—
  • জনগণ যাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে বন্যার পানির উচ্চতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সময় পূর্বে জনগণের কাছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে জোরদার করা।
  • নদনদীর উপচে পড়া পানি হ্রাসের লক্ষ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা সাধন। এ উদ্দেশ্যে বনায়ন এবং পুনর্বনায়নের সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ ও তার যথাযথ সংরক্ষণ করা যাতে পরিশোষণ প্রক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্যার পানির উচ্চতা হ্রাস ঘটতে পারে।
  • ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন ও বিল্ডিং কোডের যথাযথ প্রয়োগ, শস্য উৎপাদন বহুমুখীকরণ তথা, বন্যা প্রতিরোধী বা বন্যা সহনক্ষম শস্য চিহ্নিতকরণ ও রোপণ করা এবং শস্য রোপণ মৌসুমের অভিযোজন।
  • প্লাবন ভূমিসমূহকে বিভিন্ন জোনে বিভক্ত করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভূমি ব্যবহার জোন তৈরি করা।
আরো জানতে ক্লিক করুন..
বন্যা যে ক্ষতিকর শুধু তাই নয় বরং উপকারিতাও আছে?
বাঁধ নির্মাণ কিভাবে বন্যাকে ঠেকিয়ে দেয়?

পানির সঠিক হিস্য এখনও আদায় হয়নি:

কৃষিজ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি জিনিস হলো পানি। গঙ্গা ও তিস্তা থেকে ভারত পানি প্রত্যাহার করায় শুষ্ক মৌসুমে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল খরার কবলে পড়ে। শস্য উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন হয় না।

এ সমস্যার প্রথম সমাধান হলো ভারতের কাছে অভিন্ন নদীর যৌক্তিক পানি প্রবাহ আদায় করা। সেটা এখনো সম্ভব হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে হবে সেরকম কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশে পানি প্রবাহের সবচেয়ে বড় উৎস ব্রহ্মপুত্র নদ। চীন সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে জল বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করেছে। ওপরের জলাধারের কিছু পানি তারা সেচ কাজের জন্য প্রত্যাহার করবে এ রকম শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে পানির সমস্যা আরও বাড়বে। সবগুলো অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এমনকি স্বাভাবিক প্রবাহ পাওয়া গেলেই খরা সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন নয়। অতীতে নদীগুলোতে যখন বাঁধ ছিল না তখনো এই ভূখণ্ডে খরায় ফসলহানি এবং তা থেকে মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষের অনেক উদাহরণ আছে। শুষ্ক মৌসুমে ফসল উৎপাদনের জন্য ষাটের দশকে সমন্বিত সেচ প্রকল্প গ্রহণের পর থেকেই মূলত অবস্থার ক্রমোন্নতি ঘটতে শুরু করেছে।

আসলেই কি পানির অভাবে বাংলাদেশ মরুভূমি হচ্ছে:

আমরা প্রায়ই হা পিত্যেশ করি এই বলে যে পানির অভাবে বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা সেরকম নয়। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মিঠা পানির প্রাপ্যতার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীতে এক নম্বর। ব্রাজিলের রিজার্ভ ৪ হাজার ২৩৩ কিউবিক কিলোমিটার যা পৃথিবীতে সর্বাধিক। আমাদের রিজার্ভ ১ হাজার ২২৩ কিউবিক কিলোমিটার। ব্রাজিলের আয়তন বাংলাদেশের ৫৮ গুন। সেই হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলের চেয়ে আমাদের পানির প্রাপ্যতা ৬.৭ গুন বেশি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর রিজার্ভ ভারত ১ হাজার ৯১১ কিউবিক কিলোমিটার, চীন ২ হাজার ৮৪০ কিউবিক কিলোমিটার, পাকিস্তান ২৪৬ কিউবিক কিলোমিটার। রাশিয়ার আয়তন বাংলাদেশের ১১৫ গুন। তাদের রিজার্ভ ৪ হাজার ৫০৮ কিউবিক কিলোমিটার। বাংলাদেশের মাত্র সাড়ে তিন গুন। ২৮ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রিজার্ভ ২ হাজার ৫৭ কিউবিক কিলোমিটার। বাংলাদেশের দ্বিগুণের কম। অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ৪৯২ কিউবিক কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্ধেকেরও কম। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে আমরা আসলে পানিতে ডুবে আছি, যদিও বছরের চার মাস দেশের একটা বড় অংশ পানি শূন্যতায় থাকে।

এবার দেখা যাক বন্যা এবং খরা সমস্যার যুগপৎ সমাধান কীভাবে হতে পারে:

সারা পৃথিবীর পরিবেশবাদীরা বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ, নিয়ন্ত্রণ বা বিচ্যুত করার বিপক্ষে। প্রকৃতিকে যত স্বাধীন থাকতে দেওয়া যাবে তার কাছে তত বেশি ভালো ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই তত্ত্বের চর্চা করার অবস্থায় আমরা নাই। জনপদ রক্ষায় যে বাঁধগুলো নির্মাণ করা হয়ে গেছে সেগুলো ধরে রাখতে হবে এবং এমনভাবে পুনর্নির্মাণ করতে হবে যে বড় বন্যায়ও যেন সেগুলো ধ্বংস না হয়। নতুন বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ যত বেশি বাঁধ নির্মাণ করা হবে পানি সাগরের দিকে প্রবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে তত বেশি বাধার মুখে পরবে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করবে। গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট), ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্প, উত্তরাঞ্চলে নলকূপ প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্পগুলো চালু রাখার পাশাপাশি বন্যা প্রবণ এলাকার প্রত্যেক জনপদে উঁচু পাড়সহ একটা করে জলাধার খনন করতে হবে। বন্যার পানি জলাধারে ঢোকার পর স্লুইসগেট বন্ধ করে দিয়ে পানি ধরে রাখা হবে। জলাধার খননের সময় যে মাটি পাওয়া যাবে তা দিয়ে নিকটতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ উঁচু করে বন্যার পানির উচ্চতার ওপরে নিয়ে যেতে হবে। বন্যার সময় জনগণ তাদের বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে যাতে সেই মাঠে আশ্রয় নিতে পারে। এভাবে জীবন ও সম্পদহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে। জলাধারে মাছ চাষ ও হাঁস পালন করা যাবে। শুষ্ক মৌসুমে এই জলাধারের পানি দিয়ে এলাকার সেচের চাহিদা পূরণ হবে। এভাবে বাংলাদেশে বন্যা এবং খরা থেকে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে; তবে নির্মূল করা যাবে না। এটা আমাদের ভৌগোলিক বাস্তবতা। এটা না মেনে ক্রমাগত কল্পনাবিলাসী পরিকল্পনা গ্রহণ করে যেতে থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার সম্ভাবনা থাকবে।

বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সদস্য সচিব, গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, 

বর্ষাকালে পানির ঢল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমির ব্যবহার পরিকল্পিত হওয়াটা জরুরি। তার মতে, মানুষের ঘরবাড়ি বন্যা লেভেলের উপরে রাখতে হবে। গ্রামগুলোকেও উঁচু করতে হবে। মানুষের বসতি কোথায় কোথায় হবে, পুকুর কোথায় কাটা যাবে, হাওরের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে কিনা, এসব বিষয়ে যথাযথ পরিকল্পনা থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে যেখানে সেখানে আবাসন নির্মাণ এবং পুকুর কাটার কারণে পানি জমে থেকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দেয়। "কোন জমিতে কী কী ফসল হবে, কোনটা উঁচু জমি, কোনটা নিচু জমি, কোথায় বাড়ি করা যাবে তা নির্ধারণ করতে হবে," বলেন মি. ওয়ারা।

এধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তথ্যসূত্র:

  • সদস্য সচিব, গওহর নঈম ওয়ারা, বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বিবিসি বাংলা।
  • হাসান গোর্কি, রয়্যাল রোডস ইউনিভার্সিটি, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা, প্রথম আলো।
  • বাংলাপিডিয়।
  • clickinfobd
  • Edited: Natural Healing.

কোন মন্তব্য নেই

Popular Post

Blogger দ্বারা পরিচালিত.